Mahindra BE 6 Sportech বনাম Tata Sierra EV, রেঞ্জ-ফিচারে কে এগিয়ে? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Mahindra BE 6 Sportech বনাম Tata Sierra EV, রেঞ্জ-ফিচারে কে এগিয়ে?

Spread the love

Mahindra BE 6 Sportech বনাম Tata Sierra EV: ভারতের বৈদ্যুতিক এসইউভি বাজারে এখন একদিকে ভবিষ্যৎধর্মী ডিজাইনের মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেক, অন্যদিকে রেট্রো-অনুপ্রাণিত ডিজাইন নিয়ে টাটা সিয়েরা ইভি। দু’টি গাড়িই প্রযুক্তি, ফিচার এবং পারফরম্যান্সের দিক থেকে যথেষ্ট শক্তিশালী। তবে দাম, কেবিন স্পেস, ব্যাটারি, রেঞ্জ এবং ড্রাইভট্রেনের ক্ষেত্রে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।

সম্প্রতি মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেক-এ নতুন ফিচার, পরিবর্তিত রঙের বিকল্প এবং নতুন ব্যাটারি প্যাক যোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে টাটা সিয়েরা ইভির অন্যতম বড় আকর্ষণ হল এর প্রশস্ত কেবিন এবং সেগমেন্টে প্রথম ডুয়াল-মোটর পাওয়ারট্রেন। ফলে দু’টির মধ্যে কোনটি বেশি উপযুক্ত, তা নির্ভর করবে ক্রেতার অগ্রাধিকারের উপর।

দাম: সিয়েরা ইভি কিছুটা সস্তা

চার্জার বাদে দুই বৈদ্যুতিক এসইউভির দাম তুলনা করলে টাটা সিয়েরা ইভি এগিয়ে।

মডেল দাম
মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেক ১৯.৪৫ লাখ টাকা থেকে ২৬.৯৫ লাখ টাকা
টাটা সিয়েরা ইভি ১৮.৭৯ লাখ টাকা থেকে ২৫.৯৯ লাখ টাকা

সব দাম এক্স-শোরুম।

Advertisements


   


   

অর্থাৎ বেস ভ্যারিয়েন্টে টাটা সিয়েরা ইভি মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেকের তুলনায় ৬৬,০০০ টাকা সস্তা। টপ-স্পেক সংস্করণে ব্যবধান বেড়ে হয়েছে ৯৫,০০০ টাকা।. তবে মাহিন্দ্রা ব্যাটারি-অ্যাজ়-এ-সার্ভিস বা বিএএএস প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক দাম আরও কমানোর সুযোগ দিচ্ছে। এই ব্যবস্থায় বিই ৬ স্পোর্টেকের বেস ভ্যারিয়েন্টের দাম ১১.৪৫ লাখ টাকা + প্রতি কিলোমিটারে ৩.৭৫ টাকা থেকে শুরু হতে পারে।

আকারে বড় বিই ৬ স্পোর্টেক, কিন্তু জায়গায় এগিয়ে সিয়েরা

বাহ্যিক মাপের দিক থেকে মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেক বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বড়।

মাপ মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেক টাটা সিয়েরা ইভি পার্থক্য
দৈর্ঘ্য ৪৩৭১ মিমি ৪৩৪০ মিমি বিই ৬ ৩১ মিমি বেশি
প্রস্থ ১৯০৭ মিমি ১৮৪১ মিমি বিই ৬ ৬৬ মিমি বেশি
উচ্চতা ১৬২৭ মিমি ১৭৫০ মিমি সিয়েরা ১২৩ মিমি বেশি
হুইলবেস ২৭৭৫ মিমি ২৭৩০ মিমি বিই ৬ ৪৫ মিমি বেশি
বুট স্পেস ৪৫৫ লিটার ৬২২ লিটার সিয়েরা ১৬৭ লিটার বেশি

বিই ৬ স্পোর্টেকের কুপে-এসইউভি নকশার কারণে উচ্চতা কম। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, বাহ্যিক মাপে বড় হওয়া সত্ত্বেও এর কেবিন সিয়েরা ইভির মতো প্রশস্ত নয়। পরিবার নিয়ে ভ্রমণ, দীর্ঘ যাত্রা বা চালকের সঙ্গে পিছনের যাত্রী বহনের ক্ষেত্রে সিয়েরা ইভির বেশি কেবিন স্পেস এবং ৬২২ লিটারের বড় বুট যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে।

রঙের বিকল্পে দুই গাড়িই আকর্ষণীয়

মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেকের রঙের তালিকায় রয়েছে:

  • এভারেস্ট হোয়াইট
  • ট্যাঙ্গো রেড
  • ডিপ ফরেস্ট
  • ফায়ারস্টর্ম অরেঞ্জ
  • ডেজার্ট মিস্ট
  • পিওর গ্রে
  • রোসো ইমপালসো স্যাটিন
  • গ্রাফাইট স্টর্ম

টাটা সিয়েরা ইভি পাওয়া যায়:

  • প্রিস্টিন হোয়াইট
  • বেঙ্গল রুজ
  • কোর্গ ক্লাউডস
  • আন্দামান অ্যাডভেঞ্চার
  • রিশিকেশ র‌্যাপিডস
  • নৈনিতাল নকটার্ন

বিই ৬ স্পোর্টেকের ফর্মুলা ই ফ্রিডম এডিশনে একাধিক স্যাটিন ফিনিশও রয়েছে।

ফিচারে দুই এসইউভিই প্রায় সমানে সমান

ফিচারের দিক থেকে বিই ৬ স্পোর্টেক এবং সিয়েরা ইভি, দু’টিই প্রিমিয়াম গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো সরঞ্জাম নিয়ে আসে।দুই মডেলেই রয়েছে এলইডি হেডল্যাম্প ও ডিআরএল, অ্যালয় হুইল, এলইডি ইন্ডিকেটর-সহ ওআরভিএম, ফ্লাশ-ফিট দরজার হাতল, ব্ল্যাক সাইড ক্ল্যাডিং, এলইডি টেলল্যাম্প, ছাদের স্পয়লার এবং পিছনের স্কিড প্লেট।

দুই গাড়িতেই রয়েছে প্যানোরামিক সানরুফ, ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো ও অ্যাপল কারপ্লে, কানেক্টেড কার প্রযুক্তি, ডুয়াল-জোন অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল, ওয়্যারলেস ফোন চার্জার, অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং, সামনের ভেন্টিলেটেড সিট, হেড-আপ ডিসপ্লে, ড্রাইভ মোড, পাওয়ারড টেলগেট, অটো-ডিমিং আইআরভিএম এবং ৫৪০-ডিগ্রি পার্কিং ক্যামেরা।

মাহিন্দ্রার সুবিধা কোথায়?

মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেকের ড্যাশবোর্ডে ১২.৩ ইঞ্চির ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার রয়েছে। সিয়েরায় এর আকার ১০.২৫ ইঞ্চি। দুই গাড়িতেই ১২.৩ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম এবং ১২.৩ ইঞ্চির যাত্রী বিনোদন ডিসপ্লে রয়েছে। মাহিন্দ্রার আরও কিছু বাড়তি সুবিধার মধ্যে রয়েছে ১৬-স্পিকার হারমান কার্ডন সাউন্ড সিস্টেম, ৭টি এয়ারব্যাগ এবং ড্যাশক্যাম। অন্যদিকে সিয়েরা ইভিতে রয়েছে ১২-স্পিকার জেবিএল ব্ল্যাক সাউন্ড সিস্টেম এবং ৬টি এয়ারব্যাগ।

সিয়েরায় চালকের পাশাপাশি সহ-চালকের সিটেও সুবিধা

টাটা সিয়েরা ইভিতে ৬-ওয়ে পাওয়ারড ড্রাইভার সিটের পাশাপাশি ৪-ওয়ে পাওয়ারড কো-ড্রাইভার সিট রয়েছে। মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেকে পাওয়ারড সিটের সুবিধা শুধুমাত্র ৬-ওয়ে ড্রাইভার সিটে সীমাবদ্ধ। দুই গাড়িতেই লেভেল ২+ অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম, টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম, হিল-হোল্ড অ্যাসিস্ট এবং চার চাকায় ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। দুই এসইউভিই ভারত এনক্যাপ ক্র্যাশ পরীক্ষায় ৫-স্টার নিরাপত্তা রেটিং পেয়েছে।

ব্যাটারি ও রেঞ্জে কার দাপট?

দুই গাড়িতেই তিনটি পাওয়ারট্রেন বিকল্প রয়েছে।

বিষয় মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেক টাটা সিয়েরা ইভি
ব্যাটারি ৫৯ কিলোওয়াটঘণ্টা ৬৩ কিলোওয়াটঘণ্টা
ব্যাটারি ৭০ কিলোওয়াটঘণ্টা ৭৫ কিলোওয়াটঘণ্টা
ব্যাটারি ৭৯ কিলোওয়াটঘণ্টা ৭৫ কিলোওয়াটঘণ্টা
মোটর ১ ১
মোটর ১ ১
মোটর ১ ২
দাবি করা রেঞ্জ ৫৪৮ কিমি ৫৬৬ কিমি
দাবি করা রেঞ্জ ৬৫১ কিমি ৬৬৫ কিমি
দাবি করা রেঞ্জ ৬৮৩ কিমি ৬২৪ কিমি
সর্বোচ্চ শক্তি ২৮৬ পিএস ২৩৮ পিএস
সর্বোচ্চ টর্ক ৩৮০ এনএম ৫০৪ এনএম
ড্রাইভট্রেন আরডব্লিউডি আরডব্লিউডি/এডব্লিউডি

বিই ৬ স্পোর্টেকের বড় ৭৯ কিলোওয়াটঘণ্টা ব্যাটারি সংস্করণে সর্বোচ্চ দাবি করা রেঞ্জ ৬৮৩ কিমি। সিয়েরা ইভির ৭৫ কিলোওয়াটঘণ্টা সংস্করণে সর্বোচ্চ রেঞ্জ ৬৬৫ কিমি।

তবে বেস ভ্যারিয়েন্টে সিয়েরা ইভির ৬৩ কিলোওয়াটঘণ্টা ব্যাটারি ৫৬৬ কিমি রেঞ্জ দিতে পারে, যা বিই ৬ স্পোর্টেকের ৫৯ কিলোওয়াটঘণ্টা ব্যাটারির ৫৪৮ কিমির চেয়ে বেশি।

ডুয়াল-মোটরে বড় চমক সিয়েরার

টাটা সিয়েরা ইভির সবচেয়ে বড় শক্তি এর ডুয়াল-মোটর সেটআপ। দুই মোটর মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫০৪ এনএম টর্ক পাওয়া যায় এবং এই সংস্করণে অল-হুইল ড্রাইভ বা এডব্লিউডি ব্যবস্থা রয়েছে। অফ-রোডিং বা কম গ্রিপের রাস্তায় এই সেটআপ বাড়তি ট্র্যাকশন দিতে পারে। অন্যদিকে মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেকের সর্বোচ্চ শক্তি ২৮৬ পিএস, যা সিয়েরা ইভির একক মোটর সংস্করণের ২৩৮ পিএসের তুলনায় বেশি।

দ্রুত চার্জিংয়ে এগিয়ে মাহিন্দ্রা

দীর্ঘ যাত্রার সময় দ্রুত চার্জ করার ক্ষেত্রে মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেকের সুবিধা রয়েছে। এটি সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে। টাটা সিয়েরা ইভির ডিসি ফাস্ট চার্জিং ক্ষমতা সর্বোচ্চ ১২০ কিলোওয়াট। অর্থাৎ হাইওয়েতে দ্রুত চার্জ করে আবার যাত্রা শুরু করার ক্ষেত্রে বিই ৬ স্পোর্টেক তুলনামূলক সুবিধাজনক হতে পারে।

কোনটি কিনবেন?

মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেক এবং টাটা সিয়েরা ইভি, দু’টিই আলাদা ধরনের ক্রেতাকে আকর্ষণ করতে পারে। বিই ৬ স্পোর্টেক বেশি উপযুক্ত হতে পারে তাঁদের জন্য, যাঁরা ভবিষ্যৎধর্মী কুপে-এসইউভি ডিজাইন, বেশি পিক পাওয়ার, সর্বোচ্চ ৬৮৩ কিমি দাবি করা রেঞ্জ, ১৮০ কিলোওয়াট দ্রুত চার্জিং এবং সমৃদ্ধ প্রযুক্তি চান।

অন্যদিকে সিয়েরা ইভি বেশি যুক্তিসঙ্গত পছন্দ হতে পারে পরিবারের জন্য। কম দাম, ৬২২ লিটারের বড় বুট, বেশি কেবিন স্পেস, সহ-চালকের পাওয়ারড সিট এবং ডুয়াল-মোটর এডব্লিউডি সংস্করণ এর বড় সুবিধা।

অর্থাৎ পারফরম্যান্স ও প্রযুক্তিতে বিই ৬ স্পোর্টেক এগিয়ে থাকলেও, ব্যবহারিকতা ও পরিবারের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে টাটা সিয়েরা ইভি যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *