দাম দিয়ে কেনাই সার! মাঝ আকাশে খাবারের স্বাদ বিগড়ে যায় কেন? নেপথ্যে কোন বিজ্ঞান?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— মাটিতে যে খাবার অতীব সুস্বাদু লাগে, উড়ন্ত বিমানের ভিতরে বসে সেই একই পদ তুলনামূলক ভাবে পানসে বা স্বাদহীন মনে হয় কেন? বিমান সংস্থার থেকে দাম দিয়ে কেনা খাবারের মান কি সত্যিই খারাপ, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা? পুষ্টিবিদরা অবশ্য বলছেন, সব দোষ নাকি জিভের। মাটি থেকে ৩৫,০০০ ফুট উঁচুতে থাকার জন্য খাবারের নিজস্ব স্বাদ বা উপাদানে আদপে কোনও পরিবর্তন হয় না। উচ্চতা, শুষ্ক বাতাস, কেবিন প্রেশার এবং ইঞ্জিনের শব্দ জিভের উপরে থাকা ছোট ছোট স্বাদকোরক বা টেস্ট বাডকে কী ভাবে প্রভাবিত করে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তাঁরা।
১. আর্দ্রতার অভাব ও শুষ্ক বাতাস
বিমানের কেবিনের ভিতরে আপেক্ষিক আর্দ্রতা সাধারণ ঘরের তুলনায় অনেক কম থাকে। অতিরিক্ত শুষ্ক বাতাসের কারণে আমাদের মুখ ও নাসারন্ধ্র শুষ্ক হয়ে যায়। আমরা খাবারের যে স্বাদ অনুভব করি, তার একটা বড় অংশই আসে আমাদের ঘ্রাণশক্তি থেকে। নাক ও মুখের ভিতরের আর্দ্রতা কমে গেলে খাবারের সুবাস ও সূক্ষ্ম সঙ্কেতগুলো মস্তিষ্ক সঠিক ভাবে গ্রহণ করতে পারে না। ফলে খাবার পানসে মনে হয়।
২. একটানা ইঞ্জিনের শব্দ ও স্বাদের পরিবর্তন
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিমানের ইঞ্জিনের একঘেয়ে শব্দ আমাদের স্নায়ুতন্ত্র এবং স্বাদগ্রহণের ক্ষমতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। শব্দদূষণের কারণে মিষ্টি ও হালকা নোনতা স্বাদের সংবেদনশীলতা কমে যায়। উল্টোদিকে, মুখরোচক ও নোনতা স্বাদ যেমন: টমেটো, মাশরুম, চিজ় বা ঝোলযুক্ত খাবার বিমানের ভিতরের পরিবেশে আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
৩. মানসিক ও আচরণগত কারণ
উড়োজাহাজে যাত্রার সময় আমাদের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস ও বায়োলজিক্যাল ক্লক ব্যাহত হয়। অসময়ে খাবার খাওয়া, দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা, ক্লান্তি এবং খিদে না থাকা সত্ত্বেও খাবার পরিবেশনের কারণে খাওয়া— এইসব মানসিক বিষয়ও খাবারের আসল আনন্দ কমিয়ে দেয়।