পাকিস্তানে মাসুদ আজহারের মাথার দাম বেড়ে হল ৭০ লক্ষ পাকিস্তানি রুপি
নয়াদিল্লি: জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে ঘিরে ফের অস্বস্তিতে পাকিস্তান ( Masood Azhar)। পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা FIA তাদের সর্বশেষ মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিদের তালিকায় মাসুদ…
নয়াদিল্লি: জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে ঘিরে ফের অস্বস্তিতে পাকিস্তান ( Masood Azhar)। পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা FIA তাদের সর্বশেষ মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিদের তালিকায় মাসুদ আজহারের মাথার দাম ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি বাড়িয়ে ৭০ লাখ রুপি করেছে।
২০২১ সালে তার গ্রেফতারের বিষয়ে তথ্য দিলে ৫০ লাখ রুপি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছিল FIA। এবার সেই অঙ্ক বাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন অক্টোবর মাসে Financial Action Task Force বা FATF-এর গুরুত্বপূর্ণ প্লেনারি বৈঠক হওয়ার কথা। ফলে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
আরও দেখুনঃ অগাস্টে দেশে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৪.৮২%! বাড়ল সবজির দাম
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, মাসুদ আজহার ( Masood Azhar)এখন আর দেশে নেই এবং সে আফগানিস্তানে লুকিয়ে রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, মাসুদ আজহার পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের নওয়াবশাহ এলাকায় থাকতে পারে। গত প্রায় ছয় মাসে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। ফলে পাকিস্তানের সরকারি বক্তব্য এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের মধ্যে ফারাক থেকেই যাচ্ছে।
Advertisements
মাসুদ আজহারকে নতুন করে FIA-র ২০২৬ সালের Red Book-এ অন্তর্ভুক্ত করা এবং তার মাথার দাম বাড়ানোর সময় নিয়েও বিশেষ নজর রয়েছে। ভারতীয় সূত্রগুলির দাবি, অক্টোবরের FATF বৈঠকের আগে পাকিস্তান নিজেদের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের ছবি তুলে ধরতে চাইছে।
আন্তর্জাতিক মহলে যাতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ফের জোরালো না হয়, সেই কারণেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে পাকিস্তানের তরফে কোনও আলাদা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
মাসুদ আজহার ভারতের কাছে বহু জঙ্গি হামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। ( Masood Azhar)২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় সিআরপিএফের কনভয়ে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন জওয়ান নিহত হন। সেই হামলার সঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদের যোগ এবং সংগঠনটির ভূমিকা নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই সরব। ফলে মাসুদ আজহারকে নিয়ে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ভারতের নজরে থাকা স্বাভাবিক।
FIA-র নতুন Red Book-এ শুধু মাসুদ আজহারই নয়, ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। তালিকায় মোট ১৯ জনের নাম রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে হামলার জন্য অর্থ জোগানো অথবা হামলাকারীদের ব্যবহৃত নৌকা জোগাড়ে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৭ জনের ছবি, পরিচয় এবং কথিত ভূমিকার বিবরণ রাখা হয়েছে।
কিন্তু দু’জনের ক্ষেত্রে আগের তালিকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে মুহাম্মদ খান নামে এক ব্যক্তিকে ২০২১ সালের তালিকায় লস্কর-ই-তইবার সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং হামলাকারীদের মুম্বই পৌঁছতে ব্যবহৃত ‘আল-হুসাইনি’ নৌকা সরবরাহের অভিযোগ ছিল। অন্য অভিযুক্ত আবদুল রহমানের ক্ষেত্রেও আগের তালিকায় ছবি ও লস্কর-ই-তইবার যোগের উল্লেখ ছিল। নতুন তালিকায় সেই তথ্যগুলি আর নেই।
মুম্বই হামলার জন্য নৌকা ব্যবহারের ব্যবস্থা এবং অর্থ জোগানের অভিযোগে আরও বেশ কয়েকজনের নাম Red Book-এ রাখা হয়েছে। FIA-র তালিকায় এমন ১১ জনের নাম রয়েছে, যারা হামলাকারীদের ‘আল-হুসাইনি’ ও ‘আল-ফাউজ’ নৌকায় যাত্রার ব্যবস্থা করতে সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ। আরও ছয়জনের বিরুদ্ধে হামলার অর্থ জোগানোর অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে মুহাম্মদ ইফতিখার আলির বিরুদ্ধে হামলাকারী এবং তাদের হ্যান্ডলারদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য Voice over Internet Protocol বা VoIP সংযোগ তৈরিতে ৭০ হাজার পাকিস্তানি রুপি খরচ করার অভিযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে FIA-র Red Book-এ এখন ১,৮০৪ জনের নাম রয়েছে। ( Masood Azhar)২০২১ সালে এই তালিকায় ছিল ১,৩৩০ জন। অর্থাৎ পাঁচ বছরে তালিকায় নামের সংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।
এর মধ্যেই Operation Sindoor-এ মাসুদ আজহারের সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটিতে হামলার বিষয়টিও ফের আলোচনায় এসেছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত মার্কাজ সুবহানাল্লাহ ওই অভিযানে ধ্বংস করা হয়েছিল।
প্রায় ১০০ কিলোমিটার পাকিস্তানের ভিতরে অবস্থিত এই স্থাপনাটি ২০১৫ সাল থেকে জইশের প্রশিক্ষণ, মতাদর্শগত প্রচার এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি। সেখানে মাসুদ আজহারের পরিবারের সদস্য এবং সংগঠনের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার উপস্থিতির কথাও জানানো হয়েছিল।