সচিন-দ্রাবিড়-সৌরভদের নিয়ে বড় কমিটি চান গাভাসকর, বিসিসিআইকে প্রস্তাব
ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতির জন্য বিসিসিআইকে এবার কিছুটা অন্যভাবে ভাবার পরামর্শ দিলেন কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar)। তাঁর প্রস্তাব শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো বদলানোতেই সীমাবদ্ধ নয়,…
ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতির জন্য বিসিসিআইকে এবার কিছুটা অন্যভাবে ভাবার পরামর্শ দিলেন কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar)। তাঁর প্রস্তাব শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো বদলানোতেই সীমাবদ্ধ নয়, ভারতীয় ক্রিকেটের একাধিক প্রাক্তন মহাতারকাকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার কথাও বলেছেন তিনি। সেই তালিকায় রয়েছে সচিন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রবি শাস্ত্রী, অনিল কুম্বলে, হরভজন সিং এবং বীরেন্দ্র শেহবাগের মতো নাম।
সম্প্রতি দলীপ ট্রফির ফাইনালে ইস্ট জ়োনের কৌশল নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন গাভাসকর। ইশান কিষাণের নেতৃত্বাধীন ইস্ট জ়োন প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়ার সুবাদে ট্রফি জেতে। প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধান তৈরি করার পরও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে ম্যাচ কার্যত দক্ষিণ জ়োনের হাতের বাইরে নিয়ে যায় ইস্ট জ়োন। ম্যাচ শেষ হওয়ার এক দিন আগেই ফলের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন গাভাসকর।
Read More:
দলীপ ট্রফির নিয়ম নিয়ে গাভাসকরের আপত্তি
গাভাসকর জানিয়েছেন, বিসিসিআই টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান থাকার সময় তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা বেশ কিছু বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, সেই সময় রঞ্জি ট্রফিতে জ়োনভিত্তিক ব্যবস্থা তুলে দিয়ে এলিট এবং প্লেট প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছিল। এর ফলে ক্রিকেটাররা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ভিন্ন আবহাওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতাও তৈরি হয়েছিল।
Advertisements
পয়েন্ট ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল। গাভাসকরের মতে, প্রথম ইনিংসে লিডের জন্য এক পয়েন্ট এবং সরাসরি জয়ের জন্য দুই পয়েন্ট রাখা হয়েছিল। কোনও বোনাস পয়েন্ট রাখা হয়নি, কারণ সেটি নিয়ে কারচুপির সুযোগ থাকতে পারে বলে তাঁর মত। দলীপ ট্রফির সাম্প্রতিক ফাইনালের অভিজ্ঞতার পর ফের সেই ধরনের র্যাডিক্যাল বা সাহসী পরিবর্তন নিয়ে ভাবার সময় এসেছে বলেই মনে করছেন প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক।
Read More:
সচিন, দ্রাবিড়, সৌরভদের নিয়ে বড় কমিটির প্রস্তাব
গাভাসকরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব এসেছে বিসিসিআইয়ের ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটি বা সিএসি নিয়ে। তাঁর মতে, বর্তমানে বিসিসিআইয়ে নির্বাচক কমিটি এবং সিএসি ছাড়া আগের মতো বিভিন্ন ধরনের কমিটি নেই। তাই সিএসির দায়িত্ব এবং পরিধি আরও বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি।
গাভাসকরের প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচক এবং কোচ বাছাইয়ের পাশাপাশি ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সূচি, ভারতীয় ক্রিকেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সামগ্রিক ক্রিকেট পরিচালনা নিয়েও এই কমিটি কাজ করতে পারে। আর এই কমিটিতে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পক্ষপাতী তিনি।
তালিকায় ভারতের একাধিক কিংবদন্তি
গাভাসকর যে নামগুলি উল্লেখ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
- সচিন তেন্ডুলকর
- রাহুল দ্রাবিড়
- সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়
- রবি শাস্ত্রী
- অনিল কুম্বলে
- হরভজন সিং
- বীরেন্দ্র শেহবাগ
তাঁর মতে, এত অভিজ্ঞ প্রাক্তন ক্রিকেটারকে এক জায়গায় এনে তাঁদের জ্ঞান এবং ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিসিসিআইয়ের সভাপতি এবং সচিবও এই কমিটির অংশ থাকবেন বলে তাঁর প্রস্তাব।
কোচ, অধিনায়ক এবং এনসিএ প্রধানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা
গাভাসকরের প্রস্তাবের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এই কমিটি শুধু কাগজে-কলমে সিদ্ধান্ত নেবে না। ভারতীয় দলের কোচ, অধিনায়ক এবং ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির প্রধানের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করতে পারে এই কমিটি। তাঁর মতে, সচিন, দ্রাবিড়, সৌরভদের মতো ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান কোচ-অধিনায়কের বাস্তব অভিজ্ঞতা একসঙ্গে কাজে লাগলে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী হতে পারে। গাভাসকরের বক্তব্য, এমন একটি কমিটি তৈরি হলে তার প্রভাব অত্যন্ত বড় হতে পারে।
মহিলা ক্রিকেটের জন্যও একই ধরনের কাঠামো
শুধু পুরুষদের ক্রিকেট নয়, মহিলা ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কমিটি তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন গাভাসকর। তাঁর মতে, মহিলা ক্রিকেটের উন্নতির জন্যও অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতাকে এক জায়গায় এনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অর্থাৎ, গাভাসকরের ভাবনায় বিসিসিআইয়ের পরামর্শদাতা কাঠামো আরও বড় হবে এবং প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা সরাসরি ভারতীয় ক্রিকেটের নীতি নির্ধারণে কাজে লাগানো হবে।
বাস্তবে কি এমন কমিটি তৈরি হবে?
গাভাসকর নিজেই জানেন, তাঁর প্রস্তাব যথেষ্ট বড় পরিবর্তনের কথা বলছে। তাই শেষ পর্যন্ত এমন কমিটি আদৌ তৈরি হবে কি না, সেই প্রশ্নও তিনি তুলেছেন। তবে তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় স্পষ্ট, ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিতে দেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতাকে শুধু স্মৃতিতে আটকে না রেখে প্রশাসনিক এবং নীতিগত সিদ্ধান্তেও কাজে লাগানো উচিত।
সচিন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়দের মতো প্রাক্তন তারকারা যদি একই মঞ্চে বসে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে মত দেন, তাহলে সেই কমিটির সিদ্ধান্তের গুরুত্ব নিঃসন্দেহে অনেকটাই বাড়বে। গাভাসকরের এই প্রস্তাব এখন বিসিসিআই কীভাবে নেয়, সেটাই দেখার।