দূর থেকেই শত্রুর অবস্থানে আঘাত! স্মার্ট বোমা ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করবে ভারতীয় বায়ুসেনা
DRDO: ক্রমাগত পরিবর্তনশীল চ্যালেঞ্জের মুখে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে ভারতীয় বিমানবাহিনী নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ১৬০টি স্যাটেলাইট-চালিত স্মার্ট অ্যান্টি-এয়ারফিল্ড…
DRDO: ক্রমাগত পরিবর্তনশীল চ্যালেঞ্জের মুখে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে ভারতীয় বিমানবাহিনী নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ১৬০টি স্যাটেলাইট-চালিত স্মার্ট অ্যান্টি-এয়ারফিল্ড ওয়েপন (SAT-SAAW) সংগ্রহের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই অস্ত্রটি দূর থেকেই শত্রুপক্ষের বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম। ডিআরডিও (DRDO)-র নিজস্ব নকশা ও প্রযুক্তিতে এই অস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রায় ৮১১ কোটি টাকা মূল্যের এই চুক্তিটি ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (বিডিএল)-এর সাথে স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তিটি ‘বাই (ইন্ডিয়ান-আইডিডিএম)’, অর্থাৎ ‘দেশীয়ভাবে নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদিত’, ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত; যার ফলে এই অস্ত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে দেশীয় নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বুধবার নয়াদিল্লিতে প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং-এর উপস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
SAT-SAAW কী?
SAT-SAAW হলো একটি প্রিসিশন-গাইডেড (নির্ভুল লক্ষ্যভেদী) এয়ার-টু-গ্রাউন্ড গ্লাইড বোমা। এটি যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা হয় এবং কোনো ইঞ্জিন ছাড়াই গ্লাইড করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায়। এই অস্ত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো – এটি বেশ দূর থেকেই শত্রুপক্ষের বিমানঘাঁটি ও সামরিক বিমানঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। এর ফলে আক্রমণকারী বিমানকে লক্ষ্যবস্তুর অত্যন্ত কাছাকাছি যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়।
কোন বিমান এটি ব্যবহার করবে?
Advertisements
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ভারতীয় বিমান SAT-SAAW উৎক্ষেপণে সক্ষম, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জাগুয়ার (Jaguar) যুদ্ধবিমান, হক (Hawk) বিমান এবং সু-৩০এমকেআই (Su-30MKI) যুদ্ধবিমান। এই অস্ত্রটি অন্তর্ভুক্ত করার ফলে শত্রুপক্ষের বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে এই বিমানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
ডিআরডিও (DRDO) কর্তৃক দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি
SAT-SAAW-এর নকশা ও উন্নয়ন দেশীয় প্রযুক্তিতে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) সম্পন্ন করেছে। এই অস্ত্রটিতে ৬০ শতাংশ দেশীয় উপাদান বা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে। এছাড়া, এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপ-ব্যবস্থাও দেশের ভেতরেই তৈরি ও উৎপাদন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইনার্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট (IMU), দীর্ঘ-বিলম্বিত ইমপ্যাক্ট ফিউজ এবং টুইন স্টোর ক্যারিয়ার। এই সাব-সিস্টেমগুলোর দেশীয়করণ প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরশীলতাকে আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অস্ত্রগুলো কবে পাওয়া যাবে?
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে SAT-SAAW-এর সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। বিমানবাহিনীতে এই অস্ত্রগুলোর অন্তর্ভুক্তি তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই চুক্তিটিকে কেন তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে?
যেকোনো বিমান অভিযানের ক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের বিমানঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। SAT-SAAW-এর মতো ‘স্ট্যান্ড-অফ’ (stand-off) অস্ত্রের সহায়তায় বিমানবাহিনী এমন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু থেকে নিজেদের বিমানগুলোকে নিরাপদ দূরত্বে রেখেই আক্রমণ চালানো সম্ভব হয়।
এই চুক্তিটি কেবল ভারতীয় বিমান বাহিনীর নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেই একটি পদক্ষেপ নয়, বরং এটি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ও ডিআরডিও (DRDO)-র প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকেও জোরদার করে। সামগ্রিকভাবে, ৮১১ কোটি টাকার এই চুক্তিটি বিমান বাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের প্রাপ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।