Supreme Court: ‘টাকা ও ক্ষমতা থাকলে এই দেশে সব পাওয়া যায়’, জামিন পেয়েই ভিডিয়ো পোস্ট অভিযুক্তর, সুপ্রিম কোর্ট বলল… | Viral video of accused after getting bail, Supreme Court says ‘If he had money and power…’
নয়াদিল্লি: জামিন পেয়েছেন খুনের মামলায় অভিযুক্ত। আর জামিন পাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্ট করা একটি ভিডিয়ো নিয়ে শোরগোল। ভিডিয়োয় তিনি বলেন, “টাকা ও ক্ষমতা দিয়ে এই দেশে সব কিছু পাওয়া যায়।” আর সেই ভিডিয়োর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর জামিন বাতিলের জন্য মামলা হল সুপ্রিম কোর্টে। তবে ওই ব্যক্তির জামিন বাতিল করতে দেশের শীর্ষ আদালত রাজি হল না। পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের নির্দেশ বহাল রাখল শীর্ষ আদালত।
অভিযোগ, বিশাল নামে ওই অভিযুক্ত জামিন পাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ভিডিয়ো পোস্ট করেন। পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পরই ওই ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। জামিনে মুক্তির পর তাঁর আচরণকে আদালতের দেওয়া সুবিধার অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের মামলা হয়।
বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। তিন বিচারপতির বেঞ্চ হাইকোর্টের জামিনের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। শুনানির সময় বিচারপতিরা বলেন, অভিযুক্তকে তাঁর মুক্তি উদযাপন করতেই দেখা যাচ্ছে।
কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?
LawBeat-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেঞ্চ মন্তব্য করে, “ঠিক আছে। এটা একটা অর্জন। তিনি মুক্তি পেয়েছেন, তাই উদযাপন করছিলেন।” অভিযুক্তের ‘টাকা ও ক্ষমতা’র দাবি নিয়েও মন্তব্য করেন বিচারপতি বিক্রম নাথ। তিনি বলেন, “যদি তাঁর টাকা-পয়সা ও ক্ষমতা থাকত, তাহলে তাঁকে ভিতরেই ঢুকতে হত না। টাকা তো আইনজীবীর ফি হিসেবে দেওয়া হয়েছে।” এরপর অভিযোগকারীর আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ফলে আপাতত জামিনেই থাকবেন বিশাল।
খুনের মামলায় কেন জামিন পেয়েছিলেন অভিযুক্ত?
ঘটনাটি ২০২২ সালের অক্টোবরের। হরিয়ানার বেরলা গ্রামের একটি জমি সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে এই মামলা। অভিযোগ, বিশাল কুড়ুল দিয়ে গজনন্দ নামে এক ব্যক্তির মাথায় আঘাত করেন। পরে গজনন্দর মৃত্যু হয়।
২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর বিশালকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে তাঁর একাধিক জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছিল। পরে পঞ্চমবারের আবেদনে ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল তাঁকে নিয়মিত জামিন দেয় পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট।
হাইকোর্ট অভিযোগ এবং মেডিক্যাল রিপোর্টের মধ্যে কিছু অসঙ্গতির বিষয়টি উল্লেখ করেছিল। আদালত জানিয়েছিল, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কুড়ুলের আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনও চোটের উল্লেখ নেই। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটিও ছিল একটি লাঠি। দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি থাকা এবং মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় দেরির বিষয়টিও বিবেচনা করেছিল হাইকোর্ট।
কেন সুপ্রিম কোর্টে যান অভিযোগকারী?
অভিযোগকারীর দাবি, জামিনে মুক্তির পর বিশালের বিজয় মিছিল এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের কারণে সাক্ষীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আবেদনে সাক্ষীদের হুমকির অভিযোগ, কয়েকজন সাক্ষীর এখনও জিজ্ঞাসাবাদ না হওয়া এবং জামিনে মুক্তির পর অভিযুক্তের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগকারীর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী সিদ্ধার্থ মিত্তল। তবে সুপ্রিম কোর্ট জামিন বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে হাইকোর্টের জামিনের নির্দেশই বহাল থাকল। অবশ্য, এই সিদ্ধান্তকে অভিযুক্তের খালাস হিসেবে ধরা যাবে না।