মিরাজ-২০০০-এ ‘দেশি’ শক্তি! Uttam AESA রাডারে আরও ভয়ংকর হতে পারে ভারতীয় বায়ুসেনা - 24 Ghanta Bangla News
Home

মিরাজ-২০০০-এ ‘দেশি’ শক্তি! Uttam AESA রাডারে আরও ভয়ংকর হতে পারে ভারতীয় বায়ুসেনা

Spread the love

নয়াদিল্লি: ভারতীয় বায়ুসেনার সামনে এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল (Mirage 2000)প্রয়োজনীয় সংখ্যক যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন ধরে রাখা। অনুমোদিত ৪২টি কমব্যাট স্কোয়াড্রনের তুলনায় বর্তমানে বায়ুসেনার হাতে সংখ্যা…

নয়াদিল্লি: ভারতীয় বায়ুসেনার সামনে এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল (Mirage 2000)প্রয়োজনীয় সংখ্যক যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন ধরে রাখা। অনুমোদিত ৪২টি কমব্যাট স্কোয়াড্রনের তুলনায় বর্তমানে বায়ুসেনার হাতে সংখ্যা কম। এই পরিস্থিতিতে হাতে থাকা যুদ্ধবিমানগুলির যুদ্ধক্ষমতা যতটা সম্ভব বাড়িয়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেই কারণেই পুরনো হলেও পরীক্ষিত মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানে দেশীয় প্রযুক্তির Uttam AESA রাডার বসানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞ মহলে এই ধরনের আপগ্রেডকে তুলনামূলক কম খরচে মিরাজের যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও দেখুনঃ INS কলকাতা সম্পূর্ণ নিরাপদ! পাকিস্তানকে তুলোধোনা বিদেশমন্ত্রকের

ফরাসি সংস্থা Dassault-এর তৈরি মিরাজ-২০০০ দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান। আগামী প্রায় এক দশক এই বিমানগুলি পরিষেবায় থাকার পর ধীরে ধীরে Tejas Mk2 এবং ভবিষ্যতের Advanced Medium Combat Aircraft বা AMCA-র মতো নতুন প্রজন্মের প্ল্যাটফর্ম জায়গা নিতে পারে। ফলে অল্প সময়ের জন্য সম্পূর্ণ নতুন বিদেশি যুদ্ধবিমান কেনার পরিবর্তে বর্তমানে থাকা মিরাজগুলিকে আধুনিক করে তোলার বিষয়টি অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Advertisements


   


   

এই সম্ভাব্য আপগ্রেডের কেন্দ্রে রয়েছে DRDO-র তৈরি Uttam Active Electronically Scanned Array বা AESA রাডার। আধুনিক আকাশযুদ্ধে কোনও যুদ্ধবিমানের জন্য রাডার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শত্রু বিমানকে কত দূর থেকে শনাক্ত করা যাচ্ছে, একই সঙ্গে কতগুলি লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করা যাচ্ছে এবং শত্রুর ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মধ্যেও সেন্সর কতটা কার্যকর থাকছে—এসব বিষয় সরাসরি যুদ্ধবিমানের কার্যক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত।

মিরাজ-২০০০-এর বর্তমান সেন্সর ব্যবস্থার জায়গায় AESA প্রযুক্তির রাডার ব্যবহার করা গেলে বিমানের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বা situational awareness উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। যান্ত্রিকভাবে ঘোরানো অ্যান্টেনার পরিবর্তে AESA রাডার ইলেকট্রনিকভাবে বিম তৈরি ও পরিচালনা করতে পারে।

ফলে একই সময়ে বিভিন্ন লক্ষ্য শনাক্ত ও ট্র্যাক করা এবং দ্রুত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা সহজ হয়। ওপেন-সোর্স তথ্য অনুযায়ী, Uttam রাডার একসঙ্গে প্রায় ৫০টি লক্ষ্য ট্র্যাক করতে পারে এবং ১০ বর্গমিটারের Radar Cross Section-যুক্ত লক্ষ্যবস্তু ২৪০ কিলোমিটারের বেশি দূর থেকেও শনাক্ত করার সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে নির্দিষ্ট কনফিগারেশনে প্রকৃত কর্মক্ষমতা আলাদা হতে পারে।

শুধু রাডার বদলালেই অবশ্য যুদ্ধবিমানের ক্ষমতা পুরোপুরি বদলে যায় না। (Mirage 2000)সেই সেন্সরের সঙ্গে অস্ত্র ব্যবস্থার সামঞ্জস্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গাতেই দেশীয় Astra ক্ষেপণাস্ত্র পরিবারের সম্ভাব্য ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। Astra Mk1 ইতিমধ্যেই ভারতের দেশীয় Beyond Visual Range বা BVR এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভবিষ্যতে Astra Mk2 আরও দীর্ঘ পাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করলে উন্নত AESA রাডারের সঙ্গে তার সমন্বয় যুদ্ধবিমানের কার্যক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে।

এমন আপগ্রেডের আর একটি বড় সুবিধা হতে পারে আমদানিনির্ভরতা কমানো। বিদেশি রাডার ও অস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মূল নির্মাতার উপর রক্ষণাবেক্ষণ, সফটওয়্যার আপডেট এবং ভবিষ্যৎ অস্ত্র সংযুক্তির ক্ষেত্রে নির্ভরতা তৈরি হতে পারে। দেশীয় Uttam প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে ভবিষ্যতে অস্ত্র ও মিশন কম্পিউটার সংক্রান্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *