‘রাজনীতিবিদ নাকি ক্রিকেট প্রধান, একটাই বেছে নিন’, নকভিকে কাইফের নিশানা - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘রাজনীতিবিদ নাকি ক্রিকেট প্রধান, একটাই বেছে নিন’, নকভিকে কাইফের নিশানা

Spread the love

ইসলামাবাদ: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে ফের শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সিরিজের মাঝপথেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে…

ইসলামাবাদ: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে ফের শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সিরিজের মাঝপথেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। দ্বিতীয় টেস্টের পর সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, দুই কোচকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পাঁচ জন আনক্যাপড ক্রিকেটারকে দলে ডাকা হয়।

এই পরিস্থিতিতেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভিকে সরাসরি নিশানা করলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ (Mohammad Kaif)। তাঁর বক্তব্য, একই সঙ্গে রাজনীতি এবং ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষ দায়িত্ব সামলানো উচিত নয়।

‘একসঙ্গে দুটো কাজ করা সম্ভব নয়’

ক্রিকবাজে কথা বলার সময় কাইফ বলেন, নকভি একই সঙ্গে পাকিস্তানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন এবং ক্রিকেট বোর্ডেরও প্রধান। তাঁর মতে, দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানোর ফলে ক্রিকেট প্রশাসনে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কাইফের বক্তব্য, “মহসিন নকভি রাজনীতিতে আছেন। তিনি ক্রিকেট বোর্ডেরও প্রধান। এটা এভাবে চলতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, ক্রিকেট প্রশাসনের দায়িত্বে থাকলে ক্রিকেট নিয়েই সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারণ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনা করা সহজ কাজ নয়। বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বিষয়, খেলোয়াড়দের পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে নিয়মিত নজর দিতে হয়। কাইফের মতে, রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি ক্রিকেট বোর্ড চালানোর ফলে একজন প্রশাসকের পক্ষে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

Advertisements


   


   

বিসিসিআইয়ের উদাহরণ টানলেন কাইফ

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের উদাহরণও টেনেছেন কাইফ। তাঁর মতে, ক্রিকেট প্রশাসনে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে একই সময়ে একাধিক বড় দায়িত্ব সামলানোর বদলে একটি ক্ষেত্রেই মনোযোগ দেওয়া উচিত। কাইফ বলেন, “হয় আপনি রাজনীতিবিদ, নয়তো ক্রিকেট প্রধান। ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। একটি বিষয়েই মনোযোগ দিতে হবে।”

তাঁর যুক্তি, বিশ্বের অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের দিকে তাকালেও একই ধরনের ব্যবস্থা দেখা যায়। বিশেষ করে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ক্রিকেট প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির ক্রিকেট পরিচালনায় পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন।

পাকিস্তানে প্রতিভার অভাব নেই, বললেন কাইফ

তবে পাকিস্তান ক্রিকেটে প্রতিভার অভাব রয়েছে, এমনটা মনে করেন না কাইফ। তাঁর মতে, পাকিস্তানে যথেষ্ট প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে। আসল সমস্যা হল সেই প্রতিভাকে সঠিকভাবে তৈরি করে তোলার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা এবং মানুষ প্রয়োজন। কাইফ বলেন, “খেলোয়াড়রা খারাপ নয়। খেলোয়াড় তৈরি করতে পারে এমন মানুষ প্রয়োজন। পাকিস্তানে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে।”

অর্থাৎ পাকিস্তান ক্রিকেটের সমস্যাকে শুধুমাত্র ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স দিয়ে ব্যাখ্যা করতে রাজি নন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার। তাঁর মতে, প্রতিভাকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্রিকেটারদের তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ।

ইংল্যান্ডে ৩-০ হারের পর বাড়ছে চাপ

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের পারফরম্যান্সে একাধিক সমস্যা সামনে এসেছে। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। এর মধ্যেই দ্বিতীয় টেস্টের পর বড়সড় দলবদল করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় এবং দুই কোচকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পাঁচ জন আনক্যাপড ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হয়।

এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশেষজ্ঞ এবং সমর্থকদের মধ্যে সমালোচনা আরও বেড়েছে। সেই আবহেই নকভির প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কাইফ।

সমালোচনায় ভয় পান না নকভি

তবে সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান নিয়ে পিছিয়ে যাননি মহসিন নকভি। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতি হয়েছে।

সমালোচনা নিয়ে নকভি বলেছিলেন, “আমি কখনও সমালোচনাকে ভয় পাইনি এবং ভবিষ্যতেও পাব না। যারা বলে আমি আসার পর ক্রিকেট ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, তারা দায়িত্ব নেওয়ার আগে র‍্যাঙ্কিং কী ছিল, সেটা দেখুক।”

ফলে একদিকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩-০ হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে, অন্যদিকে নকভি নিজের সিদ্ধান্ত এবং নেতৃত্ব নিয়ে এখনও আত্মবিশ্বাসী।

মহম্মদ কাইফের মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাকিস্তান ক্রিকেটে প্রতিভার অভাব নেই, বরং সঠিক প্রশাসন, পরিকল্পনা এবং প্রতিভা বিকাশের ব্যবস্থাই বড় প্রয়োজন, এমনটাই তাঁর বক্তব্যের মূল সুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *