রাতে মাংস, রুটি না পেয়ে দোকানে তাণ্ডব! অভিযুক্তদের খোঁজে তদন্তে পুলিশ
এই সময়, মালদা: রাত তখন প্রায় দেড়টা। ফাস্টফুডের দোকানে এ বার ঝাঁপ বন্ধ হবে। এমন সময়ে কয়েকটি মোটরবাইকে চেপে মদ্যপ অবস্থায় একদল যুবক এসে বলে, ‘রুটি, তড়কা আর মাংস দাও।’ দোকানদার বলেন, ‘খাবার তো শেষ হয়ে গিয়েছে দাদা।’ অভিযোগ, তার পরেই আচমকা দোকানে তাণ্ডব শুরু করে ওই দলটি। দোকানে ভাঙচুরের পাশাপাশি পাঁচ কর্মচারীকে লাঠি এবং বেল্ট দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে মালদার ইংরেজবাজার শহরের জনবহুল এলাকা হিসেবে পরিচিত সুকান্তপল্লি মোড়ের একটি ফাস্টফুডের দোকানে। দোকানটি ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে থাকায় দূরপাল্লার যানবাহন এখানে দাঁড়ায়। চালকরা খাওয়াদাওয়া সেরে আবার রওনা দেন। এই চাহিদার কারণেই অনেক রাত পর্যন্ত খোলা থাকে দোকানটি। ওই রাতে খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে ঝাঁপ বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কর্মচারীরা।
দোকানের ম্যানেজার অতনু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওই রাতে কাস্টমারের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। তাই রাত ১২টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে শুরু করেছিলাম। এরপরে বাসনপত্র মেজে সবকিছু গোছাতে গোছাতে রাত প্রায় দেড়টা বেজে যায়। সেই সময়ে কয়েকটি মোটরবাইকে পাঁচ–ছ’জন যুবক এসে রুটি, তড়কা, মাংস বানিয়ে দিতে বলে। খাবার নেই বলতেই কোমর থেকে বেল্ট খুলে কর্মচারীদের মারতে শুরু করে তারা। কোথা থেকে লাঠি নিয়ে এসে হামলা চালায়। দোকানের অনেক জিনিসপত্রও ভেঙে দেওয়া হয়।’
তিনি আরও জানান, ঘটনায় পাঁচ কর্মচারী জখম হন। রাতেই তাঁদের মালদা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। তিন জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি দু’জন এখনও চিকিৎসাধীন। রবিবার সকালে দোকান মালিকের তরফে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় সমস্ত ঘটনা রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতনু। সেই ফুটেজ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যেই এক যুবককে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। যদিও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।