ব্রিটিশ ক্রুবিহীন সাবমেরিন থেকে মার্কিন Mk 48 Torpedo উৎক্ষেপণ, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা? - 24 Ghanta Bangla News
Home

ব্রিটিশ ক্রুবিহীন সাবমেরিন থেকে মার্কিন Mk 48 Torpedo উৎক্ষেপণ, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা?

Spread the love

সমুদ্রের নিচে যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল ব্রিটেন ও আমেরিকার যৌথ পরীক্ষায়। ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির ১৯ টনের ক্রুবিহীন আন্ডারওয়াটার ভেহিকল XV Excalibur থেকে মার্কিন…

সমুদ্রের নিচে যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল ব্রিটেন ও আমেরিকার যৌথ পরীক্ষায়। ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির ১৯ টনের ক্রুবিহীন আন্ডারওয়াটার ভেহিকল XV Excalibur থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি Mk 48 হেভিওয়েট টর্পেডো (Mk 48 Torpedo) সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত তথ্য জানিয়েছে। এই পরীক্ষা AUKUS-এর Pillar 2-এর অধীনে দুই দেশের নৌবাহিনীর যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অংশ।

১৩ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডের British Underwater Test and Evaluation Centre-এ পরীক্ষাটি হয় বলে জানানো হয়েছে। Project Broadsword এবং Trial Iron-এর অধীনে এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল মার্কিন হেভিওয়েট টর্পেডোকে ব্রিটিশ স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করে সেখান থেকে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করা।

রয়্যাল নেভি আগে জানিয়েছে, XV Excalibur মূলত একটি পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম। এটি ভবিষ্যতের ক্রুবিহীন এবং ক্রু-চালিত নৌযানের সমন্বিত ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করবে।

Read More: লাল গালিচা থেকে বোমারু বিমানের স্যালুট: ওয়াশিংটনে জিনপিংকে রাজকীয় অভ্যর্থনা ট্রাম্পের

Advertisements


   


   

Excalibur-এর সঙ্গে কী পরীক্ষা করা হয়েছে?

পরীক্ষাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অস্ত্র এবং ক্রুবিহীন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে বিভিন্ন স্তরের সংযোগ যাচাই করা। এর মধ্যে মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল এবং সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশন অন্তর্ভুক্ত ছিল। অর্থাৎ শুধু একটি টর্পেডো বহন করা নয়, সেটিকে একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মিত্র দেশের অস্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় প্ল্যাটফর্ম একসঙ্গে ব্যবহার করা যায়।

এই ধরনের ইন্টারঅপারেবিলিটি AUKUS সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এর আগে রয়্যাল নেভি এবং অস্ট্রেলিয়া পানির নিচে থাকা XV Excalibur-এর সঙ্গে বিশ্বের অন্য প্রান্ত থেকে যোগাযোগ ও নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষা করেছিল। সেই পরীক্ষাকেও AUKUS Pillar 2-এর অধীনে XLUUV ইন্টারঅপারেবিলিটির গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

Read More: অস্ত্রে AI সেন্সর বসাতে মার্কিন সেনার ৪.৭ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি, বদলাতে পারে প্রশিক্ষণ

১৯ টনের XV Excalibur কী?

XV Excalibur হল ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির প্রথম Extra-Large Uncrewed Underwater Vehicle বা XLUUV। প্রায় ১২ মিটার লম্বা এই ক্রুবিহীন সাবমেরিনের ওজন প্রায় ১৯ টন। রয়্যাল নেভির Project Cetus-এর মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়েছে। ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের সময় ব্রিটিশ নৌবাহিনী জানিয়েছিল, Excalibur উন্নত আন্ডারওয়াটার প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ধরনের পেলোড পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং গোপনে দীর্ঘ সময় পানির নিচে কাজ করার মতো সক্ষমতাও রয়েছে।

তবে এটি বর্তমানে নিয়মিত যুদ্ধ অভিযানে ব্যবহারের জন্য মোতায়েন করা হয়নি। রয়্যাল নেভির ভাষায়, এটি একটি ডেমোনস্ট্রেটর ও টেস্টবেড, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের ক্রু-সহ এবং ক্রুবিহীন সিস্টেমের সমন্বিত ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কী এই Mk 48 টর্পেডো?

Mk 48 হল মার্কিন সাবমেরিন বাহিনীর অন্যতম প্রধান হেভিওয়েট টর্পেডো। এটি শত্রু সাবমেরিন এবং সারফেস কমব্যাট্যান্ট বা জলযান মোকাবিলায় ব্যবহারের জন্য তৈরি। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, Mk 48 একটি অ্যাকোস্টিক-হোমিং টর্পেডো। এতে ডিজিটাল গাইডেন্স ও কন্ট্রোল সিস্টেম এবং উন্নত ফিউজিং প্রযুক্তি রয়েছে। বর্তমান Mk 48 Mod 7 সংস্করণটি বিভিন্ন আধুনিক হুমকির বিরুদ্ধে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য উন্নত করা হয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী Mk 48-এর ওজন প্রায় ৩,৭৪৪ পাউন্ড এবং এতে ৬৫০ পাউন্ডের হাই-এক্সপ্লোসিভ ওয়ারহেড রয়েছে। এর ব্যাস ২১ ইঞ্চি। মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাস বিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, টর্পেডোটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৯ ফুট এবং এটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত না করলে পুনরায় আক্রমণের সক্ষমতাও রাখে।

কেন এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ?

এই পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ক্রুবিহীন আন্ডারওয়াটার ভেহিকলের ভূমিকা শুধু নজরদারি বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যতে সেগুলিকে অস্ত্রবাহী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা পরীক্ষা করা। বর্তমানে সাবমেরিন পরিচালনায় প্রশিক্ষিত ক্রু এবং অত্যন্ত জটিল প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন হয়। কিন্তু XLUUV-এর মতো ক্রুবিহীন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা গেলে কিছু ধরনের মিশনে সরাসরি মানুষকে পানির নিচে পাঠানোর প্রয়োজন কমতে পারে।

একই সঙ্গে একটি বড় সাবমেরিনের পরিবর্তে একাধিক ছোট বা মাঝারি ক্রুবিহীন প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করার ধারণাও ভবিষ্যতের নৌযুদ্ধের অংশ হতে পারে। এতে নজরদারি, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য অস্ত্র ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

AUKUS-এর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

এই পরীক্ষাকে AUKUS-এর প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। AUKUS-এর Pillar 2-এর লক্ষ্য হল অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও আমেরিকার মধ্যে উন্নত সামরিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক ব্যবহারযোগ্যতা বাড়ানো। রয়্যাল নেভি এর আগেই Excalibur-কে অস্ট্রেলিয়া থেকে দূরবর্তীভাবে নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষা করেছে। ফলে একটি ব্রিটিশ XLUUV-এর সঙ্গে অন্য দেশের প্রযুক্তি এবং অস্ত্র ব্যবস্থার সংযোগ পরীক্ষা করা সেই ধারাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যায়।

তবে এই ধরনের পরীক্ষা মানেই Excalibur এখনই যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন হচ্ছে বা নিয়মিতভাবে Mk 48 টর্পেডো বহন করবে, এমন নয়। রয়্যাল নেভি এখনও এটিকে পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই বর্ণনা করছে। ভবিষ্যতে ক্রুবিহীন সাবমেরিন কতটা অস্ত্রবাহী হয়ে উঠবে এবং ক্রু-চালিত সাবমেরিনের সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে, এই ধরনের পরীক্ষার ফল সেই ধারণা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট।  ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *