অপপ্রচার ‘গুন্ডাদমন বিল’ নিয়ে! ফের সরব শুভেন্দু
এই সময়: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাবিত ‘গুন্ডাদমন বিল’ রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের একাংশে প্রকাশিত খবরকে ‘মিথ্যে’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে শুক্রবার রাতেই জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ফের এই ইস্যুতে মিডিয়ার একাংশের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন তিনি। এ দিন রাতে এক্স হ্যান্ডলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি পোস্টকে ট্যাগ করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘ভিত্তিহীন অপপ্রচার এবং বিদ্বেষমূলক গুজবের বিরুদ্ধে আসল সত্য তুলে ধরছি।’
পোস্টে তাঁর সংযোজন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং কায়েমি স্বার্থান্বেষীদের একাংশ ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুয়ো খবর ও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াচ্ছে যে, ভারতের মাননীয় রাষ্ট্রপতি নাকি ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ় বিল, ২০২৬’ ফেরত পাঠিয়েছেন। যাচাই না–করে কোনও গুজবে কান দেবেন না। সত্যেরই জয় হবে…।’গত ২৯ জুন বিধানসভায় ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ (গুন্ডাদমন), ২০২৬’ বিলটি পাশ করায় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই বিলে স্বাক্ষর করার জন্য পাঠানো হয়েছিল রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে।
Setting the record straight against baseless propaganda and malicious rumors.
A section of political adversaries and vested interests have been deliberately spreading fake news and misleading narratives claiming that the Hon'ble President of India has returned "The West Bengal… https://t.co/o8NXNjBCGk— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) September 26, 2026
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে রাজ্যের এই নতুন প্রস্তাবিত বিলের কোনও ধারার সংঘাত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সম্মতি চেয়ে রাজ্যপাল সেটি পাঠান রাষ্ট্রপতি ভবনে। নিয়ম অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক হয়ে তা যায় রাষ্ট্রপতির কাছে। শুক্রবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের রিপোর্টে দাবি করা হয়, ‘নারকোটিক ড্রাগ অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট, ১৯৮৫’ বা এনডিপিএস আইনে অভিযুক্তদের শাস্তির যে বিধান রয়েছে, তার সঙ্গে রাজ্যের নতুন আইনে বর্ণিত ‘গুন্ডাদের’ শাস্তির বিষয়টি ওভারল্যাপ করছে। এই বিষয়টি সংশোধন করতে বলে বিলটি ফেরত পাঠিয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন।
শুক্রবার রাতে পূর্ব বর্ধমান থেকে কলকাতায় ফিরে তড়িঘড়ি নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ এবং ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠক করেন শুভেন্দু। তারপরে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ওই খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওই বিল আদৌ রাষ্ট্রপতি ভবনে যায়নি। সেটি এখনও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবেচনাধীন রয়েছে।
এরপরে শনিবার পিআইবি–র মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানায়, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই বিলটি ভারতের রাষ্ট্রপতির বিবেচনা ও সম্মতির জন্য পাঠিয়েছিল, যা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল রিজ়ার্ভ রেখেছিলেন। বিলটি খতিয়ে দেখা এবং মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও বিভাগগুলিতে পাঠানো হয়েছিল। বিলটি এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে।’ সংবাদমাধ্যমের একাংশ এ নিয়ে মিথ্যে প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এ দিন ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী।