FCRA নিবন্ধিত NGO সংস্থা কমলেও বেড়েছে বিদেশি অনুদান! চিন্তায় কেন্দ্র
নয়াদিল্লি: দেশে এফসিআরএ-নিবন্ধিত সক্রিয় বেসরকারি সংস্থার সংখ্যা (foreign funding)গত এক দশকে প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। অথচ একই সময়ে বিদেশি অনুদানের পরিমাণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। কেন্দ্রীয়…
নয়াদিল্লি: দেশে এফসিআরএ-নিবন্ধিত সক্রিয় বেসরকারি সংস্থার সংখ্যা (foreign funding)গত এক দশকে প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। অথচ একই সময়ে বিদেশি অনুদানের পরিমাণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ সালে যেখানে সক্রিয় এফসিআরএ সংস্থার সংখ্যা ছিল ২৯,০২২, সেখানে এখন তা নেমে এসেছে ১৪,৪৬৬-এ। অন্যদিকে বিদেশি অবদান ১৭,৮৩২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে ২২,৯৭৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
এই পরিসংখ্যান সম্প্রতি সংসদীয় যৌথ কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। কমিটি এফসিআরএ সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা করছে।(foreign funding) স্বরাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে মন্ত্রকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধন বাতিলের বড় অংশই বার্ষিক রিটার্ন জমা না দেওয়া বা নিষ্ক্রিয়তার কারণে হয়েছে। আইন মেনে চলার শর্ত কঠোর হওয়ায় অনেক সংস্থা সক্রিয় তালিকা থেকে ছিটকে গেছে।
আরও দেখুনঃ চন্ডিগড়ে ASI খুনে অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করে শেষ করল পুলিশ
তবুও যেসব সংস্থা টিকে আছে, তারা আগের চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ পাচ্ছে।বিদেশি অর্থের উৎসের দিকে তাকালে আমেরিকা স্পষ্টভাবে এগিয়ে। ২০২৪-২৫ সালে আমেরিকা থেকে এসেছে ১২,১১৩ কোটি টাকা, যা মোট অবদানের অর্ধেকেরও বেশি। এরপর রয়েছে ব্রিটেন , জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর। রাজ্যভিত্তিক হিসাবে দিল্লি সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে।
Advertisements
তামিলনাড়ুতে সক্রিয় সংস্থার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। (foreign funding)ধর্মীয় উদ্দেশ্যে পাওয়া অর্থের হিসাবও নজর কাড়ছে। মোট বিদেশি অবদানের একটি অংশ ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে খ্রিস্টান সংস্থাগুলো পেয়েছে ১,৩৪৫ কোটি টাকা। হিন্দু এনজিওগুলোর ভাগে এসেছে ৩২৮ কোটি টাকা। বৌদ্ধ সংস্থা পেয়েছে ৫১ কোটি এবং মুসলিম গোষ্ঠী পেয়েছে ১৯ কোটি টাকা। এই ব্যবধান নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি ঐতিহাসিকভাবে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্ক ও বিদেশি সংযোগের ফল।
অন্যরা স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগের প্রশ্ন তুলছেন। (foreign funding)মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, মোট অর্থের বড় অংশ সামাজিক কাজ ও শিক্ষা খাতে যায়। ধর্মীয় উদ্দেশ্যে যায় তুলনামূলকভাবে কম অংশ। তবুও ধর্মভিত্তিক বণ্টনের এই চিত্র অনেকের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে। সরকার বলছে, এফসিআরএ মূলত জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত আইন। বিদেশি অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।
সমালোচকরা অবশ্য বলছেন, কঠোর নিয়মের ফলে ছোট ও স্থানীয় সংস্থাগুলো চাপে পড়ছে, আর বড় ও সুপ্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলোই মূল সুবিধা পাচ্ছে।এক দশকে সংস্থার সংখ্যা অর্ধেক হওয়া সত্ত্বেও অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অনুদান এখন আরও কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে। কিছু সংস্থা বড় অঙ্কের অর্থ পাচ্ছে, আবার অনেক সংস্থা ছোট পরিসরে কাজ করছে। মন্ত্রকের হিসাবে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে অনেকটাই স্থির আমানতে রাখা।