দেশের খনিজ মানচিত্রে নয়া সংযোজন পুরুলিয়া বদলে দেবে দেশের অর্থনীতি
কলকাতা: দেশের খনিজ মানচিত্রে নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে বাংলার পুরুলিয়া(Purulia)। কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি সংসদে নিশ্চিত করেছে যে এই জেলায় গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল মৃত্তিকা খনিজের…
কলকাতা: দেশের খনিজ মানচিত্রে নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে বাংলার পুরুলিয়া(Purulia)। কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি সংসদে নিশ্চিত করেছে যে এই জেলায় গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল মৃত্তিকা খনিজের উল্লেখযোগ্য মজুদ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ঝালদা -২ ব্লকে প্রায় ১.৭৮ লাখ টন আকরিক খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, যাতে রয়েছে সিজিয়াম, লিথিয়াম ও রুবিডিয়াম।
এই আকরিকে সিজিয়ামের পরিমাণ শূন্য দশমিক চার শতাংশ, লিথিয়াম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ এবং রুবিডিয়াম শূন্য দশমিক এক শতাংশ। মোট ধাতব উপাদানের পরিমাণ শূন্য দশমিক আট শতাংশ ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে কালাপাথর-রঘুডিহ ব্লকে প্রায় শূন্য দশমিক সাতষট্টি মিলিয়ন টন বিরল মৃত্তিকা সম্পদের অনুমান করা হয়েছে। এই আবিষ্কারকে কেন্দ্রের তরফে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ ভারত এখন গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।
আরও দেখুনঃ ‘ভোট চুরি, সরকার চুরির পর এবার পার্টি চুরি!’ নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ রাহুলের
লিথিয়াম আজকের দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি থেকে শুরু করে নবায়নযোগ্য শক্তি ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য অত্যন্ত জরুরি। (Purulia)সিজিয়াম ও রুবিডিয়ামও বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তির কাজে ব্যবহৃত হয়। বিশ্ববাজারে এসব খনিজের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে, আর ভারত এখনও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমদানির উপর নির্ভরশীল। পুরুলিয়ার এই মজুদ সেই নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
Advertisements
যদিও পরিমাণ তুলনামূলকভাবে ছোট, তবুও এর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। ঝালদা -২ ব্লকটি ইতিমধ্যেই নিলামের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকা রেলপথ, জাতীয় সড়ক ও রাঁচি বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় খনি উত্তোলনের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে।কালাপাথর-রঘুডিহ ব্লকের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের সম্মতি পাওয়া গেছে এবং এটি কম্পোজিট লাইসেন্সের জন্য নিলামে তোলা হয়েছে।
ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া গত কয়েক বছর ধরে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় একাধিক প্রকল্প চালিয়েছে।(Purulia) পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় মোট দশটি সম্ভাব্য বিরল খনিজ প্রকল্প বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পুরুলিয়ার উত্তর ও দক্ষিণ শিয়ার জোন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরল মৃত্তিকা ও সংশ্লিষ্ট খনিজের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছিল।
স্থানীয় ভূবিজ্ঞানীরাও এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।এই আবিষ্কার স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। পুরুলিয়ার অনেক যুবক এখনও কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে বাধ্য হন। খনি উত্তোলন শুরু হলে স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়তে পারে। তবে পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষা করেই এগোতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
টেকসই উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিও হতে পারে। ভারত ইতিমধ্যেই জাতীয় ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন শুরু করেছে, যার লক্ষ্য হলো অনুসন্ধান থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা। পুরুলিয়ার এই সম্পদ সেই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হতে পারে।