মোদী রাজ্যে তৈরী হচ্ছে কৃত্রিম সূর্য! SST-1 টোকামাকে বসানো হল শক্তিশালী গাইরোট্রন - 24 Ghanta Bangla News
Home

মোদী রাজ্যে তৈরী হচ্ছে কৃত্রিম সূর্য! SST-1 টোকামাকে বসানো হল শক্তিশালী গাইরোট্রন

Spread the love

নয়াদিল্লি: সূর্যের ভিতরে যে প্রক্রিয়ায় বিপুল শক্তি তৈরি হয়, পৃথিবীর পরীক্ষাগারে সেই একই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। ভারতের ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরির গবেষণাতেও এবার…

নয়াদিল্লি: সূর্যের ভিতরে যে প্রক্রিয়ায় বিপুল শক্তি তৈরি হয়, পৃথিবীর পরীক্ষাগারে সেই একই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। ভারতের ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরির গবেষণাতেও এবার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হল।

গুজরাতের প্লাজমা রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ভারতের পরীক্ষামূলক ফিউশন মেশিন SST-1 টোকামাকে একটি নতুন শক্তিশালী গাইরোট্রন স্থাপন ও চালু করা হয়েছে। ( artificial Sun )৮২.৬ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি এবং ৪০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই গাইরোট্রন অত্যন্ত উত্তপ্ত প্লাজমাকে আরও কার্যকরভাবে উত্তপ্ত ও দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল রাখতে গবেষকদের সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও দেখুনঃ আর বাইরে থেকে আমদানি না! দেশেই গ্যান-অন-সিলিকন কার্বাইড চিপ বানিয়ে তাকে লাগাল DRDO

SST-1 বা Steady State Superconducting Tokamak হল ভারতের নিজস্ব পরীক্ষামূলক ফিউশন ডিভাইস। এর লক্ষ্য হল সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের মত নিউক্লিয়ার ফিউশনের মাধ্যমে কীভাবে বিপুল শক্তি তৈরি করা যায়, তা গবেষণাগারে পরীক্ষা করা। প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করা হয়। কিন্তু ফিউশন প্রযুক্তিতে হালকা পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপের মধ্যে একত্রিত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ শক্তি মুক্ত হতে পারে।

Advertisements


   


   

এই গোটা পরীক্ষার কেন্দ্রে রয়েছে প্লাজমা। এটি পদার্থের এমন এক অত্যন্ত উত্তপ্ত ও বৈদ্যুতিকভাবে চার্জযুক্ত অবস্থা, যেখানে পরমাণুগুলি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে না। ফিউশন ঘটানোর জন্য বিজ্ঞানীদের প্লাজমাকে অবিশ্বাস্য মাত্রায় উত্তপ্ত করতে হয়। ভারতের ফিউশন গবেষণায় ইতিমধ্যেই ২০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার প্লাজমা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রার প্রায় ২০ গুণ পর্যন্ত উত্তপ্ত প্লাজমা পরীক্ষাগারে তৈরি করার সক্ষমতা অর্জন করেছেন বিজ্ঞানীরা।

তবে শুধু বিপুল তাপমাত্রা তৈরি করলেই ফিউশন সম্ভব নয়। ( artificial Sun )আসল চ্যালেঞ্জ হল সেই ভয়ঙ্কর উত্তপ্ত প্লাজমাকে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ন্ত্রণে রাখা। সূর্যের ক্ষেত্রে তার বিপুল মহাকর্ষীয় শক্তি প্লাজমাকে আটকে রাখে। কিন্তু পৃথিবীতে এমন কোনও প্রাকৃতিক ব্যবস্থা নেই। তাই টোকামাকের ভিতরে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে প্লাজমাকে দেয়ালের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হয়। সামান্য অস্থিরতা তৈরি হলেই প্লাজমার নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হতে পারে এবং পরীক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ভেঙে পড়তে পারে।

এখানেই নতুন গাইরোট্রনের গুরুত্ব। গাইরোট্রন হল এমন একটি শক্তিশালী যন্ত্র, যা উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির মাইক্রোওয়েভ শক্তি তৈরি করতে পারে। SST-1-এর ভিতরে এই শক্তি পাঠিয়ে প্লাজমাকে আরও উত্তপ্ত করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেই অবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে। এর আগে ব্যবহৃত ৪২ গিগাহার্টজ সিস্টেমের তুলনায় নতুন ৮২.৬ গিগাহার্টজ, ৪০০ কিলোওয়াট গাইরোট্রন গবেষণার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।

তবে এই সাফল্যকে এখনই ‘কৃত্রিম সূর্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। SST-1 কোনও বাণিজ্যিক ফিউশন বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়। নতুন গাইরোট্রনও রাতারাতি ফিউশন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে না। বরং এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আরও উত্তপ্ত প্লাজমা তৈরি করে সেটিকে দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল রাখার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *