পার্কিং লটে গন্ডগোল! রডের বাড়িতে হাত ভাঙল কার্গিল যোদ্ধার
গুরুগ্রামের এক মলের পার্কিং লটে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ও বেদনাদায়ক ঘটনা। (Kargil Veteran)কারগিল যুদ্ধের বীর যোদ্ধা, অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন অমিত কুমার গুপ্তা লোহার রডের…
গুরুগ্রামের এক মলের পার্কিং লটে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ও বেদনাদায়ক ঘটনা। (Kargil Veteran)কারগিল যুদ্ধের বীর যোদ্ধা, অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন অমিত কুমার গুপ্তা লোহার রডের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে পার্কিং নিয়ে সাধারণ এক বিতর্ক থেকে। কোনো জাতিগত দ্বন্দ্ব নেই, কোনো রাজনৈতিক উসকানি নেই। শুধুই নাগরিক জীবনের নিষ্ঠুর বর্বরতা।
১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুপ্তা পরিবার নিয়ে ম্যাগনাম গ্লোবাল পার্কের গঞ্জো রেস্তোরাঁয় ডিনারে গিয়েছিলেন। পরিবারকে নামিয়ে তিনি নিজে গাড়ি পার্ক করতে যান। (Kargil Veteran)ভ্যালে সার্ভিস প্রত্যাখ্যান করে নিজে পার্কিং খুঁজতে গিয়ে পার্কিং কর্মীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কর্মী দীপক মাভি লোহার রড নিয়ে তাঁকে আক্রমণ করেন। মাথায় ও হাতে আঘাত পেয়ে গুপ্তা রক্তাক্ত হন।
আরও দেখুনঃ ফের ল্যান্ডমাফিয়া নিধনে যোগী! হাজি সলমনের শালা কাল্লু বেগের অবৈধ নির্মাণে বুলডোজার
বাম হাতের কনুই ভেঙে যায়। পরিবার তাঁকে মেদান্তা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অস্ত্রোপচার করে প্লেট বসাতে হয়েছে।এই ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির আঘাত নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এই ঘটনা আমাদের সমাজের নাগরিক চেতনার গভীর ক্ষতকে উন্মোচন করেছে। একজন সজ্জিত যুদ্ধবীর, যিনি দেশরক্ষায় জীবন বাজি রেখেছিলেন, তিনি সাধারণ পার্কিং বিরোধে রডের আঘাতে রক্তাক্ত হচ্ছেন।
Advertisements
এমন দৃশ্য যেকোনো সুস্থ মানুষকে নাড়া দেয়। অথচ সমাজের এক অংশ শুধু তখনই বৈষম্যের কথা বলে যখন তা তাদের পছন্দের জাতিগত আখ্যানের সঙ্গে মিলে যায়। এই ঘটনায় সেই সুযোগ নেই। তাই অনেকেই নীরব।
মনোরোগ এবং সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে আজকাল মানুষের মধ্যে ‘আমার ইচ্ছাই শেষ কথা’ মানসিকতা বাড়ছে। ছোটখাটো বিষয়েও হংসে জড়িয়ে পড়ছে মানুষ। পার্কিং জায়গা নিয়ে রড হাতে তোলা এটা আর সাধারণ ঝগড়া নয়। এটি নাগরিক বর্বরতার প্রমাণ। গুপ্তা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সময় আশেপাশে নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও কেউ সাহায্য করেনি।
পুলিশও দেরিতে পৌঁছায়। (Kargil Veteran)পরে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মামলা রুজু হয়েছে।এই ঘটনা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। দেশের জন্য যুদ্ধ করা মানুষ যদি নিজের শহরেই নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা? সমাজ ক্রমশ অসভ্য হয়ে উঠছে। ধৈর্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান কমে যাচ্ছে। ছোটখাটো বিষয়ে রগচটা হয়ে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়া এখন নতুন করে উদ্বেগের কারণ।