ফুল গেল, প্রার্থীও গেল, চাপের মুখে ‘হাতের’ শরণেই মমতা
মমতা এ দিন জানান, নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত তিনি আগেই নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘কংগ্রেসের প্রার্থী ভালো। তাই আগেই ঠিক করেছিলাম, সমর্থন করব।’ এ প্রসঙ্গেই মমতার সংযোজন, ‘রাহুল গান্ধী আমাকে ফোন করেছিলেন। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত আগে নিলেও রাহুলকে জানাইনি। এটা ওঁর জন্য একটা সারপ্রাইজ়।’
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, মমতা যদি কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে থাকেন, তা হলে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতাকে লড়তে পাঠিয়েছিলেন কেন? প্রদেশ কংগ্রেসও এ ক্ষেত্রে দুইয়ে দুইয়ে চার করতে পারছে না। বাংলার প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের একাংশের প্রশ্ন, নন্দীগ্রামে তো মমতা প্রার্থী দিয়েছিলেন। সঞ্চিতা মনোনয়ন প্রত্যাহার না–করলেও কি মমতা কংগ্রেসকে সমর্থন করতেন? নিজের প্রার্থী হাতছাড়া হওয়ার পরে কি মমতার মনে হয়েছে কংগ্রেস ‘সিস্টার পার্টি’?
প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরির কথায়, ‘কেউ যদি যেচে আমাদের সমর্থন করেন, তা হলে তো কিছু বলার থাকে না। কিন্তু উনি (মমতা) তো লড়ার জন্যই নন্দীগ্রামে প্রার্থী দিয়েছিলেন। তিনি পালিয়ে গেলে দিদি–ই বা কী করবেন! দিদির এখন মনে হয়েছে নাই মামার থেকে কানা মামা ভালো।’ তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী, ‘রেজিনগরের প্রার্থী পালালে দিদিকে হয়তো সেখানেও কংগ্রেসকেই সমর্থন জানাতে হবে। উনি এক সময়ে ভেবেছিলেন কংগ্রেসকে সাইনবোর্ড করবেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।’ প্রসঙ্গত, মমতা এ দিন নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করলেও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তাঁর দলের অবস্থান খোলসা করেননি।