সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো-প্রসাদ গ্রহণ, হেরিটেজ ভবনের সংরক্ষণ, সৌন্দর্যায়নের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর - 24 Ghanta Bangla News
Home

সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো-প্রসাদ গ্রহণ, হেরিটেজ ভবনের সংরক্ষণ, সৌন্দর্যায়নের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the love

শুক্রবার বর্ধমান সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন বর্ধমানের পুলিশ লাইন মাঠে প্রশাসনিক বৈঠক ছিল তাঁর। এর আগে বর্ধমানের ঐতিহাসিক সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দেন তিনি। পুজো শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠান শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দির সংস্কার, হেরিটেজ ভবনের সংরক্ষণ এবং আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যায়ন ও উন্নয়নের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

শুক্রবার বেলা ১২:৩০ নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার বর্ধমানের স্বস্তি পল্লির মাঠে অবতরণ করে। সেখান থেকে তাঁর কনভয় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক হয়ে জি টি রোড দিয়ে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে এসে পৌঁছয়। বর্ধমানের ঐতিহাসিক সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছলে তাঁকে স্বাগত জানান বর্ধমানের বিধায়িকা তথা মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​এরপর পুরোহিতদের উপস্থিতিতে প্রায় ১০ মিনিট ধরে মন্দিরের গর্ভগৃহে নিজের হাতে পুজো সম্পন্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর ডালিতে ছিল পাঁচ রকমের ফল, পাঁচ রকমের মিষ্টি, নারকেল, চেলি, পদ্মফুলের মালা, আলতা-সিঁদুর এবং মায়ের জন্য একটি বেনারসি শাড়ি।

মন্দিরের উন্নয়ন

​অনুষ্ঠান শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দির কর্তৃপক্ষ মন্দির সংস্কার, হেরিটেজ ভবনের সংরক্ষণ এবং আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যায়ন ও উন্নয়নের আবেদন জানান। মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন একটি পূর্ণাঙ্গ প্রজেক্ট রিপোর্ট (DPR) তৈরি করে আগামী ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে জমা দিতে, যাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। ​মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর এবং উন্নয়নমূলক আশ্বাসে অত্যন্ত আশাবাদী ও খুশি মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটন মানচিত্রে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের নাম বিশ্বব্যাপী আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে।

মন্দিরের প্রসাদ দেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রীকে

​সময়ের অভাব থাকায় মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরে বসে ভোগ গ্রহণ করতে না পারলেও মন্দির কর্তৃপক্ষের তৈরি করা বিশেষ ভোগ পার্সেল করে দেওয়া হয়। এ দিনের প্রসাদী মেনুতে ছিল পোলাও, ফুলকপি-আলুর তরকারি, ছানার ডালনা, মাগুর মাছের ঝোল, পায়েস, ডাল এবং বর্ধমানের বিখ্যাত কেশরভোগ।

আরএসএসের দপ্তরে মধ্যাহ্নভোজন

দুপুর ১টা ১০ নাগাদ পুলিশ লাইনের প্রশাসনিক সভার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। প্রশাসনিক সভা শেষ করে ২টো ৪৫ নাগাদ বর্ধমানে জেলা কার্যালয় পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানকার কার্যক্রম শেষ করে ৩টে ৩৫ নাগাদ তিনি সোজা উল্লাসে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের পূর্ব প্রান্তের কার্যালয় পৌঁছন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের তরফে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য মধ্যাহ্নভোজনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

সেখানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের পূর্ব প্রান্তের কার্যকর্তাদের সঙ্গে তিনি মধ্যাহ্নভোজনে বসেন। মধ্যাহ্নভোজনের ছিল সাদা ভাত,আলুপোস্ত, পাঁচমিশালি তরকারি, মুগ ডাল, টমেটোর চাটনি, মিষ্টি দই ও রসগোল্লা।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের পূর্ব প্রান্তের সংঘ পরিচালক রবীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের অতি সাধারণ খাওয়া-দাওয়া, আমরা যা খেয়েছি মুখ্যমন্ত্রীও তাই খেয়েছেন। সাদা ভাত আলু পোস্ত, মুগ ডাল, পাঁচমিশালি তরকারি। আমরাও খেয়েছি, উনিও খেয়েছেন।’ বিকেল ৫টা নাগাদ হেলিকপ্টারে করে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

রিপোর্টিং: গোপাল সোনকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *