Noel Tata on N Chandrasekaran: রতন টাটার বিশ্বাসভাজন চন্দ্রশেখরনকে নিয়ে কেন ঘোর আপত্তি নোয়েল টাটার? | It Was His Own Decision, Why Noel Tata Opposed N Chandrasekaran’s re appointment as TATA Sons Executive Chairman?
কেন চন্দ্রশেখরনকে নিয়ে আপত্তি নোয়েল টাটার?Image Credit: PTI
নয়া দিল্লি: টাটা সন্সের এগজেকিউটিভ চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফার কথা ঘোষণা করেছিলেন এক মাস আগেই। আজ সেই এন চন্দ্রশেখরনকেই ফের একবার টাটা সন্সের দায়িত্বে পুনর্বহালের জন্য ভোট দিল বোর্ড সদস্যরা। একমাত্র আপত্তি জানিয়েছেন নোয়েল টাটা। এন চন্দ্রশেখরনকে পুনরায় এগজেকিউটিভ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া প্রসঙ্গেও মুখ খুললেন তিনি।
আজই টাটা সন্সের বোর্ড মিটিংয়ে এন চন্দ্রশেখরনকে আরও পাঁচ বছরের জন্য এগজেকিউটিভ চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের সপক্ষে ভোট দেওয়া হয়। এরপরই নোয়েল টাটা মুখ খুললেন। জানালেন, পুনর্বহাল যাতে না করা হয়, সেই সিদ্ধান্ত খোদ চন্দ্রশেখরনই নিয়েছিলেন।
কেন পদ ছেড়েছিলেন এন চন্দ্রশেখরন?
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে টাটা সন্সের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এন চন্দ্রশেখরন। সেই সময় রতন টাটা এগজেকিউটিভ চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়াতেই, তাঁকে (এন চন্দ্রশেখরন) অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। আগামী ২০২৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চন্দ্রশেখরনের পদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তিনি গত অগস্ট মাসেই জানিয়েছিলেন তিনি এই পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। আর এই পদে থাকবেন না।
কী বলছেন নোয়েল টাটা?
এ দিন নোয়েল টাটাও বিবৃতি দিয়ে বলেন, “ওটা ওঁর (চন্দ্রশেখরন) নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল। উনি মুক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং স্পষ্টভাবে সেটি প্রকাশও করেছিলেন। বোর্ড থেকে তাঁর ইস্তফা চাওয়া হয়নি, বোর্ডের রেজিলিউশনেও এই বিষয়টি ছিল না, এটা কোনও রিভিউ প্রসেসের অংশও ছিল না।”
জনসমক্ষে খুব একটা না এলেও, বহু বছর ধরেই টাটা গ্রুপের নানা বোর্ডের সদস্য ছিলেন নোয়েল টাটা। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে রতন টাটার প্রয়াণের পরই টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান পদে বসেন তাঁর সৎ ভাই নোয়েল টাটা।
টাটা সন্সের ৬৬ শতাংশ অংশিদারী রয়েছে টাটা ট্রাস্টের হাতে। টাটা ট্রাস্ট সরাসরি টাটা সন্সের নিত্যদিনের কাজে নাক না গলালেও, গ্রুপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
এন চন্দ্রশেখরনকে নিয়ে কেন আপত্তি নোয়েল টাটার?
নোয়েল টাটার বক্তব্য, চন্দ্রশেখরনের ইস্তফার সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আনা হয় এবং কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে আগে কোনও আলোচনা করা হয়নি। বিশেষ করে ৬৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক টাটা ট্রাস্টের সঙ্গেও এ বিষয়ে কোনও আলোচনা করা হয়নি।
নোয়েল টাটা বলেন, “আমি বিষয়টি তুলছি কারণ এই ধরনের সিদ্ধান্ত একবার প্রকাশ্যে চলে এলে তার কিছু প্রভাব তৈরি হয়, যা পরে বোর্ড চাইলেও আর ফিরিয়ে নিতে পারে না। কোম্পানির কর্মী, ঋণদাতা, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং বাজার- সকলেই সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এগিয়ে গিয়েছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডারও সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। তাই এখন আর পিছনে ফেরার সুযোগ নেই।”
৬৮ বছর বয়সী নোয়েল টাটার দাবি, চন্দ্রশেখরনকে ফের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করার সিদ্ধান্তে তাঁর নিজের আগে জানানো সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার যে সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন এবং কোম্পানিকে যে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছিলেন, সেটিও কার্যত বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
এরপরই নোয়েল টাটা আপত্তি তোলেন। তাঁর বক্তব্য, আগে একটি বিষয় মীমাংসা করা দরকার। কোম্পানির চেয়ারম্যান পদটি কোম্পানিরই কোনও এক জন ডিরেক্টরের হাতে থাকে। কিন্তু চন্দ্রশেখরনের ডিরেক্টর পদে থাকা নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা রয়েছে। যে জেনারেল মিটিংয়ে তাঁর ডিরেক্টর পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল, প্রয়োজনীয় কোরাম না থাকায় সেই মিটিং-ই হতে পারেনি। তাই সেই বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। নোয়েল টাটা বলেন, “ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়লে যেমন হয়, এখানেও তেমনই হবে।”
এরপর তিনি আরও একটি বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন, যা ভবিষ্যতে কোম্পানিকে আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে। নোয়েল টাটার বক্তব্য, এখন যদি চেয়ারম্যান পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরে দেখা যায় যে ওই ব্যক্তির ডিরেক্টর পদ নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে, তাহলে যে কোনও শেয়ারহোল্ডার সেই সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। তাঁর মতে, কোনও পরিস্থিতিতেই কোম্পানির নিজেদের এমন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা উচিত নয়।
নোয়েল টাটা আরও বলেন, “টাটা ট্রাস্ট চন্দ্রশেখরনের আগের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল এবং শেয়ারহোল্ডাররাও সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছিলেন। তাই এখন সেই সিদ্ধান্ত মেনে সামনে এগিয়ে যাওয়াই উচিত।”
তিনি বলেন, “টাটা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ১২ অগস্টের চিঠিতে চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন, তা যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেটি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। চেয়ারম্যান নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন, শেয়ারহোল্ডাররাও তা মেনে নিয়েছেন। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।”