শাসক জোটের অংশীদার হয়েও কেন ইউরেনিয়ামে না মেঘালয়ের? - 24 Ghanta Bangla News
Home

শাসক জোটের অংশীদার হয়েও কেন ইউরেনিয়ামে না মেঘালয়ের?

Spread the love

মেঘালয়ের রাজনৈতিক অঙ্ক এখন নতুন মোড় নিয়েছে। (Meghalaya)সম্প্রতি রাজ্যের বিধানসভায় ইউরেনিয়াম উত্তোলন বিরোধী একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা নিজেই এই প্রস্তাব…

মেঘালয়ের রাজনৈতিক অঙ্ক এখন নতুন মোড় নিয়েছে। (Meghalaya)সম্প্রতি রাজ্যের বিধানসভায় ইউরেনিয়াম উত্তোলন বিরোধী একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা নিজেই এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ৬০ সদস্যের বিধানসভায় সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে বলেছেন, রাজ্যে কোনো ইউরেনিয়াম খনন বা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চলবে না।

স্থানীয় জনগোষ্ঠী, ছাত্র সংগঠন ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের প্রতিরোধের প্রতিফলন এই সিদ্ধান্ত। পশ্চিম খাসি হিলসের ডোমিয়াসিয়াট, ওয়াহকিন ও লোস্টইন এলাকায় দেশের সবচেয়ে বড় ও সমৃদ্ধ স্যান্ডস্টোন ধরনের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার রয়েছে। এই সম্পদ ভারতের পারমাণবিক শক্তি ও কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও দেখুনঃ লাদাখকে পূর্ন রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হবে না! কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের প্রতিবাদের হুমকি সোনমের

তবু রাজ্য সরকার ও জনগণ পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও জমির অধিকারের প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।(Meghalaya)এই প্রেক্ষাপটে বিজেপির অবস্থান নজর কাড়ছে। বর্তমানে মেঘালয়ের শাসক জোটের অংশীদার হলেও বিজেপির মাত্র দুইজন বিধায়ক রয়েছেন। রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা ইউডিপির ১২ জন বিধায়কের মধ্যে আটজন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Advertisements


   


   

সম্প্রতি প্রাক্তন ইউডিপি নেতা জেমিনো মাওথোহ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আটজন বিধায়কের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ সফল হলে বিজেপির সংখ্যা দাঁড়াবে দশে। তখন তারা বিধানসভায় দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়ে উঠবে। অ্যান্টি-ডিফেকশন আইনের আওতায় দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক একসঙ্গে গেলে এই পরিবর্তন সম্ভব। রাজনৈতিক মহলে বলা হচ্ছে, এই পদক্ষেপ কেন্দ্রের কিছু দাবি মেনে নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত।

খাসি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা সহ স্থানীয় কিছু ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলছে।এই পরিস্থিতিকে অনেকেই অমিত শাহের চার-মাত্রিক কৌশলের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। মেঘালয়ের রাজনীতিতে বিজেপির প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের দিকটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ইউরেনিয়াম ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল উপাদান।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত সক্ষমতা বাড়াতে এই সম্পদের গুরুত্ব অপরিসীম। (Meghalaya)ডোমিয়াসিয়াটের ভাণ্ডার দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ। কেন্দ্র সরকার বহুদিন ধরে এ বিষয়ে নজর রেখেছে। তবে স্থানীয় প্রতিরোধ ও পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে প্রকল্প এগোয়নি। বিধানসভার প্রস্তাব কেন্দ্রকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। একই সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বিজেপি যদি আরও শক্তিশালী হয়, তাহলে জোট সরকারে তাদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হবে।মেঘালয়ের রাজনীতি সবসময় জটিল। এনপিপির নেতৃত্বে জোট সরকার চলছে। ইউডিপি ও বিজেপি দুইই জোটের অংশ। এখন ইউডিপির বিধায়কদের একটি অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকলে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা ইতিমধ্যে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *