ভদ্রলোক যা ছিলেন, এবং ভদ্রলোক যা হইয়াছেন
পরিমল ঘোষ ভদ্রলোক শ্রেণির বিবর্তনের ধারাবিবরণী লেখেননি। তিনি একাধিক কোণ থেকে দেখতে চেয়েছেন বাঙালি ভদ্রলোক শ্রেণিকে। সেই সব কোণ, যা নিয়ে ভদ্রলোকদের মাতামাতি। যথা, গোয়েন্দা গল্প, ফুটবল এবং নাটক। বইটির দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের বিষয়, বাংলা সাহিত্যে ভদ্রলোক শ্রেণির প্রবল দাপট সত্ত্বেও তাদের ভণ্ডামির সমালোচনা, যা করছেন তথাকথিত ভদ্রলোকরাই। এই আত্মবীক্ষা এবং আত্মখণ্ডনের ইতিহাস রচনার অবলম্বন হিসেবে লেখক গ্রহণ করেছেন শিবরাম চক্রবর্তীর আত্মজীবনীর দু’টি খণ্ড— ‘ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা’ এবং ‘ভালোবাসা পৃথিবী ঈশ্বর’। তবে সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় তৃতীয় পরিচ্ছেদটি। ‘ভদ্রলোক’ বলতে সাধারণত হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণিকেই ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু বিশ শতকের গোড়া থেকে মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে যে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব হতে থাকে, হিন্দু ভদ্রলোক শ্রেণির সমান্তরালে, আত্মসমালোচনার পথ ধরে, যা কখনও প্রগতিশীল এবং কখনও রক্ষণশীল, সে ইতিহাস অনেকটাই অজ্ঞাত। উনিশ শতকের শেষে ‘দ্য মোসলেম ক্রনিকল’-এর প্রকাশ থেকে শুরু করে ১৯২৬ সালের বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন, যে অভিযাত্রা অনেক ক্ষেত্রেই ঢাকা-কেন্দ্রিক, সেই ইতিবৃত্ত আম পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়ে লেখক একটি প্রকট শূন্যস্থান পূর্ণ করলেন।