২ বড় মাথার খোঁজ, মোটা বেতনের টোপ
এই সময়, শিলিগুড়ি: মাটিগাড়ার পরিবহণনগরে সরকারি আইটি পার্কের ভিতরে অবৈধ কল সেন্টার চালানোর ঘটনায় তদন্তে নেমে নেপথ্যে থাকা দুই বড় মাথার হদিশ পেল পুলিশ। এই ঘটনায় সৈকত সিনহা রায় এবং রাজীব থাপা নামে দু’জনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, একটি বেসরকারি সংস্থার নামে ওয়েবেল আইটি পার্কে ঘর ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সংস্থার ডিরেক্টর হিসেবে সৈকতের নাম উঠে এসেছে। রাজীবও এই চক্রের জড়িত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের ধারণা, এত বড় প্রতারণা চক্রে নিশ্চয় আরও -কেউ জড়িত রয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ওয়েবেল আইটি পার্কে অভিযান চালায় রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং পুলিশের যৌথ বাহিনী। অভিযোগ, আইটি পার্কের বহুতল বিল্ডিংয়ে অন্তত সাত-আটটি ঘরে বসে এই অবৈধ কল সেন্টার চলত। যার মধ্যে ফেজ-৩ বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরের জি-১৪ নম্বর ঘর থেকে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘর ভাড়া নেওয়ার সময়ে যে ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হয়েছিল তাতে দেখা গিয়েছে ডিরেক্টর পদে রয়েছেন সৈকত।
এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অভিযানের সময়ে বাজেয়াপ্ত করা বিভিন্ন সামগ্রী পরীক্ষা করে রাজীবের সক্রিয় ভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের কাছে জানার চেষ্টা চলছে, কার নির্দেশে তাঁরা কাজ করতেন, কোথা থেকে তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হতো, কারা গোটা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, আন্তর্জাতিক সময় মেনে মূলত মাঝরাতে আসল কাজ শুরু হতো।
বিদেশে বসবাসকারী ব্যক্তিদের তথ্য, ফোন নম্বর জোগাড় করে ফোন করা হতো। এই কাজের জন্য ইংরেজি জানা যুবক-যুবতীদের ভালো বেতনের লোভ দেখিয়ে কাজে নেওয়া হতো। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, চার মাস আগে ওই সংস্থাটি ঘর ভাড়া নিয়ে কল সেন্টার চালাত।