শুক্র কি তার নিজের চাঁদকেই গ্রাস করে ফেলে? পৃথিবীর যমজ গ্রহটি কেন জনশূন্য জানুন
Venus: পৃথিবী ও শুক্র গ্রহ অনেক দিক থেকেই একে অপরের বেশ সদৃশ; আকার, ভর এবং অভ্যন্তরীণ গঠনের দিক থেকে এদের মধ্যে মিল রয়েছে। তবে এই…
Venus: পৃথিবী ও শুক্র গ্রহ অনেক দিক থেকেই একে অপরের বেশ সদৃশ; আকার, ভর এবং অভ্যন্তরীণ গঠনের দিক থেকে এদের মধ্যে মিল রয়েছে। তবে এই দুটির মধ্যে একটি বড় পার্থক্যও রয়েছে: পৃথিবীর একটি চাঁদ আছে, অথচ শুক্রের কোনও প্রাকৃতিক উপগ্রহ নেই।
বিজ্ঞানীরা এখন এই রহস্য নিয়ে একটি নতুন প্রকল্প বা হাইপোথিসিস প্রস্তাব করেছেন। একটি নতুন গবেষণা অনুযায়ী, একসময় হয়তো শুক্র গ্রহের নিজস্ব একটি উপগ্রহ ছিল; তবে গ্রহটির অত্যন্ত ধীর গতির ঘূর্ণনের কারণে উপগ্রহটি ধীরে ধীরে শুক্রের আরও কাছে সরে আসে এবং শেষ পর্যন্ত গ্রহটির সাথে সংঘর্ষের পর এর মধ্যেই মিশে যায়।
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, শুক্র গ্রহের উপগ্রহ হারানোর জন্য কোনও বিশাল ও বিপর্যয়কর ঘটনার প্রয়োজন ছিল না। শুক্রের যদি কখনও কোনও প্রাকৃতিক উপগ্রহ থেকে থাকে, তবে গ্রহটির মহাকর্ষীয় আকর্ষণ এবং ধীর গতির ঘূর্ণন তাকে ধীরে ধীরে নিজের কেন্দ্রের দিকে টেনে নিত। এই গবেষণাটি ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
শুক্র গ্রহের ঘূর্ণন পৃথিবীর ঘূর্ণন থেকে অত্যন্ত ভিন্ন। পৃথিবী তার অক্ষের ওপর একবার ঘুরতে সময় নেয় প্রায় ২৪ ঘণ্টা, যেখানে শুক্র গ্রহের নিজের অক্ষের ওপর একবার ঘুরতে সময় লাগে প্রায় ২৪৩ পৃথিবী-দিন। অন্য কথায়, শুক্র গ্রহের ঘূর্ণন গতি অত্যন্ত ধীর।
Advertisements
পৃথিবীর ক্ষেত্রে, গ্রহটির দ্রুত ঘূর্ণন ও অভিকর্ষ বলের প্রভাবে চাঁদ ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে; বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এটি প্রতি বছর প্রায় ৪ সেন্টিমিটার করে দূরে সরে যায়। তবে শুক্র গ্রহের ক্ষেত্রে এর বিপরীত ঘটনা ঘটতে পারে; ধীর গতির ঘূর্ণনের কারণে কোনও উপগ্রহ তার কক্ষপথীয় শক্তি হারিয়ে ধীরে ধীরে গ্রহটির দিকে এগিয়ে আসবে।
কম্পিউটার সিমুলেশনের ফলাফল
এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য গবেষক স্টিফেন কেইন একটি কম্পিউটার সিমুলেশন তৈরি করেন। এতে শুক্র গ্রহ এবং একটি কাল্পনিক উপগ্রহের মধ্যকার মহাকর্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হয়। বিজ্ঞানীরা প্রথমে এই মডেলে পৃথিবী ও চাঁদের বিদ্যমান ব্যবস্থাটি হুবহু তুলে ধরেন এবং এরপর শুক্রের ঘূর্ণন গতি ও কাল্পনিক উপগ্রহটির আকারের পরিবর্তন ঘটিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান।
সিমুলেশন বা কম্পিউটার মডেলিংয়ে ধারাবাহিকভাবে দেখা গেছে যে, চাঁদটি শেষ পর্যন্ত শুক্র গ্রহের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই কাল্পনিক চাঁদটির আকার যত বড় হতো, সংঘর্ষের প্রক্রিয়াটি তত দ্রুত ঘটত।
তবে এই গবেষণাটি এমন কোনো প্রমাণ দেয় না যে শুক্র গ্রহের আদৌ কোনো চাঁদ ছিল। এই সমীক্ষাটি কেবল এটুকু ইঙ্গিত দেয় যে, যদি সেখানে কোনো চাঁদ থেকে থাকত, তবে শুক্রের বর্তমান ধীরগতির ঘূর্ণনের কারণে চাঁদটির পক্ষে কক্ষপথে টিকে থাকা কঠিন হতো।
এর প্রমাণ হয়তো পৃষ্ঠতলের গভীরে লুকিয়ে আছে
বিজ্ঞানীদের পক্ষে এই সম্ভাব্য সংঘর্ষের প্রমাণ খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না। শুক্র গ্রহের পৃষ্ঠতলের প্রায় ৮০ শতাংশেরই বয়স মোটামুটি একই বলে মনে হয়। ধারণা করা হয় যে, প্রায় ১০০ কোটি বছর আগে গ্রহটির পৃষ্ঠতলে এক বিশাল পরিবর্তন ঘটে, যা এর আগের ভূতাত্ত্বিক চিহ্নগুলোকে মুছে ফেলেছিল।
বিজ্ঞানীরা এখন শুক্র গ্রহের পৃষ্ঠের নিচে এর কোনো চিহ্ন বা নিদর্শন অনুসন্ধান করতে পারেন। ভবিষ্যতে পরিচালিত ভূ-কম্পন সংক্রান্ত গবেষণার মাধ্যমে গ্রহটির অভ্যন্তরে এমন সব কাঠামোর সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, যা কোনো এক প্রাচীন সংঘর্ষের সাক্ষ্য বহন করছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, যদি সত্যিই এমন কোনও সংঘর্ষ ঘটে থাকে, তবে তা শুক্রের ঘূর্ণন গতি, ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ এবং জলবায়ুর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। এমনও হতে পারে যে, শুক্র গ্রহকে আজকের এই অবস্থায় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।