কম বৃষ্টির প্রভাব, আগস্টে ভারতে সার বিক্রি কমল ১০.৩৩ শতাংশ - 24 Ghanta Bangla News
Home

কম বৃষ্টির প্রভাব, আগস্টে ভারতে সার বিক্রি কমল ১০.৩৩ শতাংশ

Spread the love

বর্ষার অনিয়মিত আচরণের প্রভাব এবার ভারতের কৃষিক্ষেত্রে সার বিক্রিতেও (Fertilizer Sales) দেখা গেল। ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে মোট সার বিক্রি হয়েছে প্রায় ৬৫.১ লক্ষ টন, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১০.৩৩ শতাংশ কম। আগস্টজুড়ে দেশের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির ঘাটতি থাকায় কৃষিকাজের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আগস্টে সারা দেশে মোট বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল ১৬.৩ শতাংশ। যদিও এখনও পর্যন্ত খরিফ চাষের মোট জমির পরিমাণে এর প্রভাব খুব বেশি স্পষ্ট নয়, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এখন মোট জমির পরিমাণের চেয়ে প্রতি হেক্টরে উৎপাদন কত হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

খরিফ চাষের জমি সামান্য কম

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে খরিফ ফসলের আওতায় জমির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১.৪৫ শতাংশ কম। পাঁচ বছরের গড় স্বাভাবিক জমির পরিমাণের তুলনায় ঘাটতি রয়েছে প্রায় ০.৭২ শতাংশ।

অর্থাৎ মোট চাষের জমিতে এখনও খুব বড় পতন দেখা যায়নি। কিন্তু বৃষ্টির অনিয়মিত পরিস্থিতি এবং সার ব্যবহারের পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত প্রতি হেক্টরে ফলনের উপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন কৃষিক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

Advertisements


   


   

বিশেষজ্ঞ এবং বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সার বিক্রি কমে যাওয়াও ভবিষ্যতের ফলনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। তবে বিক্রি কমার অন্য একটি কারণও থাকতে পারে। ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, মরশুমের শুরুতেই কৃষকদের অতিরিক্ত সার মজুত করে রাখার কারণে আগস্টে বিক্রি কমে গিয়ে থাকতে পারে।

ইউরিয়ার বিক্রি কমেছে

ভারতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সার ইউরিয়া। ২০২৬ সালের আগস্টে ইউরিয়ার বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪১.২১ লক্ষ টন, যা ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় ৩.৬৬ শতাংশ কম।

অন্যদিকে ডিএপি বা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেটের বিক্রি সামান্য বেড়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে ডিএপি বিক্রি হয়েছে প্রায় ১০.৩ লক্ষ টন, যেখানে ২০২৫ সালের আগস্টে বিক্রি হয়েছিল ৯.৮ লক্ষ টন।

তবে মিউরিয়েট অব পটাশ বা এমওপি এবং অন্যান্য কমপ্লেক্স সারের বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। আগস্টে এমওপির বিক্রি গত বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম ছিল। অন্যান্য কমপ্লেক্স সারের বিক্রি কমেছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়েছে

সারের বিক্রির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দামের পরিবর্তনও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কমপ্লেক্স সার উৎপাদনে ব্যবহৃত সালফারের দাম আগস্টে গত বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ২৬২ শতাংশ বেশি ছিল।

একই সময়ে অ্যামোনিয়ার আন্তর্জাতিক গড় দাম প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে। ফসফরিক অ্যাসিডের দাম বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ, আর রক ফসফেটের দাম বেড়েছে প্রায় ০.৫২ শতাংশ। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে ডিএপি-সহ বিভিন্ন কমপ্লেক্স সার দেশে উৎপাদনের খরচ আগস্ট ২০২৫-এর তুলনায় আগস্ট ২০২৬-এ আরও বেড়ে থাকতে পারে।

এর অন্যতম কারণ হল, সার উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জন্য ভারত প্রায় সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভরশীল। ফলে বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বাড়লে তার প্রভাব দেশের সার উৎপাদন খরচেও পড়ে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম কমেছে

তবে সব ধরনের সারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একই নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি করা ইউরিয়ার গড় দাম ২০২৬ সালের আগস্টে গত বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ২৩.৫৪ শতাংশ কম ছিল।

মে ২০২৬-এ পশ্চিম এশিয়ার সংকটের সময় ফ্রি-অন-বোর্ড ভিত্তিতে ইউরিয়ার দাম প্রতি টনে প্রায় ৯৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। সেই তুলনায় আগস্টে দাম অনেকটাই কমেছে।

আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার গড় দাম ছিল প্রতি টনে ৪০৬ ডলার। গত নয় মাসের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রতি টনে ৪০৯ ডলার দাম দেখা গিয়েছিল। এমনকি জুলাই ২০২৬-এর তুলনায়ও আগস্টে আন্তর্জাতিক ইউরিয়ার দাম প্রায় ৯.১৭ শতাংশ কমেছে।

সরকারের ভর্তুকি হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে

আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম কমে যাওয়ার প্রভাব ভারতের সার ভর্তুকির হিসাবেও পড়তে পারে। বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের ভর্তুকি হিসাবের ক্ষেত্রে এই মূল্যপতন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে ভারত প্রায় ৭ লক্ষ টন ইউরিয়া আমদানি করেছে।

সব মিলিয়ে, একদিকে কম বৃষ্টিপাত ও সার বিক্রিতে পতন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন কাঁচামালের দামের বড় ওঠানামা, ভারতের কৃষি অর্থনীতির সামনে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এখন খরিফ মরশুমের শেষ পর্যায়ে ফসলের ফলন কতটা হয় এবং সার ব্যবহারের ঘাটতি প্রকৃত উৎপাদনে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই নজরে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *