কাশি হচ্ছে না, তা সত্ত্বেও ফুসফুসে বাসা বাঁধতে পারে মারাত্মক রোগ! কখন সতর্ক হবেন?
সাধারণত বুকে সর্দি জমলে বা অনবরত কাশি হলে অনেকেই মনে করেন ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে। তবে কাশি না থাকা মানেই যে আপনার শ্বাসযন্ত্রটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও সুরক্ষিত, এমনটা ভেবে নেওয়ার কিন্তু কোনও কারণ নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, ফুসফুসের একাধিক রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে কোনও রকম কাশি ছাড়াই নীরবে বাসা বাঁধে। কাশি হলো একটি অ্যালার্ম বা সতর্কবার্তা, সুস্থতার সার্টিফিকেট নয়। কেবল কাশির উপর ভিত্তি করে ফুসফুসের স্বাস্থ্য বিচার করা যায় না।
কাশি না হলেও ফুসফুসে কোন রোগগুলি বাসা বাঁধতে পারে?
অ্যাজ়মা বা হাঁপানি
-
কাশি ছাড়াই রোগীর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকের মধ্যে সাঁইসাঁই শব্দ বা বুক চেপে ধরার মতো অনুভূতি হতে পারে।
-
ব্যায়াম করার সময়, ধুলো-দূষণের সংস্পর্শে এলে, রাতে কিংবা ভোরবেলা এই লক্ষণগুলো বাড়তে পারে। অনেকে একে সাধারণ অ্যালার্জি বা শারীরিক ফিটনেসের অভাব ভেবে ভুল করেন।
সিওপিডি
-
এতে কাশির চেয়েও হাঁপিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত।
-
সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময়, হাঁটার সময় বা সাধারণ কাজ করতে গিয়ে ঘন ঘন হাঁপিয়ে ওঠা এর অন্যতম লক্ষণ। ধূমপায়ীরা প্রায়শই এটিকে বয়সের ছাপ ভেবে এড়িয়ে যান।
ফুসফুসের ক্যান্সার
-
প্রাথমিক অবস্থায় ফুসফুসের ক্যান্সারের কোনও লক্ষণই প্রকাশ পায় না।
-
পরবর্তীকালে কফের সঙ্গে রক্ত ওঠা, বুকে ব্যথা, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা বারবার বুকে সংক্রমণ হতে পারে। ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে কাশি হওয়ার আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চিকিৎসকরা বলছেন, পালমোনারি ফাইব্রোসিস-এর মতো রোগে ফুসফুসের টিস্যু শক্ত ও ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। এই রোগে কাশি শুরু হওয়ার আগে রোগীর শারীরিক স্ট্যামিনা বা কর্মক্ষমতা কমতে থাকে। সামান্য শারীরিক পরিশ্রমেই বুক ধড়ফড় করে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আগে যে কাজ সহজে করা যেত, সমস্যা থাকলে সেই কাজ করতেই অস্বাভাবিক ক্লান্তি আসে। শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় বুকের ভিতর বাঁশির মতো শব্দ হয় বা বুক ভার হয়ে থাকে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
১. কোনও সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই শ্বাসকষ্ট বা হাঁপ ধরা।
২. ক্রমাগত শারীরিক ক্ষমতা কমে যাওয়া।
৩. বারবার বুকের সংক্রমণ হওয়া।
৪. কফের সঙ্গে রক্ত পড়া, বুকে ব্যথা।
৫. অস্বাভাবিক বা দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।