৮০ হাজার বেতনেও সরকারি চাকরি ছাড়ার ভাবনা, বেঙ্গালুরুর কর্মীকে ঘিরে বিতর্ক
Government Jobs: মাসে ৮০ হাজার টাকা বেতন, গ্রুপ বি পদ, চাকরির নিরাপত্তা, পেনশন বা এনপিএসের মতো সুবিধা এবং সামাজিক মর্যাদা। এত কিছু থাকার পরও সরকারি চাকরি ছেড়ে বেসরকারি ক্ষেত্রে যাওয়ার কথা ভাবছেন ৩৪ বছরের এক মহিলা কর্মী। বেঙ্গালুরুতে কর্মরত ওই মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের পরিস্থিতি তুলে ধরে অন্যদের পরামর্শ চেয়েছেন। তাঁর পোস্ট ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
ওই কর্মীর দাবি, শীঘ্রই তাঁর গ্রুপ এ পদে পদোন্নতি হওয়ার কথা। কিন্তু তারপরও তিনি মনে করছেন, তাঁর পেশাগত উন্নতির জায়গা ক্রমশ সীমিত হয়ে আসছে। তাই নিরাপদ সরকারি চাকরিতে থেকে যাবেন, নাকি নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বেসরকারি ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ খুঁজবেন, সেই প্রশ্নই তাঁকে ভাবাচ্ছে।
৮০ হাজার টাকা বেতনেও কেন অসন্তুষ্ট?
ওই মহিলা লিখেছেন, বর্তমান জীবনযাত্রার খরচ এবং মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতিতে মাসে ৮০ হাজার টাকা তাঁর এবং পরিবারের জন্য যে ধরনের জীবন চান, তা তৈরি করার জন্য যথেষ্ট বলে মনে হচ্ছে না। বিশেষ করে বেঙ্গালুরুর মতো শহরে জীবনযাত্রার খরচ বেশি হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে তাঁর দাবি।
তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী। নতুন কিছু শেখা, বড় দায়িত্ব নেওয়া এবং এমন পেশায় কাজ করা তাঁর লক্ষ্য, যেখানে কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে দ্রুত উন্নতির সুযোগ থাকবে।
Advertisements
কিন্তু সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি অনেকটাই নির্দিষ্ট সময়ের কাঠামোর উপর নির্ভরশীল বলে তাঁর মনে হচ্ছে। ফলে বেশি দায়িত্ব নেওয়া বা অতিরিক্ত দক্ষতা দেখালেও সেই অনুযায়ী দ্রুত আর্থিক উন্নতি বা পদোন্নতির সুযোগ সীমিত।
‘৪৫ বছর বয়সে যেন আফসোস না হয়’
ওই কর্মী আরও জানিয়েছেন, তিনি কোনও সাময়িক হতাশার কারণে চাকরি ছাড়তে চান না। তাঁর আসল চিন্তা ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, ৪৫ বছর বয়সে গিয়ে যেন তাঁকে এই আফসোস না করতে হয় যে শুধুমাত্র চাকরির নিরাপত্তার কারণে এমন একটি পেশায় থেকে গিয়েছিলেন, যেখানে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আরও অনেক কিছু করতে চেয়েছিলেন। তবে চাকরি ছাড়লে কী কী হারাতে পারেন, সে বিষয়েও তিনি যথেষ্ট সচেতন। সরকারি চাকরির নিরাপত্তা, পেনশন বা এনপিএস সুবিধা, তুলনামূলক পূর্বানুমানযোগ্য কর্মজীবন এবং দীর্ঘদিন ধরে বহু মানুষের কাঙ্ক্ষিত এই চাকরির সুযোগ ছেড়ে দিতে হবে তাঁকে।
কর, নিয়ন্ত্রক বিষয় থেকে নীতি নির্ধারণে সুযোগ
বেসরকারি ক্ষেত্রে গেলে নিজের সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করছেন ওই মহিলা। তাঁর মতে, কর ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক বিষয়, জননীতি এবং কমপ্লায়েন্সের মতো ক্ষেত্রে সরকারি অভিজ্ঞতা বেসরকারি সংস্থার কাছে মূল্যবান হতে পারে।
তাঁর বক্তব্য, নতুন ক্ষেত্রে গেলে হয়তো দ্রুত শেখার এবং বড় দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ মিলতে পারে। একইসঙ্গে কর্মদক্ষতার সঙ্গে আর্থিক উন্নতির যোগসূত্রও তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অধিকাংশ পরামর্শ চাকরি না ছাড়ার পক্ষে
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর বহু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী তাঁকে সরকারি চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরির নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে কম এবং সাম্প্রতিক সময়ে ছাঁটাই নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
একজন নিজেকে প্রাক্তন মহারত্ন সংস্থার কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, সরকারি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আরেকজন জানান, তাঁর ভাই বেসরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেন এবং চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে নিয়মিত চিন্তায় থাকেন।
অন্য এক ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, গত ছয় বছরে তিনি দু’বার ছাঁটাইয়ের মুখে পড়েছেন। এমনকি সংস্থার শীর্ষ কর্মীদের তালিকায় থাকার পরও খরচ কমানোর সিদ্ধান্তের কারণে চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। আরেকজনের পরামর্শ, সরকারি চাকরি না ছেড়ে পাশাপাশি নিজের কোনও উদ্যোগ তৈরি করা যেতে পারে।
নিরাপত্তা বনাম দ্রুত পেশাগত উন্নতি
পুরো ঘটনাটি আসলে সরকারি ও বেসরকারি চাকরির দুটি ভিন্ন সুবিধার মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্নটি সামনে এনেছে। সরকারি চাকরিতে সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও নির্দিষ্ট পরিষেবা সুবিধার গুরুত্ব বেশি, অন্যদিকে বেসরকারি ক্ষেত্রে দ্রুত দায়িত্ব বৃদ্ধি, কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে উন্নতি এবং বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা কিছু ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে।
তবে কোনও চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তির আর্থিক পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, নতুন চাকরির নিশ্চয়তা এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও কোনও নির্দিষ্ট কর্মীর পরিস্থিতির জন্য নিশ্চিত সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়।
৩৪ বছরের ওই সরকারি কর্মীর প্রশ্ন তাই শুধু চাকরি ছাড়বেন কি না, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি। নিরাপদ ও স্থিতিশীল কর্মজীবন, নাকি বেশি ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত পেশাগত উন্নতির চেষ্টা, এই দুই পথের মধ্যে কোন ভারসাম্য একজন কর্মীর জন্য উপযুক্ত, তা নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?
Read More: Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা
Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও