দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করল বিদ্রোহী তৃণমূলও, প্রতীক-দ্বন্দ্ব জারি, শীর্ষ কোর্টে শোভনদেব - 24 Ghanta Bangla News
Home

দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করল বিদ্রোহী তৃণমূলও, প্রতীক-দ্বন্দ্ব জারি, শীর্ষ কোর্টে শোভনদেব

Spread the love

এই সময়: নির্বাচন কমিশনে চলা প্রতীক–যুদ্ধের মধ্যে রাজ্যের দুই কেন্দ্রের বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে তাদের প্রার্থী হয়েছেন মহম্মদ এহতেশামুল হক এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে প্রার্থী হয়েছেন সফিউজ্জমান শেখ। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর, বুধবার এই দুই প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন বলে সোমবার ঋতব্রত জানিয়েছেন।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, ‘জাতীয় কর্মসমিতির সদস্যদের নিয়ে বৈঠকের পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে এই দু’জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ঘাসের উপরে জোড়াফুল প্রতীক আঁকা হবে।’ তৃণমূলের ‘প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব’ কারা করছে— এই প্রশ্নের মীমাংসা এখনও করেনি দেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার বিকেল ৩টের মধ্যে তৃণমূলের বিবদমান দুই শিবিরকে নথি জমার জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা দিয়েছে কমিশন। তারপরে প্রয়োজন হলে ১৭ সেপ্টেম্বর আবার দু’পক্ষকে কমিশন বৈঠকে ডাকতে পারে। যদিও ঋতব্রত এ দিন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন তো ভ্যানিশ হয়ে যায়নি। নির্বাচন কমিশনের উপরে ভরসা থাকুক।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের তরফে রবিবারই দুই কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল প্রার্থী ঘোষণা করলেও এই উপনির্বাচনে আসন সমঝোতা করার জন্য কালীঘাট নেতৃত্বের তরফে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রের খবর। কালীঘাট শিবির নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দিয়ে রেজিনগর আসনটি চেয়েছি‍ল। কালীঘাটপন্থী এক নেতার বক্তব্য, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপালের কাছে এই মর্মে প্রস্তাব পাঠানো হলেও কংগ্রেস রেজিনগর কেন্দ্রটি কালীঘাট শিবিরকে ছাড়তে চায়নি। কোনও সমঝোতা সূত্র এখনও বেরোয়নি বলেও সূত্রের দাবি। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কালীঘাট শিবিরের কোনও নেতা মন্তব্য করতে চাননি।

ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল প্রার্থী ঘোষণা করলেও কালীঘাট শিবিরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এ দিন বলেছেন, ‘এই দুই কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি বিজেপি প্রার্থীর লড়াই হবে। মাঝামাঝি কেউ নেই। আমাদের প্রার্থীর ভোট কাটার চেষ্টা করবে ওরা, কিন্তু কোনও লাভ হবে না। নন্দীগ্রামে অঘটনও ঘটতে পারে।’ ঋতব্রতর পাল্টা বক্তব্য, ‘কালীঘাট তো বিজেপির লক্ষ্মীপেঁচা!’

জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে টানাপড়েন চলাকালীন আবার ঋতব্রত–সহ বিদ্রোহী শিবিরের ১০ জন বিধায়কের পদ খারিজের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কালীঘাট শিবিরের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ঋতব্রতকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া নিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছে কালীঘাট শিবির। তার মধ্যেই শীর্ষ আদালতে নতুন একটি মামলা দায়ের হওয়ায় নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সুপ্রিম কোর্টে কালীঘাট শিবিরের এই পিটিশন নিয়ে ঋতব্রতর কটাক্ষ, ‘কে কাকে বহিষ্কার করবে? আইনজীবী বন্দ্যোপাধ্যায় (কল্যাণ) বিধায়কদের পদ খেয়ে নেবেন বলে ডায়লগ দিচ্ছেন! কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। ২০ জন সাংসদের পদ খাবেন, ১০ জন বিধায়কের পদ খাবেন— এই সব করার আগে একটু ভাবুন।’

বিদ্রোহী তৃণমূল সূত্রের খবর, নন্দীগ্রামের প্রার্থী এহতেশামুল হক আদতে কলকাতার বাসিন্দা। তৃণমূলের রাজ্য স্তরের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি এক সময়ে কাজ করেছেন। নন্দীগ্রাম বিধানসভায় প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে। এই সংখ্যালঘু ভোটই জোড়াফুলের মূল ভিত্তি। এই সম্ভাবনার দিকে তাকিয়েই সংখ্যালঘু প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়ে এহতেশামুল বলেছেন, ‘আমিই জয় লাভ করব। মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, আমাকে আশীর্বাদ করতে। কারণ, উনি সবাইকে ভালোবাসেন। আমি কলকাতায় থাকি, কিন্তু ওখানে আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। সংখ্যালঘু ভাইদের বলব, আমাদের পাশে থাকতে।’ রেজিনগরে ঋতব্রতরা যাঁকে প্রার্থী করেছেন, সেই সফিউজ্জামান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন। এলাকায় তিনি হাবিব মাস্টার নামে বেশি পরিচিত। রেজিনগরে সফিউজ্জামানের ভালো পরিচিতিও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *