নিকাশি বেহাল, বেআইনি ভেড়ির মাশুল গুনছে মানুষ - 24 Ghanta Bangla News
Home

নিকাশি বেহাল, বেআইনি ভেড়ির মাশুল গুনছে মানুষ

Spread the love

দিগন্ত মান্না, পাঁশকুড়া

প্রলোভন আর ভয় দেখিয়ে চাষের জমিকে রাতারাতি ভেড়ি বানানোর অভিযোগ উঠেছিল ভেড়ি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। তৃণমূলের পনেরো বছরের রাজত্বে পূর্ব মেদিনীপুরে এ ভাবে ভেড়ি তৈরির কারবার জাঁকিয়ে বসেছিল। অভিযোগ, তৎকালীন শাসক দলের মদতেই ভেড়ি মাফিয়ারা একচেটিয়া জমি দখল করে ভেড়ি তৈরি করত। নিকাশি আটকে এ ভাবে ভেড়ি তৈরি হওয়ায় প্রতি বছর পাঁশকুড়া এবং কোলাঘাটের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্ষায় জলমগ্ন হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে ওই সব বেআইনি ভেড়ির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার আবেদন নিয়ে বার বার জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনও কাজই হয়নি। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরে ওই সব বেআইনি ভেড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সুষ্ঠু জল নিকাশির দাবি জানিয়েছেন চাষিরা।

জেলার মধ্যে ময়না সব থেকে নিচু ব্লক। বর্ষাকালে ময়নায় চাষবাস প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ২০১১য় তৃণমূলের সরকার এসে ময়নাকে মাছ চাষের মডেল ব্লক হিসাবে গড়ে তোলে। ময়নার প্রায় ৮০ শতাংশ নিচু জমিতে ভেড়ি তৈরি করে শুরু হয় মাছ চাষ। ময়না মডেলের সেই সাফল্যে জেলা জুড়ে ভেড়ি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বাড়ে। শুরু হয়ে যায় নিয়মের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র চাষের জমিকে ভেড়ি বানিয়ে ফেলা। ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাঁশকুড়া এবং কোলাঘাট জুড়ে এ ভাবেই তৈরি হয়েছে অসংখ্য ভেড়ি। কোলাঘাট ব্লকের ভোগপুর এবং দেড়িয়াচক এলাকায় এমন একাধিক ভেড়ি তৈরি হয়েছে। সাগরবাড়, বৃন্দাবনচক, পুলশিটা, কোলা-১, খন্যাডিহি প্রভৃতি পঞ্চায়েত এলাকায় আটকে গিয়েছে নিকাশি। পাঁশকুড়া ব্লকের খণ্ডখোলা, রাধাবল্লভচক, কেশাপাট ইত্যাদি এলাকাতেও রয়েছে বেআইনি ভেড়ি।

প্রশাসন সূত্রে খবর, পাঁশকুড়া এবং কোলাঘাট এলাকার ভেড়িগুলি খাতায় কলমে এখনও চাষের জমি। তৃণমূলের আমলে ভেড়ি এলাকার চাষের জমির মালিকদের জমির চরিত্র বদলের জন্য ভূমি দপ্তর উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু কোনও চাষিই সরকারের আবেদনে সাড়া দেননি।

চলতি বর্ষায় কোলাঘাট এবং পাঁশকুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। নষ্ট হয়ে গিয়েছে বিঘার পর বিঘা আমন চাষ। এই অবস্থায় তৃণমূলের সরকারকে দুষছেন স্থানীয় মানুষজন। তমলুক মহকুমা মাছের ঝিল বিরোধী কৃষক সংগ্রাম কমিটির মুখপাত্র নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন, ‘আগের সরকার বেআইনি ভেড়ির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ এই জলবন্দি দশা। যার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আমাদের দাবি, সব বেআইনি ভেড়ি উচ্ছেদ করে নিকাশি সচল করুক নতুন সরকার।’ জেলা সভাধিপতি বামদেব গুছাইত বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বেআইনি ভেড়ির মালিকদের সংশ্লিষ্ট ব্লক অফিসে ডেকেছি। নিকাশি বন্ধ করে যাঁরা ভেড়ি করেছেন তাঁদেরই নিকাশি সচল করে দিতে হবে। নতুবা আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *