ইউনিফর্মের বাইরে ২৬ লক্ষ প্রাক্তন সেনার লড়াই, কোথায় আটকে কল্যাণ ব্যবস্থা - 24 Ghanta Bangla News
Home

ইউনিফর্মের বাইরে ২৬ লক্ষ প্রাক্তন সেনার লড়াই, কোথায় আটকে কল্যাণ ব্যবস্থা

Spread the love

কলকাতা: একজন সেনাকর্মী যখন ইউনিফর্মের দায়িত্ব থেকে অবসর নেন, তখন তাঁর বয়স অনেক সময় ৩৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে থাকে। এরপর শুরু হয় বেসামরিক জীবনের (Ex Serviceme)  নতুন অধ্যায়। ভারতে প্রতি বছর ৬০,০০০-এর বেশি সেনাকর্মী অবসর নেন। তাঁদের পাশাপাশি প্রায় ২৬ লক্ষ প্রাক্তন সেনা, যুদ্ধবিধবা এবং যোগ্য নির্ভরশীলদের পেনশন, পুনর্বাসন ও স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতায় রাখার দায়িত্ব রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন প্রাক্তন সেনা কল্যাণ দফতর বা ডিইএসডব্লিউ-এর।

২০০৪ সালে তৈরি হওয়ার পর গত দুই দশকে এই ব্যবস্থার পরিকাঠামো যথেষ্ট বিস্তৃত হয়েছে। ডিজিটাল পরিষেবা বেড়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় কল্যাণমূলক পরিষেবা পৌঁছেছে। কিন্তু বাস্তবে পরিষেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতা সব জায়গায় একরকম নয়। অর্থ বরাদ্দে দেরি, মামলা, কর্মীর ঘাটতি, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের সমস্যা এবং স্থানীয় স্তরে সহায়তার অভাবের কারণে অনেক সময় প্রাক্তন সেনাদের প্রাপ্য সুবিধা পেতে দীর্ঘ প্রশাসনিক লড়াই করতে হয়।

দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় কল্যাণ নেটওয়ার্ক

ডিইএসডব্লিউ-এর অধীনে পেনশন ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যবস্থা কাজ করে। কেন্দ্রীয় সৈনিক বোর্ড সচিবালয় সশস্ত্র বাহিনী পতাকা দিবস তহবিল এবং রক্ষা মন্ত্রী প্রাক্তন সেনা কল্যাণ তহবিল পরিচালনা করে। শিক্ষা, বিয়ে এবং জরুরি চিকিৎসার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই তহবিল থেকে সাহায্য দেওয়া হয়।

দেশের ৩৪টি রাজ্য সৈনিক বোর্ড এবং প্রায় ৪১০টি জেলা সৈনিক বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করেও কাজ করে কেন্দ্রীয় সৈনিক বোর্ড। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে প্রাক্তন সেনা কন্ট্রিবিউটরি হেলথ স্কিম বা ইসিএইচএস-এর। ২০০৩ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় ভারত ও নেপালে ৪২০টির বেশি পলিক্লিনিক এবং বিভিন্ন অনুমোদিত হাসপাতাল রয়েছে। পরিকাঠামোর এই পরিসর বড় হলেও সব জায়গায় পরিষেবার মান একই নয়। কোথাও চিকিৎসক ও ওষুধের ঘাটতি রয়েছে, আবার কোথাও পরিষেবা পাওয়ার জন্য প্রাক্তন সেনাদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।

ALSO READ –  ফেসবুকে প্রেম! ডালিমের টানে পালিয়ে ভারতে এসেই BSF র হাতে আটক বাংলাদেশের মহিলা

আমলাতন্ত্র ও সামরিক অভিজ্ঞতার ব্যবধান

প্রাক্তন সেনা কল্যাণ ব্যবস্থার একটি আলোচিত সমস্যা হল প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সামরিক পরিষেবার বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে ব্যবধান। ডিইএসডব্লিউ সাধারণত একজন ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা বা আইএএস আধিকারিকের নেতৃত্বে চলে এবং এর প্রশাসনিক কাঠামোতে সাধারণত আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার আধিক্য থাকে। প্রশাসনিক আধিকারিকরা অর্থ, নীতি বাস্তবায়ন এবং সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা নিয়ে আসেন। কিন্তু ঘন ঘন বদলির কারণে সামরিক পরিষেবার শর্ত, প্রতিবন্ধকতা মূল্যায়ন এবং অবসরের পর বেসামরিক জীবনে প্রবেশের সমস্যাগুলি সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা তৈরি করা কঠিন হতে পারে।

