মরুরাজ্যের পুরসভা ভোটে বিজেপির দাপট, ২০২৮-এর আগে চাপে কংগ্রেস
নয়াদিল্লি: রাজস্থানের পুরসভা নির্বাচনের (Rajasthan Municipal Election) ফলাফল ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতির সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল। শাসক বিজেপি এখনও রাজ্যে নিজেদের দাপট ধরে রেখেছে, যদিও কয়েকটি জায়গায় দলকে জমি হারাতে হয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় ভালো ফল করলেও বিরোধী ভোটের জায়গায় আম আদমি পার্টি এবং সিপিএমের উত্থান তাদের জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০,২০০টি ওয়ার্ডের ফল ঘোষণা হয়েছে। সেখানে বিজেপি ৪,১৭৯টি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে, কংগ্রেস জিতেছে ৩,৬১৩টি। নির্দল প্রার্থীরা ২,২৭৩টি ওয়ার্ডে জয় পেয়ে একাধিক পুরসভায় বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠেছেন।
ভজনলাল শর্মা সরকারের জন্য স্বস্তি
পুরসভা নির্বাচনের ফলাফল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার সরকারের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি ভজনলাল শর্মাকে মুখ্যমন্ত্রী করে। দলের একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর উপরই আস্থা রেখেছিল বিজেপি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে মাসুদ আজহারের মাথার দাম বেড়ে হল ৭০ লক্ষ পাকিস্তানি রুপি
Advertisements
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য সরকারকে একাধিক বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ইউজিসি-র নিয়ম নিয়ে কর্ণি সেনার প্রতিবাদ এবং সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি নিয়ে প্রচার, এমন একাধিক ইস্যুতে বিজেপি সরকার চাপে পড়েছিল। তবে পুরসভা নির্বাচনের ফলাফল বলছে, এই বিষয়গুলির প্রভাব এখনও পর্যন্ত বিজেপির সামগ্রিক নির্বাচনী ভিত্তিকে বড় ধাক্কা দিতে পারেনি।
ফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা ভোটার এবং দলীয় কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তাঁর দাবি, গত আড়াই বছরে তাঁর সরকার সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ৭৮ শতাংশ পূরণ করেছে।
কংগ্রেসের ফল মিশ্র, চিন্তা বাড়াচ্ছে আপ ও সিপিএম
কংগ্রেস বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভালো ফল করেছে। কিন্তু দলটির জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল, বিজেপির প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে এতদিন যে জায়গাটি কংগ্রেস ধরে রেখেছিল, সেখানে এবার আম আদমি পার্টি এবং সিপিএমও জায়গা করে নিয়েছে। বারান নগর পরিষদে আম আদমি পার্টির জয় এবং নোখা নগর পালিকায় সিপিএমের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কংগ্রেসের জন্য সতর্কবার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: অগাস্টে দেশে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৪.৮২%! বাড়ল সবজির দাম
রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা অবশ্য বিজেপির ফলাফলকে ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় নির্বাচনে সাধারণত শাসক দলের দিকে ভোট যাওয়ার প্রবণতা থাকলেও এবার বিজেপি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। তিনি ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর দাবি, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসে অনিয়ম না হলে কংগ্রেস আরও প্রায় ১,৫০০টি ওয়ার্ডে জয় পেতে পারত।
তবে এগুলি কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির রাজনৈতিক দাবি। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এবং ভোটের পূর্ণাঙ্গ বিভাজন সামনে এলেই বিজেপি ও কংগ্রেসের প্রকৃত ভোটের ব্যবধান আরও পরিষ্কার হবে।
তফসিলি জাতি ও মহিলা সংরক্ষিত আসনে কংগ্রেসের দাবি
দোতাসরার দাবি অনুযায়ী, তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কংগ্রেস ৫৪২টি আসন জিতেছে, যেখানে বিজেপির জয় ৩৫০টি। তফসিলি জাতির মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কংগ্রেস ২৬১টি আসন পেয়েছে, বিজেপি পেয়েছে ১৮৬টি। তফসিলি উপজাতি মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কংগ্রেসের জয় ৫৩টি, বিজেপির ৩৯টি। আজমেরে ৮০টি ওয়ার্ডের মধ্যে কংগ্রেস ৩৭টিতে জয় পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দোতাসরা। বিজেপি পেয়েছে ৩২টি।
বসুন্ধরা রাজের গড়ে বড় জয় কংগ্রেসের
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপির প্রবীণ নেত্রী বসুন্ধরা রাজের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত ঝালাওয়ারে বড় জয় পেয়েছে কংগ্রেস। ঝালাওয়ার মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছে ১৮টিতে। বিজেপি নেত্রী বসুন্ধরা রাজে বর্তমানে ঝালাওয়ার জেলার ঝালরাপাটন বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক। জেলায় মোট ৮টি নগর স্থানীয় সংস্থা রয়েছে।
এছাড়াও পালি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনেও বিজেপিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে কংগ্রেস। ৬৫ সদস্যের পুরসভায় কংগ্রেস একক বৃহত্তম দল হয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রাজ্য বিজেপি সভাপতি মদন রাঠোরের নিজের ওয়ার্ডেও কংগ্রেস বিজেপিকে হারিয়েছে।
राजस्थान के नगर निकाय चुनाव में भाजपा को प्रचंड जीत दिलाने के लिए जनता-जनार्दन का हृदय से आभार।
यह झूठ की गूंज के सामने सत्य की विजय का प्रमाण है।
यहां के मेरे परिवारजनों के इस जनादेश से एक बार फिर साफ हो गया है कि डबल इंजन सरकार की सुशासन एवं विकास की नीतियों को उनका पूरा…
— Narendra Modi (@narendramodi) September 14, 2026
বারানে আপের চমক
রাজস্থানে তুলনামূলক সীমিত রাজনৈতিক উপস্থিতি থাকা আম আদমি পার্টির কাছে বারানের ফলাফল নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। ৬০টি ওয়ার্ডের মধ্যে আপ একাই ৩১টি আসন জিতেছে, অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৩১টি আসনই তারা পেয়েছে। কংগ্রেস ১৮টি এবং বিজেপি ৯টি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে। নির্দল প্রার্থীরা পেয়েছেন ২টি আসন।
রাজস্থানে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের সংগঠন এখনও সীমিত। সেই জায়গা থেকে একটি নগর পরিষদে সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের জন্য বড় রাজনৈতিক উৎসাহ তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন: ঝাড়খণ্ডের SIR এ নোটিশ জারি ৩৮ সদস্যের ইরানি পরিবারকে
নোখায় সিপিএমের উত্থান
নোখা নগর পালিকাতেও সিপিএম সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ফলে কংগ্রেসের জন্য সমস্যা শুধু বিজেপিকে নিয়ে নয়। বিরোধী শিবিরের ভোটে আঞ্চলিকভাবে অন্য দলগুলির প্রবেশও কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে।
নির্দলরাই হতে পারেন আসল ‘কিংমেকার’
এই নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দল প্রার্থীদের শক্তিশালী ফলাফল। মোট ২,২৭৩টি ওয়ার্ডে নির্দলরা জয় পেয়েছেন। একাধিক পুরসভায় বিজেপি বা কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বোর্ড গঠনের জন্য নির্দল কাউন্সিলরদের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। ফলে আগামী দিনে পুরসভাগুলিতে ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণে নির্দলরাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। বিজেপি ও কংগ্রেস, দুই দলকেই এখন এই নির্দল কাউন্সিলরদের সমর্থন পাওয়ার জন্য কৌশল সাজাতে হবে।
২০২৮ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কী বার্তা?
২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ১১৫টি আসন জিতেছিল এবং তাদের ভোটের হার ছিল ৪১.৭ শতাংশ। সেই নির্বাচনে কংগ্রেস ৭০টি আসন পেয়েছিল, ভোটের হার ছিল ৩৯.৫৮ শতাংশ।
২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচন এখনও দুই বছরের বেশি দূরে। তাই পুরসভা নির্বাচনের ফলকে সরাসরি বিধানসভা ভোটের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তবে দুই প্রধান দলের জন্য এই ফলাফল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
বিজেপি বুঝতে পারছে, সব জায়গায় তাদের আধিপত্য সমান শক্তিশালী নেই। অন্যদিকে কংগ্রেসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল বিজেপির বিরুদ্ধে প্রধান বিকল্প হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে আপ, সিপিএম ও নির্দলদের কারণে বিরোধী ভোটের বিভাজন ঠেকানো।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন নির্দল কাউন্সিলরদের ঘিরে। কারণ পুরসভা নির্বাচনে তাঁরা একক বৃহত্তম শক্তি না হলেও একাধিক জায়গায় বোর্ড গঠনের চাবিকাঠি তাঁদের হাতেই থাকতে পারে।
অর্থাৎ, ২০২৮-এর লড়াইয়ের আগে রাজস্থানে বিজেপি এখনও এগিয়ে, কিন্তু কংগ্রেসের জন্য এই ফলাফল স্পষ্ট সতর্কবার্তা। একই সঙ্গে আপ, সিপিএম এবং নির্দলদের উত্থান রাজ্যের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইকে আরও বহুমুখী করে তুলতে পারে।