মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর শর্ত উপেক্ষা করেই শেষ তৃণমূল! - 24 Ghanta Bangla News
Home

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর শর্ত উপেক্ষা করেই শেষ তৃণমূল!

Spread the love

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই ভাঙ্গন শুরু হয়েছিল তৃণমূল( Political Crisis)। দলের প্রতীকের অধিকারী কে হবেন মমতা না ঋতব্রত তা নিয়েও চলছিল টানা…

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই ভাঙ্গন শুরু হয়েছিল তৃণমূল( Political Crisis)। দলের প্রতীকের অধিকারী কে হবেন মমতা না ঋতব্রত তা নিয়েও চলছিল টানা পোড়েন। শেষমেশ উপনির্বাচনের আগেই তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মমতার হাত থেকে চলে গিয়েছে প্রতীক। নন্দীগ্রামের মত কেন্দ্রে হারার আগেই হেরে বসে আছেন মমতা। নিজের প্রার্থী প্রত্যাহার করে সেখানে কংগ্রেসকে সমর্থনের ডাক দিয়েছেন তিনি। তবে সর্বহারা মমতা এবং তৃণমূল সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দলের বর্ষীয়ান নেতা এবং বিধায়ক মদন মিত্র।

মদন মিত্রের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে সরানো নিয়ে যে অনুরোধ করা হয়েছিল, তা যদি মান্য করা হত তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হত না। গত জুনের পরাজয়ের পর কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁরা চেয়েছিলেন দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধান হোক।

আরও দেখুনঃ বিমানপরিবহনে ইতিহাস গড়তে কল্যাণীতে গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরের জমি অধিগ্রহনের পথে সরকার

পরাজয়ের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও উঠেছিল( Political Crisis)। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে দল থেকে সরাতে হবে। তাহলে তৃণমূল অটুট থাকবে। এই দুই নেতা মমতাকে এই বিষয়ে জানিয়েছিলেন।মদন মিত্র স্পষ্ট করে বলেছেন, এই প্রস্তাব মমতা মানেননি। তাঁর মতে, অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও দল থেকে তাকে বহিস্কার করেননি মমতা।

Advertisements


   


   

মমতা নিজেও বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে সব পক্ষের কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি দলকে একজোট রাখতে চেয়েছিলেন। তবে গণনার দিন তিনি যে কথা বলেছিলেন, তা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। অতি দর্প হলে লজ্জা দস্তুর, সেই দস্তুরই যেন চূড়ান্ত হয়েছে।তৃণমূলের অভ্যন্তরে এখন গভীর সংকট। প্রতীক হারানোর পর দলের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় যে দল গড়ে তুলেছিলেন, সেই দল এখন ভেঙে পড়ার মুখে। উপনির্বাচনে নিজের প্রার্থী তুলে নিয়ে কংগ্রেসের প্রতি সমর্থন জানানোকে অনেকেই রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন। মদন মিত্রের মন্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ। তিনি বলেছেন, অভিষেককে যদি সর্বভারতীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হত, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হত।

কিন্তু সেই সুযোগ নেওয়া হয়নি।জ্যেষ্ঠ নেতারা এখন দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কেউ কেউ মনে করছেন, নেতৃত্বের অহংকারই দলকে এই পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। মমতা একসময় বাংলার রাজনীতিতে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন। এখন তিনি যেন সর্বহারা। ( Political Crisis)প্রতীকহীন তৃণমূল আর আগের তৃণমূল নয়। মদন মিত্রের কথায় ধরা পড়েছে সেই বাস্তবতা। দলের অন্দরে যখন ভাঙন ধরে, তখন বাইরের প্রতিদ্বন্দ্বীরা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তৃণমূলের এই সংকট শুধু দলের নয়, বাংলার রাজনীতির ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *