প্রায় এক দশক নিখোঁজের,অসন্তুষ্ট হাইকোর্ট, সিবিআইকে দায়িত্ব
এই সময়: নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ন’বছর পরেও এক মহিলার হদিস না মেলায় রাজ্য পুলিশের তদন্তে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চালিয়েও পুলিশ কোনও কূলকিনারা করতে না পারায় এবং ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে চূড়ান্ত রিপোর্টও জমা না দেওয়ায় তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিল হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি আর্যক দত্তর ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিতে গিয়ে পুলিশের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালতের বক্তব্য, এত বছর পার হলেও পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্টে চূড়ান্ত রিপোর্ট পর্যন্ত পেশ করতে পারেনি। এই দীর্ঘসূত্রতা এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তন করাই সমীচীন বলে মনে করেছে আদালত।
২০১৭–র ২০ এপ্রিল মথুরাপুর থানা এলাকার বাসিন্দা আবুজাফর মোল্লার শ্যালিকা নিখোঁজ হন। মথুরাপুর থানায় অপহরণের মামলা রুজু করা হয়। কিন্তু বছরের পর বছর চলে গেলেও পুলিশ মহিলার সন্ধান দিতে পারেনি, ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্টে চার্জশিট বা চূড়ান্ত রিপোর্টও পেশ করতেও ব্যর্থ হয়েছে। বাধ্য হয়ে ২০১৯–এ কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দায়ের করে নিখোঁজ মহিলার পরিবার।
এ দিন ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি ছিল। শুনানিতে রাজ্যের তরফে ১৪ অগস্ট পেশ করা অ্যাকশন টেকন রিপোর্টের প্রসঙ্গ ওঠে। সেই রিপোর্ট দেখে আদালত হতাশা প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যের তরফে একাধিক পদক্ষেপের দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরা হলেও বাস্তবে এখনও নিখোঁজ মহিলার সন্ধান মেলেনি।
এর পিছনে মানব–পাচার চক্রের যোগ আছে কি না, তাও অজানা। এই অবস্থায় ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে সিবিআইকে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করতে হবে। সেই দলে থাকবেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিক এবং তাঁর পছন্দের আরও দুই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা আধিকারিক। রাজ্য পুলিশ এতদিন পর্যন্ত যত নথি, তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং কেস ডায়েরি অবিলম্বে সিবিআইয়ের হাতে হস্তান্তর করতে হবে। মামলাকারীকেও অভিযোগের প্রতিলিপি সিবিআই-কে দিতে হবে। চার সপ্তাহ পরে শুনানিতে সিবিআই-কে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট পেশ করতে হবে।