বিশ্বকর্মাকে দেখতে কেমন? প্রবীণ নাকি নবীন? রয়েছে বিরাট ইতিহাস
পুরাণ কী বলছে?
পৌরাণিক নানা কাহিনিতে বিশ্বকর্মাকে স্বর্গলোক, লঙ্কা, দ্বারকা এবং ইন্দ্রপ্রস্থের নির্মাণকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের মূর্তির তাঁর তৈরি বলে বিশ্বাস। অর্থাৎ, তিনি কেবল স্থপতি নন, দেবতাদের শিল্পী। তবে তখনও অবধি তাঁর প্রবীণ রূপের উল্লেখ পাওয়া যায়। হিমাচল প্রদেশ, উত্তর ও পশ্চিম ভারতে এই রূপেই পূজিত হন দেবশিল্পী।
বিশ্বকর্মা কী করে প্রবীণ থেকে নবীন হলেন?
বিশ্বকর্মার প্রবীণ-নবীনের এই দ্বন্দ্ব ইতিহাসবিদদেরও ভাবিয়েছে। তাঁদের একাংশের মতে, ঊনবিংশ শতাব্দীর পর বাংলায় শিল্প বিপ্লব ও কারখানা স্থাপনের সঙ্গে এক নতুন চাহিদা তৈরি হয়। কলকারখানায় নিয়মিত মেশিন, যন্ত্রপাতির নিয়ে কাজ করা শ্রমিকদের প্রয়োজন ছিল এক দেবতার। যা তাঁদের আপন হবে। তখনই বাংলায় জনপ্রিয় হতে শুরু করে নবীন সুদর্শন বিশ্বকর্মা। যাঁর চার হাতে যন্ত্রপাতি, হাতির উপর বসে আছেন। এ রূপই আজকের বাংলার কারখানাপ্রবণ অঞ্চলে বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়। স্থানীয় সংস্কৃতি ও সময়ের চাহিদা মিলিয়েই বিশ্বকর্মার রূপান্তর ঘটেছে বলে বিশ্বাস।
ঘট থেকে সুদর্শন পুরুষ বিশ্বকর্মা
ব্রিটিশ পর্যবেক্ষক এম. এম. আন্ডারহিলের লেখা থেকেও জানা যায়, এক সময় বিশ্বকর্মার কোনও মূর্তি ছিল না। কেবল একটি কলসিকে প্রতীক রূপে পুজো করার চল ছিল। পরে বাংলায় যখন কলকারখানায় এই পুজো জমজমাট হয়ে ওঠে, তখন দেবশিল্পীর নবীন রূপ তৈরি হয়। আমেরিকান ইতিহাসবিদ জে গর্ডন মেল্টন ও ব্রিটিশ গবেষক আর্থার ম্যাকডোনেলের লেখাতেও বিশ্বকর্মার বিভিন্ন রূপের উল্লেখ রয়েছে।
মিলেমিশে শ্রমিকদের আবেগ
বিশ্বকর্মা পুজো শুধু দেবতার আরাধনানয়, এ শ্রমজীবী মানুষের উৎসব। চালক, মেকানিক, মিস্ত্রি, কারিগর, তাঁতি, শিল্পশ্রমিক— সবাই একসঙ্গে এই পুজো করেন। মনসা মঙ্গলেও বিশ্বকর্মার ভূমিকা আছে। দেবী মনসার চাপে তিনি বেহুলা-লখিন্দরের লোহার প্রাসাদে একটি ছিদ্র রাখেন, সেখান দিয়ে কালনাগিনী প্রবেশ করে লখিন্দরকে দংশন করেছিল। এখানেও দেবশিল্পী মানুষের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।