গ্রেপ্তারির আতঙ্কে বাড়িতেই নাবালিকাদের প্রসবের ঝোঁক
এই সময়, বাঁকুড়া: বাল্যবিবাহ ও নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হওয়া রুখতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া আইনি বার্তা পাওয়ার পরেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে বাঁকুড়ায়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, আধার কার্ড যাচাই করে বয়স নিশ্চিত হওয়ার পরে জেলার দুই থানা এলাকা থেকে দুু’জন নাবালিকা প্রসূতির স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
আইনি কড়াকড়ির ফলে বাল্যবিবাহ কমবে বলে আশা করা হলেও, বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা থাকা নাবালিকাদের পরিবারে ছড়িয়েছে আইনি আতঙ্কের মেঘ। পুলিশি গ্রেপ্তারি ও আইনি ঝমেলা এড়াতে অনেক পরিবার প্রসূতিকে হাসপাতালে না-পাঠিয়ে বাড়িতেই প্রসব করানোর কথা ভাবছে, যা মা ও শিশুর জন্য মারাত্মক ঝুঁকির হতে পারে বলে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বাঁকুড়া স্বাস্থ্য জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ (থ্রি) সজল বিশ্বাস বলেন, ‘বাড়িতে যাতে কোনও ডেলিভারি না হয় সেটা আমরা নজর রাখছি। জীবনের ঝুঁকি এড়াতে অন্তঃসত্ত্বাদের হাসপাতালে পাঠানোর জন্য আমরা সবসময় পরামর্শ দিচ্ছি।’
তিনি আরও জানান, ১৮ বছরের নীচে কোনও প্রসূতি হাসপাতালে ভর্তি হলে পুলিশকে জানানোর নিয়ম আগেও ছিল, এখনও আছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী পুলিশকে ইনফর্ম করা হয়। বাকিটা পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে সচেতনতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ রুখতে স্কুল, কলেজ, গ্রামে আমরা সচেতনতা শিবির করি। বিভিন্ন প্রোগ্রাম লাগাতার চলে আসছে। এখনও হচ্ছে। কিন্তু তার পরেও অনেকে মানে না। বিয়ে হয়ে গেলেও আমরা চেষ্টা করি যাতে ২০ বছর বয়স হওয়ার আগে যাতে কেউ সন্তান না নেয়। তার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে ফ্যামিলি প্ল্যানিং মেথড আগেও দেওয়া হয়েছে, এখনও দেওয়া হয়। এখন সেই কাজটা আরও জোর দিয়ে করা হচ্ছে।’
বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশাসনের অল-আউট পদক্ষেপের কথা জানিয়ে বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, ‘প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর একসঙ্গে মিলে সচেতনতামুলক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। স্কুল, কলেজের পাশাপাশি গ্রামেও পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে মানুষকে সচেতন করা হবে। বোঝানো হবে, ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে নয়। তার পরেও কেউ সেই পথে হাঁটলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জেলা জুড়ে সেবা সংকল্প অভিযানের আওতায় এই নজরদারি ও সচেতনতা অভিযান লাগাতার চলবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।