আর বাইরে থেকে আমদানি না! দেশেই গ্যান-অন-সিলিকন কার্বাইড চিপ বানিয়ে তাকে লাগাল DRDO - 24 Ghanta Bangla News
Home

আর বাইরে থেকে আমদানি না! দেশেই গ্যান-অন-সিলিকন কার্বাইড চিপ বানিয়ে তাকে লাগাল DRDO

Spread the love

নয়াদিল্লি: ফের সাফল্যের পথে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা DRDO।  DRDO সম্প্রতি এমন এক প্রযুক্তিগত কৃতিত্ব অর্জন করেছে যা বিশ্বের অনেক দেশের নাগালের বাইরে।…

নয়াদিল্লি: ফের সাফল্যের পথে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা DRDO।  DRDO সম্প্রতি এমন এক প্রযুক্তিগত কৃতিত্ব অর্জন করেছে যা বিশ্বের অনেক দেশের নাগালের বাইরে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে সলিড স্টেট ফিজিক্স ল্যাবরেটরি সফলভাবে দেশীয় গ্যালিয়াম নাইট্রাইড অন সিলিকন কার্বাইড বা গ্যান-অন-সিলিকন কার্বাইড চিপ তৈরি করেছে।

এই অর্জনকে নিঃশব্দে অর্জিত একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে কঠোর রফতানি নিয়ন্ত্রণের অধীনে।এই চিপগুলোর আকার অত্যন্ত ছোট। (DRDO)একটি চিপের পরিমাপ মাত্র ৩.৫ বাই ৩ মিলিমিটার। কিন্তু এই ক্ষুদ্র আকারের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অসাধারণ ক্ষমতা। এটি ৩০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে এবং সাধারণ সিলিকন চিপের তুলনায় প্রায় ৩০০ গুণ দ্রুত কাজ করে।

আরও দেখুনঃ উলটপুরাণ! বাংলাদেশে ২ মাসে ৫০০ টন ইলিশ পাঠাল ভারত

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে যেসব প্রযুক্তি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর হৃদয়ে এই চিপগুলো কাজ করে। এগুলো এএসএ রাডার ট্রান্সমিটার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার পডগুলোতে ব্যবহৃত হয়। এই রাডারগুলো শত্রুর সিগন্যাল শনাক্ত করতে পারে এবং জ্যামারগুলো সেই সিগন্যালগুলোকে ব্যাহত করে। সহজ কথায়, এগুলো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চোখ ও কান হিসেবে কাজ করে।এতদিন ভারত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির জন্য বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল।

Advertisements


   


   

খরচও ছিল অনেক বেশি। বিশ্বের কয়েকটি দেশই এই প্রযুক্তি নিজেদের হাতে তৈরি করতে পারে এবং তারাও সহজে অন্যদের কাছে বিক্রি করে না। রফতানি নিয়ন্ত্রণের কারণে অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিপ পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ত। সেই বাধা এখন ভারত নিজেই ভাঙতে শুরু করেছে। ডিআরডিওর (DRDO)এই সাফল্য দেশের প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার পথে একটি বড় পদক্ষেপ।উৎপাদনের দিক থেকেও ইতিমধ্যে কিছু অগ্রগতি হয়েছে।

হাইদরাবাদের গ্যাটেক নামক প্রতিষ্ঠানে সীমিত পরিসরে উৎপাদন লাইন চালু হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। অগ্নিত সেমিকন্ডাক্টরস-এর মতো কোম্পানিগুলোকে স্কেল বাড়ানোর কাজে সাহায্য করার জন্য আনা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের এই মডেলটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে উৎপাদন সম্ভব করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই প্রযুক্তির গুরুত্ব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়।

গ্যান চিপগুলো উচ্চ ক্ষমতা ও উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করতে পারে বলে এগুলো যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং অন্যান্য উন্নত ইলেকট্রনিক্সেও ব্যবহারযোগ্য। ভারত যদি নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে, তাহলে শুধু আমদানি খরচ কমবে না, বরং দেশীয় শিল্পও নতুন সুযোগ পাবে। দক্ষ কর্মী তৈরি হবে, গবেষণা আরও এগিয়ে যাবে এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের একটি শক্তিশালী পরিবেশ গড়ে উঠবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অর্জন হঠাৎ করে আসে না।

এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের গবেষণা, ধৈর্য এবং ক্রমাগত বিনিয়োগ। (DRDO)ডিআরডিওর বিজ্ঞানীরা বছরের পর বছর ধরে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে সহজে না পাওয়া যায় এমন একটি জিনিস নিজেদের হাতে তৈরি করা মানেই বড় ধরনের কৃতিত্ব। এটি শুধু একটি চিপ নয়, বরং ভারতের প্রযুক্তিগত আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা এখন আর শুধু স্লোগান নয়।

আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের আওতায় সামরিক হার্ডওয়্যার থেকে শুরু করে সফটওয়্যার পর্যন্ত সবকিছুতেই দেশীয় উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই গ্যান চিপ সেই ধারারই অংশ। যখন দেশ নিজেই এমন সংবেদনশীল প্রযুক্তি তৈরি করতে পারে, তখন বাইরের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা সরবরাহ সংকটের ভয় অনেকটাই কমে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *