Sharjah murder case: শারজায় ভারতীয় ব্যক্তির ৯ টুকরো দেহ উদ্ধার, নিখোঁজ স্ত্রী-পুত্র | Karnataka Man Murdered in Sharjah, Body Found in 9 Pieces Inside Car
গাড়িতে পাওয়া গেল ব্যক্তির ৯ টুকরো দেহ, এখনও খোঁজ স্ত্রী ও পুত্রের
বেঙ্গালুরু ও শারজা: শারজায় গত ১৪ বছর ধরে কাজ করতেন। জুলাই মাস থেকে কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে শারজাতেই গাড়ির মধ্যে থেকে পাওয়া গেল ব্যক্তির ৯ টুকরো দেহ। কর্নাটকের আলউইন প্রকাশ কুন্দের নামে ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর স্ত্রী ও ছেলের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
প্রকাশ কুন্দের বাড়ি কর্নাটকের উদুপি জেলার কুন্দাপুরে। গত ১৪ বছর ধরে তিনি শারজা বিমানবন্দরে কাজ করতেন। গত বছর ডিসেম্বরে তিনি নিজের শহরে এসেছিলেন। এরপর ফের শারজায় ফিরে যান। প্রকাশের স্ত্রী টিনা কুন্দের উদুপির উদয়াভারার বাসিন্দা। তিনিও শারজায় একটি স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। তাঁদের ছেলে সেখানে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্দের।
সোমবার উদুপি জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে দাদার মৃত্যুর ঘটনায় পদক্ষেপের আবেদন জানান অনিল। যদিও এখনও পুলিশ কোনও বিবৃতি দেয়নি। শারজা পুলিশের কাছ থেকে সরকারিভাবে তথ্য আসার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
রহস্যজনক মেসেজ-
অনিল জানিয়েছেন, গত ২০ জুলাই তিনি প্রকাশকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু ফোন ধরেননি তাঁর দাদা। পরিবর্তে একটি মেসেজ আসে। যেখানে জানানো হয় তিনি ভালো আছেন। বিষয়টি অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছিল অনিলের। কারণ, তাঁর দাদা সাধারণত এভাবে মেসেজ করতেন না।
এরপর এক সপ্তাহ পরে ফের ফোন করলেও কোনও সাড়া মেলেনি। সন্দেহ হওয়ায় শারজায় থাকা প্রকাশের সহপাঠী মনোহরকে ফোন করে তাঁর খোঁজ নিতে বলেন অনিল। মনোহর ওই সংস্থার দেওয়া ফ্ল্যাটে যান। যেখানে প্রকাশ তাঁর পরিবার নিয়ে থাকতেন। সেখানে নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে জানান, প্রকাশ ভারতে ফিরে গিয়েছেন। এরপর সংস্থার HR বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও প্রথমে জানায়, প্রকাশ ভারতে ফিরে গিয়েছেন।
পাসপোর্ট পরীক্ষা করতেই মিলল সূত্র-
পরের দিন সংস্থার সঙ্গে ফের যোগাযোগ করেন অনিল। তিনি জানান, প্রকাশ ভারতে ফেরেননি। তাঁর বর্তমান অবস্থান যাচাই করার জন্য সংস্থাকে অনুরোধ করেন তিনি। এরপর সংস্থা প্রকাশের পাসপোর্টের রেকর্ড পরীক্ষা করে জানতে পারে, তিনি এখনও শারজাতেই রয়েছেন। এরপর তাঁর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তদন্তের সময় ওমানের দিকে যাওয়ার রাস্তার পাশে দাঁড় করানো একটি গাড়ি থেকে প্রকাশের দেহ উদ্ধার হয় বলে জানিয়েছেন অনিল। তাঁর অভিযোগ, দেহটি ৯ টুকরো করে দু’টি ব্যাগে ভরে রাখা হয়েছিল। অনিল জানিয়েছেন, সোমবার তাঁরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পান। এরপরই উদুপির স্থানীয় পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁরা।
তবে ঠিক কী কারণে প্রকাশকে খুন করা হল, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শারজা কর্তৃপক্ষের তদন্তেই গোটা ঘটনার ক্রম এবং খুনের সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কোথায় স্ত্রী ও ছেলে?
অনিল বলেন, “বুকে ছুরি মারা এবং একটি দেহকে নয় টুকরো করা একজন দাগী অপরাধীর কাজ ছাড়া হতে পারে না।” তিনি আরও জানিয়েছেন, বিল্ডিংয়ের CCTV ফুটেজে দু’জন পুরুষ এবং এক মহিলাকে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। অনিলের কথায়, যদি তাঁর দাদার স্ত্রী ভারতে এসে থাকেন, তাহলে স্বামীর সঙ্গে কী ঘটেছে, তা তাঁর জানা থাকার কথা। ছেলেও হয়তো কিছু জানে।
তবে প্রকাশের স্ত্রী ভারতে এসেছেন, এমন কোনও প্রমাণ এখনও নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। অনিলের দাবি, স্থানীয়ভাবে কোনও FIR দায়ের না হওয়ায় তাঁরা পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করতে পারছেন না।