শমীক-বিড়লা বৈঠক! বঙ্গে আরও বিনিয়োগের ইঙ্গিত - 24 Ghanta Bangla News
Home

শমীক-বিড়লা বৈঠক! বঙ্গে আরও বিনিয়োগের ইঙ্গিত

Spread the love

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠী (Aditya Birla Group)। রবিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান কুমারমঙ্গলম বিড়লা। রাজ্যে গোষ্ঠীর বর্তমান ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কুমারমঙ্গলম বিড়লার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রাজ্যে আরও বিনিয়োগ করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন কুমারমঙ্গলম বিড়লা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর যে সমস্ত ব্যবসা ইতিমধ্যেই রয়েছে, সেগুলিও কীভাবে আরও সম্প্রসারণ করা যায়, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির বার্তা

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শমীক ভট্টাচার্য কুমারমঙ্গলম বিড়লাকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য গোষ্ঠীকে আহ্বান জানানো হয়। রাজ্যে বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছিল।

বৈঠকের পর শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিড়লার সঙ্গে তাঁর আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে। শিল্পের সম্ভাবনা, রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান, দক্ষ মানবসম্পদ, বন্দর এবং যোগাযোগ পরিকাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান।

Advertisements


   


   

শিল্পপতিদের বাংলা ছাড়ার প্রসঙ্গও উঠে এল

পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের পরিবেশ নিয়ে আলোচনার সময় অতীতের শ্রমিক আন্দোলনের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। শমীক ভট্টাচার্য এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, অতীতে তীব্র শ্রমিক আন্দোলন এবং ঘেরাওয়ের মতো পরিস্থিতির কারণে আদিত্য বিক্রম বিড়লাকে ১৯৭৮ সালে কলকাতা থেকে তাঁর দফতর মুম্বইয়ে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় কলকাতায় ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের শাখার কাছে বিড়লাকে তাঁর গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁকে হেঁটে অফিসে যেতে হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সিঙ্ঘানিয়া ও থাপারদের মতো আরও কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীও তাদের সদর দফতর দিল্লি এবং অন্যান্য রাজ্যে সরিয়ে নেয় বলে তিনি দাবি করেন। তবে এই শিল্পগোষ্ঠীগুলির একাংশ রাজ্য ছাড়লেও আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসায়িক উপস্থিতি বজায় ছিল।

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, অতীতের সেই পরিস্থিতি সত্ত্বেও বিড়লা পরিবারের সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বর্তমান আলোচনাও ইতিবাচক হয়েছে।

অশোকনগরের তেল প্রকল্প নিয়েও তৎপরতা

এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে ওএনজিসির তেলক্ষেত্র পরিদর্শন করেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছেন, গত চার বছর ধরে এই প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন স্তরে কাজ করেছেন এবং সংসদে বিষয়টি তুলে ধরার পাশাপাশি ওএনজিসির আধিকারিকদের সঙ্গেও একাধিকবার আলোচনা করেছেন।

শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রাকৃতিক সম্পদের সুফল রাজ্যের মানুষের কাছে পৌঁছনো উচিত। অশোকনগরের প্রকল্পে বিজেপির কোনও কর্মী, সাংসদ বা বিধায়ক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করবেন না বলেও তিনি আধিকারিকদের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে রাজনীতি করার কোনও জায়গা থাকা উচিত নয়। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষেও তিনি সওয়াল করেন।

অশোকনগরে শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক তেল উৎপাদন

উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বাগাইছিতে ওএনজিসির তেলক্ষেত্র থেকে গত ২৮ আগস্ট বাণিজ্যিক ভাবে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১২ হাজার লিটার অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কারে করে হলদিয়া শোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

এই প্রকল্পকে পশ্চিমবঙ্গের জ্বালানি ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অশোকনগরের পাশাপাশি রানাঘাটে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান এবং বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রভিত্তিক তেল অনুসন্ধানের কথাও তুলে ধরেছেন শমীক ভট্টাচার্য।

তিনি অভিযোগ করেছেন, অতীতে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এই ধরনের প্রকল্পের কাজে বাধা তৈরি হয়েছিল। তাঁর দাবি, অশোকনগরের তেল প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পেট্রোলিয়াম মাইনিং লিজ দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ১৯টি চিঠি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, অশোকনগরের প্রকল্প পুরোপুরি চালু হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হতে পারে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে তেল, গ্যাস এবং অন্যান্য শিল্পে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

কুমারমঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক এবং সোমবার নবান্নে প্রস্তাবিত বৈঠকের দিকে তাই শিল্পমহলের নজর রয়েছে। আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে কতটা বিনিয়োগ করবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়, তা আগামী দিনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *