মহাকাশে মোতায়েন আছে অস্ত্র! স্বীকারোক্তি ট্রাম্পের
নয়াদিল্লি: মহাকাশে প্রথমবারের মতো কোনও অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করল (Space Weapon)আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ…
নয়াদিল্লি: মহাকাশে প্রথমবারের মতো কোনও অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করল (Space Weapon)আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ এতদিন মহাকাশকে মূলত যোগাযোগ, নজরদারি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হলেও এবার সেখানে সরাসরি অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ্যে এল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে। (Space Weapon)পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা উপগ্রহগুলি ক্রমশ সামরিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে মহাকাশে কোনও সংঘাত শুরু হলে তার প্রভাব সরাসরি পৃথিবীর যুদ্ধক্ষেত্রেও পড়তে পারে।
আরও দেখুনঃ পাকিস্তানে মাসুদ আজহারের মাথার দাম বেড়ে হল ৭০ লক্ষ পাকিস্তানি রুপি
মার্কিন এয়ার ফোর্সের সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক সোমবার এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একটি ‘অন-অরবিট’ অস্ত্রের অস্তিত্বের কথা নিশ্চিত করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনীকে সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং পরিবর্তিত হুমকির মোকাবিলায় এই সক্ষমতা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
Advertisements
তবে এই অস্ত্রটি ঠিক কী ধরনের, কবে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে কিংবা এর নির্দিষ্ট কাজ কী সেসব বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। ফলে অস্ত্রটির প্রকৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।
মহাকাশে সামরিক অস্ত্রের উপস্থিতি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে হলে আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থায় উপগ্রহের ভূমিকা দেখতে হবে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর জিপিএস নেভিগেশন, নিরাপদ যোগাযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সতর্কতা, যুদ্ধক্ষেত্রের নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই কক্ষপথে থাকা উপগ্রহের উপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।
কোনও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপগ্রহ ধ্বংস বা অকার্যকর করে দেওয়া গেলে তার যোগাযোগ ব্যবস্থা, নজরদারি এবং যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতের যুদ্ধে শত্রুর সেনাঘাঁটি আক্রমণের পাশাপাশি তার মহাকাশভিত্তিক পরিকাঠামোও অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।
এই কারণেই আমেরিকা, চিন ও রাশিয়া গত কয়েক বছরে (Space Weapon)‘কাউন্টারস্পেস’ প্রযুক্তির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হল প্রতিপক্ষের মহাকাশভিত্তিক সম্পদে হস্তক্ষেপ করা, সেগুলিকে অকার্যকর করা বা প্রয়োজন হলে ধ্বংস করা। ২০১৯ সালে মার্কিন স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠার পর ওয়াশিংটনের মহাকাশনীতি আরও স্পষ্টভাবে সামরিক দিক পেয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘স্পেস কন্ট্রোল’-এর মধ্যে এমন কাইনেটিক এবং নন-কাইনেটিক সক্ষমতাও রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের মহাকাশ ব্যবস্থাকে ব্যাহত, দুর্বল বা প্রয়োজন হলে ধ্বংস করা সম্ভব।
এখানেই আন্তর্জাতিক আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু চুক্তিটি কক্ষপথে সব ধরনের প্রচলিত অস্ত্র বা সামরিক প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করেনি। ফলে উপগ্রহকে লক্ষ্য করতে সক্ষম প্রচলিত অস্ত্র বা প্রযুক্তি নিয়ে দেশগুলির জন্য একটি আইনি জায়গা এখনও রয়ে গেছে। এই সীমাবদ্ধতাই মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা আরও জটিল করে তুলছে।
ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন রাশিয়া ও চিনের মহাকাশ কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে আমেরিকা রাশিয়ার একটি উপগ্রহের বিরুদ্ধে অন্য মহাকাশযানকে আক্রমণ করার সম্ভাব্য সক্ষমতার অভিযোগ তুলেছিল। একই সঙ্গে চিনের সামরিক আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে কাউন্টারস্পেস প্রযুক্তি উন্নয়নের বিষয়েও সতর্ক করেছে মার্কিন প্রশাসন। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলি নিজেদের মহাকাশ কর্মসূচিকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে থাকে।