এখানে সমস্যা কোনও নির্দিষ্ট আধিকারিকের যোগ্যতা নয়। মূল প্রশ্ন হল, প্রশাসনিক দক্ষতার সঙ্গে সামরিক ক্ষেত্রের জ্ঞানকে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে একত্র করা যায়। ১২ থেকে ১৮ মাসের মতো স্বল্প মেয়াদের দায়িত্বও ধারাবাহিকতার সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই কারণে দীর্ঘ মেয়াদের দায়িত্বের পাশাপাশি প্রাক্তন সেনা, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার প্রস্তাব সামনে এসেছে।

পেনশন নিয়ে মামলাও বাড়িয়েছে সমস্যা

প্রাক্তন সেনাদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে অবসরপ্রাপ্ত বা প্রতিবন্ধী সেনাকর্মীদের পেনশন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের করা আপিল নিয়ে আদালত প্রশ্ন তুলেছে। সশস্ত্র বাহিনী ট্রাইব্যুনাল কোনও প্রাক্তন সেনার পক্ষে রায় দেওয়ার পর সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বারবার মামলা হলে বয়স্ক পেনশনভোগীদের দীর্ঘ সময় ধরে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য জনসাধারণের অর্থ সুরক্ষা এবং আইনগতভাবে ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ ধরনের আপিলের ক্ষেত্রে আরও নির্দিষ্ট পর্যালোচনা এবং অনুপাতসম্মত পদ্ধতি প্রয়োজন।

অপ্রয়োজনীয় মামলা কমানোর জন্য সাম্প্রতিক কিছু উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে স্বচ্ছ যাচাই, নিয়মিত তথ্য প্রকাশ এবং একই ধরনের মামলায় বারবার আপিলের ক্ষেত্রে জবাবদিহির ওপর।

ALSO READ – নতুন মাত্রায় প্রতিরক্ষা জোট! আর্মেনিয়ায় আকাশ মিসাইলের হাতেকলমে মহড়ায় ভারতীয় সেনা

ডিজিটাল পেনশন ব্যবস্থায় সুবিধা ও সমস্যা

স্পর্শ বা এসপিএআরএসএইচ ডিজিটাল পেনশন প্ল্যাটফর্ম পেনশন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সরাসরি করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে। তবে ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন কিছু সমস্যাও তৈরি হয়েছে। পরিচয় যাচাই এবং তথ্য সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কিছু পেনশনভোগীর পেমেন্টে বিঘ্ন ঘটেছে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং গ্রামীণ এলাকার ব্যবহারকারীদের অনলাইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে অসুবিধা হতে পারে। এই কারণে সহায়তা কেন্দ্র, বিভিন্ন ভাষায় হেল্পলাইন এবং অফলাইন অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।

ইসিএইচএসে টাকা ও হাসপাতাল নিয়ে চাপ

প্রাক্তন সেনাদের কাছে ইসিএইচএস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলেও এই ব্যবস্থার ওপরও আর্থিক এবং প্রশাসনিক চাপ রয়েছে। বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে এবং বর্তমান বাজেট দিয়ে পুরনো বকেয়া মেটাতে হলে অনুমোদিত হাসপাতালগুলির বিল পরিশোধে দেরি হতে পারে। দীর্ঘদিন টাকা না পেলে কিছু হাসপাতাল ইসিএইচএস পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারে বা নেটওয়ার্ক থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

এর ফলে ডায়ালিসিস, কেমোথেরাপি বা হৃদরোগের মতো নিয়মিত ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা প্রাক্তন সেনাদের নিজেদের অর্থ দিয়ে চিকিৎসা করিয়ে পরে টাকা ফেরতের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। বড় শহরের বাইরে সমস্যাটি আরও প্রকট হতে পারে। কিছু পলিক্লিনিকে চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ এবং ওষুধের ঘাটতি থাকায় রোগীদের বারবার অন্য জায়গায় যেতে হয়। টেলিমেডিসিন, নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সফর, ওষুধ সরবরাহের অংশীদারিত্ব এবং চিকিৎসক ও ওষুধের মজুত সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নত করার প্রস্তাব রয়েছে।

রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বয়ের প্রশ্ন

প্রাক্তন সেনা কল্যাণে নীতি নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু বাস্তবে অনেক পরিষেবা রাজ্য সৈনিক বোর্ড এবং জেলা সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে পৌঁছয়। এই যৌথ দায়িত্বের কারণে বিভিন্ন রাজ্যে পরিষেবার মানে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। রাজ্য পর্যায়ে অর্থ বরাদ্দে দেরি, কর্মীর শূন্যপদ এবং পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা স্থানীয় পরিষেবাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে অনুদান, সংরক্ষণ, অভিযোগের সমাধান এবং পুনর্বাসনের সুবিধা সব রাজ্যে সমানভাবে পাওয়া নাও যেতে পারে। জাতীয় পর্যায়ে পরিষেবার নির্দিষ্ট মান, সময়মতো অর্থ হস্তান্তর এবং নিয়মিত ফলাফল যাচাইয়ের মাধ্যমে এই পার্থক্য কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।

