পরমাণু নজরদারিতে আমেরিকার দাদাগিরিতে ধাক্কা, ইরান ইস্যুতে রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়া চিনের ভেটো
রাষ্ট্রসঙ্ঘে বড় ধাক্কা খেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে কার্যত কূটনৈতিক হার আমেরিকার। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে আমেরিকার দাদাগিরি এবার হয়ত কিছুটা হলেও কমবে বলে…
রাষ্ট্রসঙ্ঘে বড় ধাক্কা খেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে কার্যত কূটনৈতিক হার আমেরিকার। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে আমেরিকার দাদাগিরি এবার হয়ত কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। জানা গিয়েছে ইরানের ওপর জারি হওয়া পরমাণু সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ আরও ১ বছর বাড়ানোর মার্কিন প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে চিন ও রাশিয়া।
শেষ পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এই প্রস্তাবের পক্ষে পড়েছিল ১১টি ভোট। তবে সোমালিয়া ও পাকিস্তান ভোট দেয়নি। রাশিয়া ও চিন বিপক্ষে ভোট দেয়। এই ভেটোর ফলে বেশ কিছুটা হলেও ধাক্কা খেল আমেরিকার নজরদারি। নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে আটকে গেল মার্কিন প্রস্তাব। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য প্রস্তাবের পক্ষ নিলেও রাশিয়া ও চিন ভেটো প্রয়োগ করার ফলে তা আটকে যায়।
তবে এর ফলে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে না। শুধু মাত্র নজরদারির প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির আওতায় থাকা স্ন্যাপব্যাক প্রসেস চালু করার পরেই পুরোনো নিষেধাজ্ঞাগুলি জারি করা হয়। এদিকে আমেরিকা চেয়েছিল বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বাড়িয়ে নজরদারির সময় বাড়াতে। সেই আশায় জল ঢেলে দিল রাশিয়া ও চিন।
কেন আপত্তি করছে রাশিয়া ও চিন? এই দুই দেশের দাবি স্ন্যাপব্যাক প্রসেসে কারচুপি রয়েছে। রয়েছে আইনী সমস্যাও। তবে এই দাবি মানতে নারাজ আমেরিকা। ফলে জটিলতা বাড়ছে। এদিকে, রাশিয়া ও চিনের ভেটোকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। তেহরানের রাষ্ট্রসঙ্ঘ মিশন দুই দেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
Advertisements
যদিও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা রয়েছে। ইরানে মজুত করা ইউরেনিয়াম ও তাদের স্বাধীন ভাবে পরমাণু প্রকল্প চালিয়ে য়াওয়াকে ভালো চোখে দেখছে না আমেরিকা। তাই ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন ও আমেরিকার মধ্যে বিকল্প নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ভেটো প্রয়োগের ফলে সেই উদ্যোগে ধাক্কা লাগল, তা বলাই বাহুল্য।