ডেনমার্ককে MH-60R Seahawk হেলিকপ্টার বিক্রিতে মার্কিন অনুমোদন
ডেনমার্ককে প্রায় ৪২৫ মিলিয়ন ডলারে MH-60R Seahawk নৌ হেলিকপ্টার ও সরঞ্জাম বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জানুন বিস্তারিত।
আর্কটিক এবং উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়াতে ডেনমার্ককে MH-60R Seahawk নৌ হেলিকপ্টার এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল্য প্রায় ৪২৫ মিলিয়ন ডলার। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট মঙ্গলবার এই অনুমোদনের কথা জানিয়েছে।
চুক্তিটি এখনও সম্ভাব্য Foreign Military Sale বা বিদেশি সামরিক বিক্রির পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ মার্কিন অনুমোদন মিললেও এটি চূড়ান্ত সরবরাহ চুক্তি হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে না। প্রস্তাবিত বিক্রির ক্ষেত্রে লকহিড মার্টিন এবং সিকরস্কি কর্পোরেশন প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে।
কতগুলি হেলিকপ্টার পাবে ডেনমার্ক?
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঘোষণায় MH-60R Seahawk হেলিকপ্টার এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির কথা জানানো হলেও প্রাথমিক ঘোষণায় হেলিকপ্টারের নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তী প্রতিরক্ষা প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত প্যাকেজে ৩টি MH-60R Seahawk থাকার কথা জানানো হয়েছে।
MH-60R হল মার্কিন নৌবাহিনীর একটি মাল্টি-মিশন নৌ হেলিকপ্টার। এর অন্যতম প্রধান ভূমিকা হল অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার বা শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত ও মোকাবিলা, অ্যান্টি-সারফেস ওয়ারফেয়ার, নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযান। ফলে এই হেলিকপ্টার ডেনমার্কের নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নজরদারি এবং উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
Advertisements
কেন গুরুত্বপূর্ণ MH-60R Seahawk?
MH-60R Seahawk-কে শুধু পরিবহণের জন্য ব্যবহার করা হয় না। এটি মূলত সমুদ্রভিত্তিক সামরিক অভিযানের জন্য তৈরি একটি মাল্টি-মিশন হেলিকপ্টার।
শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত করা, সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজের উপর নজর রাখা, সামুদ্রিক এলাকায় নজরদারি চালানো এবং প্রয়োজন হলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া এর গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ফলে ডেনমার্ক এই হেলিকপ্টার পেলে তার সামুদ্রিক নজরদারি এবং সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধ সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। ডেনমার্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র দুটিই ন্যাটোর সদস্য। দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। আর্কটিক এবং উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ায় সেই সহযোগিতার পরিধিও বাড়ছে।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন নিরাপত্তা চুক্তির দিনেই ঘোষণা
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, MH-60R বিক্রির অনুমোদনের খবরটি এসেছে সেই দিনই, যেদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে একটি নতুন ত্রিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পার্শ্ব বৈঠকে ট্রাম্প, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির লক্ষ্য আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
নতুন ব্যবস্থায় গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে পিটুফিক স্পেস বেস-এর আধুনিকীকরণ এবং দ্বীপের আরও কয়েকটি এলাকায় প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয় রয়েছে। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীন স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবেই থাকছে।
আর্কটিক অঞ্চলে বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব
আর্কটিক অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং পরিবর্তিত বরফ পরিস্থিতির কারণে এই অঞ্চলের সামরিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব গত কয়েক বছরে বেড়েছে। নতুন সমুদ্রপথের সম্ভাবনা, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং উত্তর আটলান্টিকের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে আর্কটিক এখন ন্যাটো দেশগুলির নিরাপত্তা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যবর্তী কৌশলগত এলাকায় অবস্থিত। পিটুফিক স্পেস বেস থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ নজরদারি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করে। নতুন মার্কিন-ডেনমার্ক-গ্রিনল্যান্ড নিরাপত্তা চুক্তিতে এই সামরিক সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ডেনমার্কের সামুদ্রিক নিরাপত্তায় নতুন সক্ষমতা
৪২৫ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য MH-60R চুক্তি এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন নিরাপত্তা সমঝোতা একই সময়ে সামনে আসায় আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে ডেনমার্ক-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ডেনমার্কের জন্য MH-60R-এর মতো নৌ হেলিকপ্টার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উত্তর আটলান্টিক, গ্রিনল্যান্ড এবং ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জের বিশাল সামুদ্রিক এলাকার নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন হেলিকপ্টারগুলি ভবিষ্যতে সমুদ্র নজরদারি, সাবমেরিন-বিরোধী অভিযান এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা মিশনে ব্যবহৃত হতে পারে।
তবে প্রস্তাবিত বিক্রির চূড়ান্ত শর্ত, সরবরাহের সময়সূচি এবং ডেনমার্কের হাতে ঠিক কতগুলি হেলিকপ্টার যাবে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে এটি ডেনমার্কের নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নজরদারি ও সাবমেরিন-বিরোধী সক্ষমতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।