পুনর্বাসনে শুধু নিরাপত্তার চাকরি নয়

অবসরের পর চাকরি পাওয়া প্রাক্তন সেনাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডিরেক্টরেট জেনারেল রিসেটলমেন্ট বা ডিজিআর প্রশিক্ষণ, স্বনিযুক্তি, নিরাপত্তা, পরিবহণ এবং ডিলারশিপের মতো সুযোগ দেয়। তবে বর্তমান অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীতে নেতৃত্ব, লজিস্টিকস এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করা অনেক কর্মী অবসরের পর তুলনামূলক সাধারণ প্রশিক্ষণ বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে যুক্ত হন। এই কাজগুলির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন না তুলেও বলা যায়, সামরিক জীবনে অর্জিত দক্ষতার আরও বেশি ব্যবহার সম্ভব। সাইবার নিরাপত্তা, বিমান রক্ষণাবেক্ষণ, সাপ্লাই চেন, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির মতো ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও স্বীকৃত সার্টিফিকেশন নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

অবসরের আগেই প্রস্তুতি প্রয়োজন

সমস্যার সমাধান শুধু অবসরের পর শুরু করলে হবে না। সামরিক কর্মীরা সাধারণত বেসামরিক সরকারি কর্মীদের তুলনায় অনেক আগেই অবসর নেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের বয়স তখনও ৪০-এর কোঠায় থাকে। ফলে চাকরির মাঝামাঝি পর্যায় থেকেই প্রযুক্তি, ম্যানেজমেন্ট, লজিস্টিকস, সাইবার নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জনপ্রশাসনের মতো ক্ষেত্রে স্বীকৃত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে।

এই ধরনের প্রশিক্ষণকে শুধু অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে না দেখে মানবসম্পদে বিনিয়োগ হিসেবে দেখার প্রস্তাব রয়েছে। কারণ সামরিক বাহিনীতে দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি করা দক্ষতাকে অবসরের পরও দেশের অর্থনীতিতে কাজে লাগানো সম্ভব।

কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব

বিশ্লেষণে প্রাক্তন সেনা কল্যাণ ব্যবস্থায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।

প্রথমত, প্রশাসন ও সামরিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়। গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘ মেয়াদের দায়িত্বের পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, প্রাক্তন সেনাদের অধিকার নিয়ে স্পষ্ট কাঠামো। পেনশন, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।

তৃতীয়ত, ইসিএইচএসের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য অর্থ বরাদ্দ। হাসপাতালের বিল পরিশোধ এবং দাবি নিষ্পত্তির জন্য ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব রয়েছে।

চতুর্থত, পুনর্বাসন ব্যবস্থার একীকরণ। ডিজিআর এবং তিন বাহিনীর আলাদা চাকরি সংক্রান্ত ব্যবস্থাকে একটি সাধারণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চমত, জেলা পর্যায়ে ওয়ান-স্টপ পরিষেবা। জেলা সৈনিক বোর্ডগুলিকে এমন ভেটেরান রিসোর্স সেন্টারে রূপান্তরের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে একই জায়গা থেকে স্পর্শ, ইসিএইচএস, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আইনি সহায়তা পাওয়া যাবে।

সামনে মূল চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন

ভারতের প্রাক্তন সেনা কল্যাণ ব্যবস্থায় পরিকাঠামো, হাসপাতাল নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই রয়েছে। ফলে নতুন করে সম্পূর্ণ ব্যবস্থা তৈরি করার চেয়ে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ।

সাফল্য শুধু সরকারি রিপোর্টে দেখা যাবে না। একজন পেনশনভোগী সময়মতো পেনশন পাচ্ছেন কি না, হাসপাতাল নগদহীন চিকিৎসা দিচ্ছে কি না, জেলা অফিস দ্রুত সমস্যার সমাধান করছে কি না এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের দক্ষতাকে নিয়োগদাতারা মূল্য দিচ্ছেন কি না, বাস্তব সাফল্যের মাপকাঠি সেখানেই।

যে দেশ তরুণ নাগরিকদের কঠিন পরিস্থিতিতে সামরিক পরিষেবায় পাঠায়, তাদের অবসরের পর বেসামরিক জীবনে মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ এবং উৎপাদনশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সেই ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রাক্তন সেনা কল্যাণের সংস্কার তাই শুধু সামাজিক সহায়তার বিষয় নয়, কার্যকর প্রশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট।  ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *