বাম্পার ফলনেই বিপত্তি! হিমঘরে কোটি কোটি বস্তা আলু আটকে, চরম ক্ষতির মুখে চাষিরা - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাম্পার ফলনেই বিপত্তি! হিমঘরে কোটি কোটি বস্তা আলু আটকে, চরম ক্ষতির মুখে চাষিরা

Spread the love

কলকাতা: বাম্পার ফলন হয়েছে বটে, কিন্তু সেই অতিরিক্ত উৎপাদনই এখন চাষিদের গলায় ফাঁসের মতো চেপে বসেছে। রাজ্যজুড়ে আলুচাষিদের দুর্দশা কাটছে না কিছুতেই। আর কৃষকদের সবথেকে…

কলকাতা: বাম্পার ফলন হয়েছে বটে, কিন্তু সেই অতিরিক্ত উৎপাদনই এখন চাষিদের গলায় ফাঁসের মতো চেপে বসেছে। রাজ্যজুড়ে আলুচাষিদের দুর্দশা কাটছে না কিছুতেই। আর কৃষকদের সবথেকে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘পোখরাজ’ আলু। হিমঘরে এখনও পাহাড়প্রমাণ আলু মজুত রয়েছে, কিন্তু বাজারে তার ক্রেতা নেই বললেই চলে। ফলস্বরূপ, ওই আলু আদৌ বিক্রি হবে কি না এবং সর্বস্বান্ত হতে হবে কি না, তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন হুগলি থেকে মুর্শিদাবাদের কৃষকরা।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় হিমঘরগুলিতে আলুর মজুত প্রায় ৮ থেকে ৯ শতাংশ বেশি। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব বলছে, এ বার রাজ্যের কোল্ডস্টোরেজগুলিতে ৫০ কেজির প্রায় ১৬ কোটি বস্তা আলু মজুত রাখা হয়েছিল। যেখানে প্রতি বছর আগস্ট মাসের মধ্যেই মোট মজুতের অন্তত ৫০ শতাংশ আলু বাজারজাত হয়ে যায়, সেখানে এ বার এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৯.৮৭ শতাংশ আলু হিমঘর থেকে বের করা সম্ভব হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার ছবিটা আরও ভয়াবহ, যেখানে সেপ্টেম্বর শেষের পথেও কোল্ডস্টোরেজগুলিতে ৫৪ শতাংশ আলু অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

চাষিদের দাবি, বীজ কেনা, জমি তৈরি, ফসল তোলা থেকে শুরু করে হিমঘর পর্যন্ত আলু পৌঁছতে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বস্তাপিছু প্রায় ৯০ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। অথচ বাজারে জোগান এত বেশি যে, বন্ডের মাধ্যমে সেই আলু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে গিয়ে বস্তাপিছু মাত্র ১০০ থেকে ১২০ টাকা দাম মিলছে। অর্থাৎ, লাভ তো দূরঅস্ত, উৎপাদন ও সংরক্ষণের খরচটুকুও উঠবে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

জ্যোতি বনাম পোখরাজ এবং আসছে নতুন আলু

বাজারে জ্যোতি আলুর চাহিদা ও জোগান চড়া থাকায় ক্রেতারা কম দামেই তা পেয়ে যাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই, তার তুলনায় পোখরাজ বা হাইব্রিড আলুর কদর তলানিতে ঠেকেছে। কৃষকদের মতে, হাইব্রিড বীজ এবং অনুকূল আবহাওয়া এ বার উৎপাদন দ্বিগুণ করে দিয়েছে। আগে যেখানে কাঠাপ্রতি ৫ থেকে ৬ বস্তা আলু ফলত, এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ থেকে ১২ বস্তায়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত জোগান বাজারে দাম একেবারে ধসিয়ে দিয়েছে। এর উপর আগামী অক্টোবর মাস থেকেই শুরু হবে নতুন আলু চাষের তোড়জোড় এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই বাজারে নতুন ফসল চলে আসবে। ফলে হিমঘরে পড়ে থাকা পুরনো পোখরাজ আলু নিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির প্রমাদ গুনছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উভয়ই।

Advertisements


   


   

অপেক্ষার অবসান! ৪ বছর পর ডুয়ার্সে মূর্তি নদীতে চালু নতুন সেতু

ষষ্ঠীর আগেই বড় উপহার! ১৫ অক্টোবরই সরকারি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বেতন-পেনশন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *