ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা ফাইনালে কে এগিয়ে, কখন ম্যাচ ও কোথায় দেখবেন? - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা ফাইনালে কে এগিয়ে, কখন ম্যাচ ও কোথায় দেখবেন?

Spread the love

মহিলা টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ ২০২৬-এর (Womens Asia Cup) ফাইনালে রবিবার মুখোমুখি ভারত ও শ্রীলঙ্কা। দু’দলই এখনও পর্যন্ত অপরাজিত। ফলে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের খেতাবি লড়াইয়ে দুই দলের শক্তির পাশাপাশি দেখা যাবে ঘূর্ণির লড়াইও। ভারতের ব্যাটিং গভীরতা ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার লড়াই করে ফিরে আসার ক্ষমতা কতটা কার্যকর হয়, সেটাই হতে পারে ম্যাচের অন্যতম বড় প্রশ্ন।

স্পিনেই হতে পারে ফাইনালের ভাগ্য

দুবাইয়ের পরিস্থিতি ঘূর্ণি বোলারদের জন্য সহায়ক হতে পারে। এবারের প্রতিযোগিতায় ভারতীয় স্পিনাররা এখনও পর্যন্ত ২৬টি উইকেট নিয়েছেন, যা সব দলের মধ্যে সর্বাধিক। শ্রীলঙ্কার স্পিনাররাও খুব বেশি পিছিয়ে নেই, তাঁদের ঝুলিতে রয়েছে ২৫টি উইকেট। ফলে ফাইনালে দুই দলের স্পিন আক্রমণই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। মাঝের ওভারগুলিতে রান আটকে রেখে নিয়মিত উইকেট তুলে নেওয়াই হতে পারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রধান রাস্তা।

ফেভারিট ভারত

টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে নজর কেড়েছে ভারত। স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি ভার্মার ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতে মাঝের ওভারগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন দীপ্তি শর্মা।

বিশেষ করে শেফালির ব্যাটিং প্রতিপক্ষের জন্য বড় মাথাব্যথা। চার ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ১৬৮ রান এবং স্ট্রাইক রেট ১৬৯.৬৯। এর মধ্যে রয়েছে দুটি ৬৪ রানের ইনিংস। শুরুতেই দ্রুত রান তুলে ভারতকে এগিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ফাইনালেও বড় ভূমিকা নিতে পারে।

Advertisements


   


   

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালেও শেফালি ৪০ বলে ৬৪ রান করেন। তাঁর ইনিংসের সৌজন্যে ভারত ১৪৯/৫ রান তোলে। এরপর দীপ্তি শর্মা তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ১০৯ রানে আটকে দেন। ভারতের পেস আক্রমণেও রয়েছে নন্দনী শর্মা। দীপ্তির সঙ্গে এন শ্রীচরণী ও প্রেমা রাওয়াতের স্পিন ভারতের বোলিংকে আরও বৈচিত্র্য দিয়েছে।

শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় চিন্তা ব্যাটিং

শ্রীলঙ্কা অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠলেও তাদের যাত্রাপথ একেবারেই সহজ ছিল না। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় তাদের স্কোর ছিল ৩৩/৪। সেখান থেকে হর্ষিতা সমরবিক্রমা ও কবিশা দিলহারি ৬৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। পরে নীলাক্ষিকা সিলভা ও কৌশিনী নুথ্যাঙ্গনা দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও শ্রীলঙ্কা ৪৪/৫ অবস্থায় ছিল। ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে আরও একবার ৪৫/৫ হয়ে গিয়েছিল তারা। বারবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা অবশ্যই তাদের বড় শক্তি। কিন্তু ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে প্রতিবারই এমন প্রত্যাবর্তনের সুযোগ নাও মিলতে পারে।

ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে হবে চামারিকে

শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু এখনও ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। চার ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৬৩ রান। তবে বল হাতে তিনি যথেষ্ট কার্যকর এবং প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের মধ্যে রয়েছেন।

ফাইনালে শ্রীলঙ্কার জন্য আতাপাত্তুর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ভারতের স্পিন আক্রমণের বিরুদ্ধে তিনি যদি শুরুতেই রান তুলতে পারেন, তাহলে শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডারের উপর চাপ কমবে। অন্যদিকে বল হাতে আতাপাত্তু যদি ভারতের টপ অর্ডারে দ্রুত আঘাত করতে পারেন, তাহলে ফেভারিটদের উপর চাপ তৈরি করা সম্ভব।

ভারতীয় স্পিন বনাম আতাপাত্তু

ফাইনালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বৈরথ হতে পারে আতাপাত্তুর ব্যাটিং বনাম ভারতের স্পিন আক্রমণ। দীপ্তি শর্মার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সঙ্গে শ্রীচরণী ও প্রেমা রাওয়াতের আক্রমণ শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের রান তোলার গতি কমিয়ে দিতে পারে। শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডারকে তাই শুরুতেই উইকেট হারানো থেকে বাঁচতে হবে। কারণ আবার যদি দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়ে যায়, তাহলে মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডারের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।

মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে ভারত, ইতিহাস শ্রীলঙ্কার

সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারতের আধিপত্য স্পষ্ট। শেষ ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে ৯টিতে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও দুই দলের পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। তবে শ্রীলঙ্কার আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ সেই একটি হার। কারণ সেটি এসেছিল এশিয়া কাপের ফাইনালে।

২০২৪ সালের মহিলা এশিয়া কাপের ফাইনালে দাম্বুলায় প্রথমে ব্যাট করে ভারত ১৬৬ রান করেছিল। সেই রান ৮ উইকেট হাতে রেখেই তাড়া করে প্রথমবার এশিয়া কাপের খেতাব জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা। অর্থাৎ বড় ম্যাচে ভারতকে হারানোর অভিজ্ঞতা শ্রীলঙ্কার রয়েছে। এবারও সেই স্মৃতি তাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিতে পারে।

আরও একটি এশিয়া কাপ ফাইনালে দুই পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বী

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এশিয়া কাপ হওয়ার পর টানা ষষ্ঠবার ফাইনালে উঠেছে ভারত। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং এবারের প্রতিযোগিতায় এখনও একটি ম্যাচও হারেনি। ভারতের হাতে রয়েছে ফর্ম, ভারসাম্য এবং শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ। শ্রীলঙ্কার শক্তি লড়াই করার মানসিকতা, অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে জয়ের স্মৃতি।

নজরে থাকবেন শেফালি ও আতাপাত্তু

শেফালি ভার্মা: চার ম্যাচে ১৬৮ রান এবং ১৬৯.৬৯ স্ট্রাইক রেট। শুরুতে শেফালি দ্রুত রান তুলতে পারলে শ্রীলঙ্কার উপর প্রথম থেকেই চাপ তৈরি হতে পারে। চামারি আতাপাত্তু: ব্যাট হাতে এখনও বড় ইনিংস আসেনি। কিন্তু তিনি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন এবং বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ফাইনালে তাঁর একটি বড় অলরাউন্ড পারফরম্যান্স শ্রীলঙ্কাকে খেতাব ধরে রাখার পথে এগিয়ে দিতে পারে।

ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা ফাইনাল, কবে ও কখন?

ম্যাচ: ভারত মহিলা বনাম শ্রীলঙ্কা মহিলা, ফাইনাল
তারিখ: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভেন্যু: দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, দুবাই
ভারতীয় সময়: রাত ৮টা
ইউএই সময়: সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট

ভারতে কোথায় দেখা যাবে?

ভারতে ম্যাচটি টেলিভিশনে দেখা যাবে সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কে। সরাসরি সম্প্রচার হবে সনিলিভ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে। পাকিস্তানে টেলিভিশন সম্প্রচার করবে পিটিভি নেটওয়ার্ক, আর শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ দেখা যাবে টিভি১-এ। বাংলাদেশে সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে ক্রিকবাজ এবং ইউএই ও মেনা অঞ্চলে স্টারজপ্লে ক্রিকেট ম্যাচটি সম্প্রচার করবে।

কাগজে-কলমে ভারতই ফাইনালের ফেভারিট। ব্যাটিংয়ে বেশি গভীরতা, সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ে আধিপত্য এবং শক্তিশালী স্পিন আক্রমণ তাদের এগিয়ে রাখছে।

কিন্তু শ্রীলঙ্কাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। একাধিক ম্যাচে বিপর্যয়ের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। তার উপর ২০২৪ সালের ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতিও রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।

ফাইনালের মূল প্রশ্ন তাই দুটি, শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার কি ভারতের স্পিন সামলাতে পারবে? আর চামারি আতাপাত্তু কি ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে পারবেন?

শেফালি যদি ফের ঝড়ো শুরু করেন, ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। আবার শ্রীলঙ্কা শুরুতেই ভারতীয় ব্যাটিংয়ে ধাক্কা দিতে পারলে ফাইনাল জমে উঠবে। ভারতের হাতে রয়েছে দুর্দান্ত ফর্ম, আর শ্রীলঙ্কার হাতে ইতিহাস। দুবাইয়ের ফাইনালই ঠিক করবে শেষ পর্যন্ত কোন শক্তি বেশি কার্যকর হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *