Toyota গাড়ি কিনতে কতদিন অপেক্ষা? কলকাতায় ওয়েটিং পিরিয়ড জেনে নিন
উৎসবের মরসুম সামনে। পুজো বা অন্য কোনও শুভ অনুষ্ঠানে নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। ফলে গাড়ির চাহিদা যেমন বাড়ছে, তেমনই একের পর এক নতুন মডেল বাজারে আসছে। এই পরিস্থিতিতে টয়োটার (Toyota) গাড়ি যদি আপনার পছন্দের তালিকায় থাকে, তাহলে বুকিংয়ের পর গাড়ি হাতে পেতে কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের ২১টি শহরে টয়োটার বিভিন্ন মডেলের বর্তমান ওয়েটিং পিরিয়ডের তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, শহরভেদে অপেক্ষার সময়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ইনোভা হাইক্রস, ভেলফায়ার এবং ক্যামরির মতো মডেলের ক্ষেত্রে অপেক্ষা কয়েক মাস পর্যন্ত হতে পারে।
কলকাতায় টয়োটা গাড়ির ওয়েটিং পিরিয়ড
কলকাতায় টয়োটার বেশিরভাগ জনপ্রিয় মডেলের জন্য অপেক্ষার সময় তুলনামূলকভাবে কম। এখানে ইনোভা হাইক্রস পেতে প্রায় ৩-৪ মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গ্লানজা, ফরচুনার, হাইলাক্স, হাইরাইডার, ইনোভা ক্রিস্টা, ল্যান্ড ক্রুজার, রুমিয়ন এবং টাইসর-এর ক্ষেত্রে ওয়েটিং পিরিয়ড প্রায় ১ মাস।
অন্যদিকে ভেলফায়ার এবং ক্যামরি পেতে কলকাতায় ৩-৪ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফরচুনার লিজেন্ডার-এর ক্ষেত্রেও অপেক্ষার সময় প্রায় ১ মাস। অর্থাৎ, দ্রুত টয়োটা গাড়ি নিতে চাইলে কলকাতায় গ্লানজা, ফরচুনার বা হাইলাক্সের মতো মডেল তুলনামূলকভাবে সহজে পাওয়া যেতে পারে।
Advertisements
কোন শহরে ইনোভা হাইক্রস দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে?
ইনোভা হাইক্রসের ক্ষেত্রে ২১টি শহরের মধ্যে গাজিয়াবাদে ২-৪ মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা তালিকায় সবচেয়ে কম ওয়েটিং পিরিয়ডগুলির মধ্যে রয়েছে। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ, চেন্নাই এবং আমদাবাদে অপেক্ষা প্রায় ৩-৪ মাস। বেঙ্গালুরুতে ৩-৬ মাস এবং পুনে, জয়পুর ও সুরাটে ৬-৮ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। লখনউয়ে অপেক্ষা প্রায় ৬ মাস, পাটনাতেও ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগছে।
গ্লানজা পেতে বেশিরভাগ শহরেই এক মাস
টয়োটা গ্লানজার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পুনে, চেন্নাই, আমদাবাদ, কলকাতা, থানে, চণ্ডীগড়, কোয়েম্বাটোর, ফরিদাবাদ, ইন্দোর এবং নয়ডায় প্রায় ১ মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নয়াদিল্লি ও ঘাজিয়াবাদে অপেক্ষা প্রায় ১.৫ মাস। জয়পুরে ১-২ মাস এবং লখনউ, পাটনা ও অন্যান্য কিছু শহরে প্রায় ১.৫ মাস পর্যন্ত সময় লাগছে।
ভেলফায়ার: মুম্বইয়ে অপেক্ষা সবচেয়ে কম
টয়োটার বিলাসবহুল এমপিভি ভেলফায়ারের ক্ষেত্রে শহরভেদে পার্থক্য আরও স্পষ্ট। মুম্বইয়ে ১.৫ মাস অপেক্ষা করলেই গাড়ি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নয়াদিল্লিতে অপেক্ষা প্রায় ২ মাস। কলকাতা, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, আমদাবাদে ৩-৪ মাস এবং বেঙ্গালুরুতে ৩-৪ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পুনে, জয়পুর ও সুরাটে ভেলফায়ারের ওয়েটিং পিরিয়ড প্রায় ৬-৮ মাস পর্যন্ত পৌঁছেছে।
ক্যামরি: নয়াদিল্লিতে দ্রুত, জয়পুরে দীর্ঘ অপেক্ষা
ক্যামরির ক্ষেত্রেও একই ধরনের পার্থক্য রয়েছে। নয়াদিল্লিতে অপেক্ষা প্রায় ১-৩ মাস। কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই ও আমদাবাদে ৩-৪ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মুম্বইয়ে প্রায় ১.৫ মাস অপেক্ষা। অন্যদিকে পুনে, জয়পুর ও সুরাটে ক্যামরির জন্য ৬ মাস থেকে ৮ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ফরচুনার: কলকাতায় অপেক্ষা মাত্র এক মাস
টয়োটা ফরচুনারের ক্ষেত্রে কলকাতা দ্রুততম শহরগুলির মধ্যে রয়েছে। কলকাতায় অপেক্ষা প্রায় ১ মাস। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই এবং আমদাবাদেও ১ মাসের ওয়েটিং পিরিয়ড রয়েছে। পুনে, জয়পুর, থানে, চণ্ডীগড়, কোয়েম্বাটোর, ফরিদাবাদ, ইন্দোর এবং নয়ডায় অপেক্ষা প্রায় ১-২ মাস। অন্যদিকে মুম্বই, লখনউ, ঘাজিয়াবাদ এবং পাটনায় অপেক্ষা প্রায় ৩ মাস পর্যন্ত।
নতুন হাইলাক্স ফেসলিফটেও এক মাসের অপেক্ষা
সম্প্রতি বাজারে আসা টয়োটা হাইলাক্স ফেসলিফট বেশিরভাগ শহরেই প্রায় ১ মাসের ওয়েটিং পিরিয়ড নিয়ে পাওয়া যাচ্ছে। নয়াদিল্লিতে অবশ্য অপেক্ষা কিছুটা বেশি, প্রায় ১-৩ মাস। কলকাতায় হাইলাক্সের জন্য অপেক্ষা প্রায় ১ মাস।
হাইরাইডার: কোথায় সবচেয়ে দ্রুত?
হাইরাইডারের ক্ষেত্রে থানে, চণ্ডীগড়, কোয়েম্বাটোর, ফরিদাবাদ এবং ইন্দোরে অপেক্ষা সবচেয়ে কম, মাত্র ২-৪ সপ্তাহ। নয়ডাতেও হাইরাইডারের ক্ষেত্রে প্রায় ২-৪ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা রয়েছে বলে দেওয়া তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে নয়াদিল্লিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে অনিশ্চিত, সেখানে ওয়েটিং পিরিয়ড ১-৬ মাস পর্যন্ত হতে পারে। কলকাতায় হাইরাইডার পেতে প্রায় ১ মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ইনোভা ক্রিস্টা এবং রুমিয়ন
ইনোভা ক্রিস্টার জন্য বেশিরভাগ শহরে প্রায় ১ মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কলকাতাতেও ওয়েটিং পিরিয়ড প্রায় ১ মাস। তবে নয়াদিল্লিতে অপেক্ষা প্রায় ৩ মাস। রুমিয়নের ক্ষেত্রেও অধিকাংশ শহরে অপেক্ষা প্রায় ১ মাস। পুনে, জয়পুর এবং সুরাটে অবশ্য অপেক্ষা প্রায় ২ মাস।
ল্যান্ড ক্রুজার: কিছু শহরে মাত্র ২-৪ সপ্তাহ
টয়োটার প্রিমিয়াম এসইউভি ল্যান্ড ক্রুজারের ক্ষেত্রে থানে, চণ্ডীগড়, কোয়েম্বাটোর, ফরিদাবাদ, ইন্দোর এবং নয়ডায় অপেক্ষা মাত্র ২-৪ সপ্তাহ। নয়াদিল্লিতে অবশ্য ল্যান্ড ক্রুজারের জন্য ২-৩ মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কলকাতায় অপেক্ষা প্রায় ১ মাস।
ফরচুনার লিজেন্ডার ও টাইসর
ফরচুনার লিজেন্ডারের জন্য বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, আমদাবাদ এবং কলকাতায় প্রায় ১ মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মুম্বই, লখনউ, ঘাজিয়াবাদ ও পাটনায় অপেক্ষা ৩ মাস পর্যন্ত। টাইসরের ক্ষেত্রে থানে, চণ্ডীগড়, কোয়েম্বাটোর, ফরিদাবাদ, ইন্দোর এবং নয়ডায় অপেক্ষা মাত্র ২-৪ সপ্তাহ। নয়াদিল্লি, পুনে, জয়পুর এবং সুরাটে তা ১-২ মাস পর্যন্ত হতে পারে।
সবচেয়ে দ্রুত টয়োটা কোথায় পাওয়া যাচ্ছে?
সামগ্রিকভাবে থানে, চণ্ডীগড়, কোয়েম্বাটোর, ফরিদাবাদ এবং ইন্দোর-কে টয়োটার গাড়ি পাওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুততম শহরগুলির মধ্যে রাখা যায়। বিশেষ করে হাইরাইডার, ল্যান্ড ক্রুজার এবং টাইসরের মতো মডেলের ক্ষেত্রে সেখানে ২-৪ সপ্তাহের অপেক্ষা রয়েছে।
অন্যদিকে পুনে, জয়পুর এবং সুরাটে ইনোভা হাইক্রস, ভেলফায়ার ও ক্যামরির মতো মডেলের জন্য অপেক্ষার সময় ৬-৮ মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। টয়োটার নতুন এবেলা-র ক্ষেত্রে অবশ্য এখনও নির্ভরযোগ্য ওয়েটিং পিরিয়ড বা পর্যাপ্ত প্রাপ্যতার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সবশেষে মনে রাখা দরকার, গাড়ির ওয়েটিং পিরিয়ড ডিলার, ভ্যারিয়েন্ট, রং, বুকিংয়ের সময় এবং স্থানীয় স্টকের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বুকিং করার আগে সংশ্লিষ্ট টয়োটা ডিলারের কাছ থেকে সর্বশেষ ডেলিভারি টাইমলাইন নিশ্চিত করে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন