২৪ বলে অর্ধশতরান, ১২৯ রানের জুটিতে এশিয়া কাপ ফাইনালে শেফালি-মন্ধানার রেকর্ড
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মহিলা এশিয়া কাপ ২০২৬-এর (Womens Asia Cup) ফাইনালে ব্যাট হাতে ইতিহাস লিখলেন ভারতের দুই ওপেনার শেফালি বর্মা এবং স্মৃতি মন্ধানা। দুজনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে…
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মহিলা এশিয়া কাপ ২০২৬-এর (Womens Asia Cup) ফাইনালে ব্যাট হাতে ইতিহাস লিখলেন ভারতের দুই ওপেনার শেফালি বর্মা এবং স্মৃতি মন্ধানা। দুজনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান তোলে ভারত। শেফালি মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন, যা মহিলা এশিয়া কাপের ইতিহাসে দ্রুততম পঞ্চাশ। অন্যদিকে মন্ধানার সঙ্গে তাঁর ১২৯ রানের ওপেনিং জুটি তৈরি করেছে আরও একটি বড় রেকর্ড।
২৪ বলে পঞ্চাশ, মন্ধানার রেকর্ড ভাঙলেন শেফালি
শেফালি বর্মা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। এর আগে মহিলা এশিয়া কাপে দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড ছিল স্মৃতি মন্ধানার দখলে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২৫ বলে পঞ্চাশ করেছিলেন মন্ধানা।
ফলে একই ফাইনালে মন্ধানার পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির তৈরি করলেন শেফালি। শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে ৬৮ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার এবং ২টি ছক্কা।
চলতি মহিলা এশিয়া কাপেও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন শেফালি। পাঁচ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ২৩৬ রান। গড় ৪৭.২০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৭১.০১। তিনটি অর্ধশতরান করেছেন তিনি এবং সর্বোচ্চ স্কোর ৬৮।
Advertisements
একটি সংস্করণে তিনটি পঞ্চাশ বা তার বেশি রানের ইনিংস করার নজিরেও শেফালি এখন যৌথভাবে শীর্ষে। শ্রীলঙ্কার হয়ে ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়নশিপ অভিযানে চামারি আতাপাত্তু তিনটি পঞ্চাশ বা তার বেশি রানের ইনিংস করেছিলেন।
১২৯ রানের ওপেনিং জুটি, নতুন এশিয়া কাপ রেকর্ড
শেফালি এবং মন্ধানার ব্যাটে তৈরি হয় ১২৯ রানের ওপেনিং জুটি। মহিলা এশিয়া কাপের ইতিহাসে কোনও উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ ওপেনিং পার্টনারশিপ। এর আগে এই রেকর্ড ছিল জেমিমা রডরিগেজ এবং দীপ্তি শর্মার দখলে। ২০২২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে তাঁরা প্রথম উইকেটে ১২৮ রান করেছিলেন।
শুধু মহিলা এশিয়া কাপ নয়, মহিলা টি-২০ আন্তর্জাতিকের ফাইনালের ইতিহাসেও এটি সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ। ২০১৬ সালের মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউজ এবং স্টেফানি টেলরের ১২০ রানের জুটিকে পিছনে ফেলেছে ভারতের এই জুটি।
১০০ রানের জুটিতে বিশ্বরেকর্ডের কাছাকাছি
মন্ধানা এবং শেফালির জুটি মহিলা টি-২০ আন্তর্জাতিকেও দীর্ঘদিন ধরে নজির গড়ে চলেছে। ১০৫টি ইনিংসে দুজনে মিলে করেছেন ৩,৯০৯ রান। তাঁদের ব্যাটিং গড় ৩৮.৩২ এবং রান তোলার হার ৮.২৬ রান প্রতি ওভার। দুজনের মধ্যে এখন পর্যন্ত রয়েছে ছয়টি শতরানের জুটি এবং ২৪টি অর্ধশতরানের জুটি। টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্য কোনও জুটি একসঙ্গে ৩,০০০ রানের বেশি করতে পারেনি।কমপক্ষে ১,৫০০ রান একসঙ্গে করা ১৪টি জুটির মধ্যে মন্ধানা-শেফালিই একমাত্র জুটি, যাদের রান তোলার হার ৮ রান প্রতি ওভারের বেশি।
৩৯ বলে ৫৯ মন্ধানার
শেফালির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাট করেন মন্ধানাও। ৩৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন বাঁহাতি ওপেনার। শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার এবং ৩টি ছক্কা। তবে ১২৯ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙে রান আউটে। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির জেরে মন্ধানাকে ক্রিজ ছাড়তে হয়।
শেষদিকে ভরতীর ঝোড়ো ব্যাটিং
মন্ধানা ও শেফালি ফিরে যাওয়ার পর ভারতীয় ব্যাটিংয়ে কিছুটা ছন্দপতন দেখা যায়। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ১৪ বলে ১৪ রান করেন। রিচা ঘোষের ব্যাট থেকেও আসে ১৩ বলে ১৭ রান। তবে শেষদিকে ভরতি ফুলমালির মাত্র ৫ বলে অপরাজিত ১৫ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস ভারতের স্কোরকে ১৮০ রানের কাছাকাছি নিয়ে যায়। তাঁর ইনিংসে ছিল একটি চার এবং একটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান তোলে ভারত।
শ্রীলঙ্কার হয়ে মিথালি ও আতাপাত্তু সফল
শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে মিথালি আয়োধ্যা এবং চামারি আতাপাত্তু সবচেয়ে সফল ছিলেন। দুজনেই চার ওভার করে বল করে একটি করে উইকেট নেন। মিথালি ৩৩ রান এবং আতাপাত্তু ৩৪ রান খরচ করেন।
তবে শেফালি-মন্ধানার ১২৯ রানের জুটি এবং ভারতের ১৮৩ রানের স্কোর শ্রীলঙ্কার সামনে ফাইনালে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে দেয়। ব্যাট হাতে একের পর এক রেকর্ড গড়ে ভারতীয় ওপেনাররা যে মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন, তার পর বোলারদের সামনে লক্ষ্য ছিল সেই ম্যাচ জয়ের কাজ সম্পূর্ণ করা।