চিনা প্রযুক্তিতে বজ্রআঁটুনি! BRICS সম্মেলনে জিনপিংয়ের AI ডাকে দোটানায় মোদী
নয়াদিল্লি: চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা পেশ করেছেন(Xi Jinping)। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো চিন-নেতৃত্বাধীন ওপেন-সোর্স এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রস্তাব।…
নয়াদিল্লি: চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা পেশ করেছেন(Xi Jinping)। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো চিন-নেতৃত্বাধীন ওপেন-সোর্স এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রস্তাব। তিনি ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি উন্মুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্প্রদায় তৈরির কথা বলেছেন, যেখানে চিনা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম-এর উন্নয়ন ও প্রয়োগে সহযোগিতা করা হবে।
পাশাপাশি একটি ব্রিকস ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।নয়াদিল্লিতে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে শি (Xi Jinping)এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তার মতে, ব্রিকস দেশগুলোকে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে একটি বৃহৎ সমন্বিত বাজার গড়ে তুলতে হবে। সরবরাহ শৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করাই মূল লক্ষ্য। এই পাঁচ দফা উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ওপেন-সোর্স ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজীকরণ, ডিজিটাল শিল্প সহযোগিতা, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং প্রযুক্তিগত প্রতিভা বিকাশ।
আরও দেখুনঃ মেয়াদ চলাকালীন দলবদল করলে নেতাদের ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার দাবি সিব্বলের
বিশেষ করে এআই উদ্যোগে চিন নিজেকে অগ্রণী ভূমিকায় দেখতে চায়। শি (Xi Jinping)বলেছেন, চিনা ব্রিকস এআই ওপেন-সোর্স কমিউনিটি গঠনে নেতৃত্ব দেবে। বড় ভাষা মডেলের উন্নয়ন ও প্রয়োগে সহযোগিতা করা হবে। এআই বিষয়ক বিশেষ সেমিনার ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে এবং একটি উন্মুক্ত এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে।
Advertisements
ডিজিটাল খাতেও চিন একটি ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দক্ষতা প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি বিনিময় ও শিল্প সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শি ব্রিকস স্পেশাল ইকোনমিক জোন পার্টনারশিপ গঠনের কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে দেশগুলো নীতি সমন্বয় করে নতুন উন্মুক্ত উন্নয়নের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারবে। স্মার্ট ফ্যাক্টরি নির্মাণে চিনের সহায়তা এবং মান ও নিয়ম তৈরির কথাও উঠে এসেছে।
প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ জোট গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।ভারতের জন্য এই প্রস্তাবগুলো উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছর ধরে ভারত চিনা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছে। সীমান্ত উত্তেজনা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে চীনা অ্যাপ, সরঞ্জাম ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এখন ব্রিকসের ভেতরেই চিন তার প্রযুক্তি মডেল ছড়িয়ে দিতে চাইছে এটি ভারতের কাছে লাল পতাকা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চিন (Xi Jinping)যেভাবে নিজের এলএলএম ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে ব্রিকসের কেন্দ্রে রাখতে চাইছে, তাতে নিয়ম নির্ধারণের ক্ষমতা বেইজিংয়ের হাতে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারত নিজস্ব প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে এবং কোনো একক দেশের আধিপত্য মেনে নিতে রাজি নয়। সম্মেলনে যৌথ ঘোষণায় এআই-এর নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহারের কথা বলা হলেও শির নির্দিষ্ট প্রস্তাবগুলো স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিন গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে তার প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে টেনে আনতে চাইছে। আমেরিকার সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতায় এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো নিজের স্বার্থ রক্ষা করে ব্রিকসে সক্রিয় থাকা। চিন পরের বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব পাবে। তখন এই প্রস্তাবগুলো আরও জোরালোভাবে এগিয়ে আসতে পারে।