আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৩ উইকেটের পর চোটের লড়াই নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ নীতিশ
নয়াদিল্লি: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন নীতিশ কুমার রেড্ডি (Nitish Reddy)। চোট কাটিয়ে ভারতীয় দলে ফেরার পর সিরিজের প্রথম ম্যাচে…
নয়াদিল্লি: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন নীতিশ কুমার রেড্ডি (Nitish Reddy)। চোট কাটিয়ে ভারতীয় দলে ফেরার পর সিরিজের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি তিনি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন এই অলরাউন্ডার। ম্যাচের পর নীতিশ জানালেন, চোট থেকে ফেরার সময় এমন একটি পারফরম্যান্সই তাঁর প্রয়োজন ছিল।
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে নীতিশ ৩ ওভার বল করে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। তাঁর বোলিংয়ের দাপটে আফগানিস্তান ২০ ওভারে ১৫৯ রানেই আটকে যায়। এরপর ভারত ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য নীতিশকে ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত করা হয়।
‘চোট থেকে ফেরার সময় আত্মবিশ্বাস দরকার’
বিসিসিআইয়ের প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় নীতিশ বলেন, চোট থেকে ফেরার পর প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। দ্বিতীয় ম্যাচে তিন উইকেট পাওয়ার পর অনেক বেশি স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। নীতিশের কথায়, প্রথম ম্যাচটি তাঁর জন্য খুব একটা ভালো যায়নি। দ্বিতীয় ম্যাচের পারফরম্যান্স থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাসই এই মুহূর্তে তাঁর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। আগামী ম্যাচগুলিতেও এই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে চান তিনি।
আরও পড়ুন: বুমরাহর সামনে নেটে সমস্যায় বৈভব, আফগানিস্তান সিরিজের আগে কঠিন পরীক্ষা
Advertisements
চোট কাটিয়ে ফেরার পিছনে কঠোর পরিশ্রম
২২ বছর বয়সি নীতিশ চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন। সুস্থ হয়ে ফেরার জন্য বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে দীর্ঘ সময় ফিটনেস এবং প্রশিক্ষণের মধ্যে কাটাতে হয়েছে তাঁকে। চোট থেকে ফেরার পর শরীরকে পুরোপুরি প্রস্তুত করার জন্য যে পরিশ্রম করেছেন, দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে তারই সুফল পেয়েছেন নীতিশ।
টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থাই বড় শক্তি
ভারতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই টিম ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে যথেষ্ট সমর্থন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন নীতিশ। তাঁর মতে, দল তাঁকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়েছে এবং তাঁর উপর বিশ্বাস রেখেছে। একজন ক্রিকেটারের জন্য এই ধরনের আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের তরফে পাওয়া এই সমর্থনের কারণে নিজের জায়গা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে খেলায় মন দিতে পারছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: কবে থেকে শুরু হচ্ছে আইএসএল ? চূড়ান্ত হল দিনক্ষণ
সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে মানসিক ক্লান্তির লড়াই
চোট থেকে ফেরার সময় শুধু শারীরিক সমস্যাই নয়, মানসিক চাপও সামলাতে হয়েছে নীতিশকে। সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে উন্নত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা থাকলেও দীর্ঘ সময় সেখানে থাকা মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। এই সময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতেন নীতিশ। সুযোগ পেলে এক-দু’দিন বাড়িতেও যেতেন। তাঁর মতে, এই ছোট বিরতিগুলি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করেছে।
অলরাউন্ডার হওয়ায় বাড়তি চাপ
নীতিশের ক্ষেত্রে চোট থেকে ফেরার সময় শরীরের উপর বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। কারণ একজন অলরাউন্ডার হিসেবে তাঁকে ব্যাটিং এবং বোলিং, দুই বিভাগেই নিয়মিত কাজ করতে হয়। ফলে তাঁর শারীরিক পরিশ্রমও তুলনামূলকভাবে বেশি। নীতিশ জানিয়েছেন, অলরাউন্ডার হিসেবে তাঁর শরীরের উপর বাড়তি চাপ থাকে। তাই নিয়মিত নিজের শরীরের দিকে নজর রাখা এবং পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তবে চোটকে সহজে মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে শক্ত থাকার উপর জোর দিয়েছেন এই ভারতীয় ক্রিকেটার।
‘নেতিবাচক কথাকে জায়গা দেওয়া যাবে না’
চোটের সময় নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন নীতিশ। তাঁর মতে, কঠিন সময়ে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে এবং নেতিবাচক কথা বা নেতিবাচক মানুষের প্রভাব নিজের উপর পড়তে দেওয়া যাবে না। নীতিশের বিশ্বাস, চোট বা অন্য কোনও বাধা জীবনের অংশ। গুরুত্বপূর্ণ হল সেই পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে। ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রেখে নিজের কাজ করে যেতে হবে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হওয়ার পর নীতিশের আত্মবিশ্বাস যে অনেকটাই ফিরেছে, তাঁর কথাতেই তা স্পষ্ট। চোটের ধাক্কা কাটিয়ে এখন তাঁর লক্ষ্য এই ছন্দ এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে ভারতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করা।