‘গুজরাট মডেলে পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি সম্ভব নয়!’ বার্তা শমীকের
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে নয়া বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের। (Shamik Bhattacharya)গুজরাতের উন্নয়ন মডেলকে হুবহু অনুসরণ না করে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব বাস্তবতা ও প্রয়োজন…
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে নয়া বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের। (Shamik Bhattacharya)গুজরাতের উন্নয়ন মডেলকে হুবহু অনুসরণ না করে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব বাস্তবতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নের পথ খোঁজার বার্তা দিলেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।
তাঁর বক্তব্য, গুজরাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু বাংলার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় সেই মডেলকে সরাসরি এখানে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। বরং রাজ্যের নিজস্ব সমস্যা, সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনকে সামনে রেখে একটি কার্যকর উন্নয়ন কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।
আরও দেখুনঃ যাদবপুরে সুখবর! রাজ্যসরকারের তরফ থেকে অনুমোদন ২৫০ কোটি
শনিবার কলকাতার নিউটাউনে আইআইটি খড়গপুর রিসার্চ পার্কে আয়োজিত ‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ফর ইস্ট’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় (Shamik Bhattacharya)এই মন্তব্য করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে গুজরাতের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর সময়কালে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় স্তরেও মোদীর অর্থনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
Advertisements
তবে গুজরাতের উন্নয়নের অভিজ্ঞতার কথা বললেও শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দেন যে বাংলার উন্নয়নের জন্য কোনও একটি রাজ্যের মডেলকে সরাসরি কপি করা উচিত নয়। তাঁর মতে, প্রতিটি রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার কাঠামো, শিল্পের পরিকাঠামো, কৃষি ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের ধরন এবং সামাজিক বাস্তবতা একে অপরের থেকে আলাদা। ফলে গুজরাতে যে নীতি বা পরিকল্পনা কার্যকর হয়েছে, সেটি একইভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রয়োগ করলে একই ফল মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, গুজরাতের মডেল থেকে বাংলাকে শিক্ষা নিতে হবে। কিন্তু সেই শিক্ষাকে বাংলার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবহার করতে হবে। (Shamik Bhattacharya)অর্থাৎ অন্য রাজ্যের সাফল্যের অভিজ্ঞতা থেকে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি গ্রহণ করে নিজেদের সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন পথ তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর মতে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনুকরণ নয়, বরং অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজস্ব সমাধান খোঁজাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।
এদিনের অনুষ্ঠানেও মূলত উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং নতুন ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই বাংলার উন্নয়ন নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতির বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শিল্প ও বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
বাংলার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়ন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু। নতুন শিল্পে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার প্রসার, স্টার্টআপ এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শমীক ভট্টাচার্যের ‘নিজস্ব মডেল’ তৈরির বক্তব্য সেই বৃহত্তর বিতর্ককেই সামনে নিয়ে এসেছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলার উন্নয়নের জন্য প্রথমে রাজ্যের নিজস্ব শক্তি এবং সীমাবদ্ধতাগুলিকে চিহ্নিত করা দরকার। তারপর অন্য রাজ্যের সাফল্যের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে তার মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলার নিজস্ব সম্পদ, মানবসম্পদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন।