সিকিম সীমান্তে চিনা বাহিনীর হাতে ভারতীয় গোয়েন্দাদের আটক হওয়ার অভিজ্ঞতা জানালেন দোভাল
রুরকির IIT-র সমাবর্তনে নিজের গোয়েন্দা জীবনের (Ajit Doval)একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। তরুণ বয়সে সিকিমে গোয়েন্দা দায়িত্বে…
রুরকির IIT-র সমাবর্তনে নিজের গোয়েন্দা জীবনের (Ajit Doval)একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। তরুণ বয়সে সিকিমে গোয়েন্দা দায়িত্বে থাকাকালীন কীভাবে চিনা সেনার হাতে ভারতীয় গোয়েন্দা দলের সদস্যদের বন্দি হওয়ার ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছিল, সেই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন তিনি।
দোভালের (Ajit Doval)বক্তব্য অনুযায়ী, তখন তিনি কুড়ির কোঠায় থাকা এক তরুণ IPS অফিসার এবং গোয়েন্দা পেশায় সদ্য প্রবেশ করেছেন। সিকিমে তাঁকে গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় তাঁর কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি চালানো এবং চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি বা PLA-র গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।
আরও দেখুনঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান পেল না! ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে সসম্মানে কেন জিন্নাহর ছবি?
সমাবর্তনে নিজের সেই সময়কার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে দোভাল জানান, একবার সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি গোয়েন্দা মিশনে কয়েকজন সদস্যকে পাঠানো হয়েছিল। সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল।
Advertisements
কিন্তু পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁদের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। এরপর দশ দিন, তারপর প্রায় ১৫ দিন কেটে যায়। অথচ তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। কোনও তুষারধস বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবরও পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি তাঁর কাছে শুধু পেশাগত দিক থেকেই নয়, মানবিক কারণেও অত্যন্ত উদ্বেগের হয়ে ওঠে।
দোভাল (Ajit Doval)বলেন, সেই সময় তিনি বুঝতে পারছিলেন না ওই দলের সদস্যরা আদৌ জীবিত রয়েছেন কি না। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই তিনি সদর দফতর থেকে একটি ফোন পান। তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কি কয়েকজনকে সীমান্তের ওপারে পাঠিয়েছিলেন। দোভাল জানান, তিনি নিশ্চিত ছিলেন না, তবে তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। তখন তাঁকে জানানো হয় যে ওই সদস্যরা চিনা হেফাজতে রয়েছেন। দোভালের বক্তব্য অনুযায়ী, চিনা বাহিনী তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
পরবর্তীতে আলোচনা বা কোনও ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে ওই সদস্যদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দোভাল জানান। তবে তাঁরা যখন ফিরে আসেন, তখন তাঁদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল বলে তাঁর বর্ণনা। ঘটনাটির পর একটি তদন্ত শুরু হয়। তরুণ দোভালের মনে তখন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে এই ঘটনা হয়তো তাঁর কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটাতে পারে। তিনি জানান, তখন তাঁর বয়স কুড়ির কোঠায় এবং তাঁকে নতুন করে অন্য কোনও পেশাগত পথ শুরু করতে হতে পারে বলেও মনে হয়েছিল।
তদন্ত চলাকালীন ঘটনাটিকে তিনি নিজের দৃষ্টিতে অত্যন্ত অপেশাদার একটি ঘটনা হিসেবে দেখেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তদন্তে তাঁকে দায়ী করা হয়নি। (Ajit Doval)তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে উঠে আসে যে তিনি নিজের দায়িত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপই করেছিলেন। বরং সদর দফতর থেকে তাঁদের যে স্কেচ ও মানচিত্র দেওয়া হয়েছিল, তাতেই কিছু ত্রুটি এবং ভুল ছিল। সেই ভুল তথ্যের কারণেই গোয়েন্দা মিশনটি বিপদের মুখে পড়েছিল বলে তিনি জানান।
অজিত দোভালের কর্মজীবনের সঙ্গে গোয়েন্দা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৭২ সাল থেকে Intelligence Bureau-তে কাজ করেন এবং পরবর্তীতে সংস্থাটির ডিরেক্টর হন। তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে উত্তর-পূর্ব ভারত, সিকিম, জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং পাকিস্তান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করার কথাও সরকারি সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।