‘কলকাতা এখন পেনশনভোগীদের শহর!’ বিস্ফোরক অর্থমন্ত্রী
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্যের এক গভীর সমস্যার কথা তুলে (Kolkata)ধরেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, কলকাতা এখন প্রায় ‘পেনশনভোগীদের শহর’ হয়ে উঠেছে। তরুণ ও দক্ষ…
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্যের এক গভীর সমস্যার কথা তুলে (Kolkata)ধরেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, কলকাতা এখন প্রায় ‘পেনশনভোগীদের শহর’ হয়ে উঠেছে। তরুণ ও দক্ষ মানুষেরা রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। স্বপন দাশগুপ্ত বলেছেন, প্রত্যেক বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিভাবান ছাত্ররা রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন এরা সবচেয়ে দক্ষ মানুষ। (Kolkata)তাঁরা বাংলায় জন্মেছেন, বেড়ে উঠেছেন, কিন্তু ভালো সুযোগের খোঁজে অন্যত্র চলে গেছেন। বেঙ্গালুরু, গুরুগ্রাম, নয়ডা কিংবা দেশ ছেড়ে বিদেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ফলে কলকাতার মতো শহরে তরুণ মুখ কম দেখা যায়। প্রচারে গিয়ে তিনি লক্ষ্য করেছেন, অনেক বাড়িতে শুধু বয়স্ক মানুষ থাকেন। সন্তানদের কথা জিজ্ঞাসা করলে উত্তর আসে তারা অন্য শহরে বা বিদেশে আছে।এই প্রস্থান শুধু সংখ্যার হিসাব নয়।
আরও দেখুনঃ বাংলার শিল্পে ২৫০০০ কোটি বিনিয়োগের সংকল্প সঞ্জীব গোয়েঙ্কার
এটি রাজ্যের দক্ষতা ঘাটতির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিল্প ও কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণরা বাইরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বাঙালিরা বিশ্বের নানা জায়গায় উঁচু পদে আছেন, কিন্তু নিজেদের রাজ্যে তাঁদের উপস্থিতি কম। এই বাস্তবতা অর্থমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এই পরিস্থিতি কীভাবে বদলানো যায়?পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে চ্যালেঞ্জের মুখে।
Advertisements
শিল্প স্থবিরতা, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং কর্মসংস্থানের অভাব তরুণদের বাইরে ঠেলে দিয়েছে।(Kolkata) ফলে শহরগুলোতে বয়স্ক জনসংখ্যার অনুপাত বেড়েছে। পেনশনভোগীদের সংখ্যা বাড়লে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ে। একইসঙ্গে উৎপাদনশীল জনশক্তি কমে যায়। অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য সেই সংকটকেই তুলে ধরেছে।
নতুন সরকার এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন শিল্পবান্ধব নীতি, দ্রুত অনুমোদন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে তরুণদের ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় সুযোগ তৈরি করতে হবে। শুধু কথা নয়, বাস্তব প্রকল্প ও বিনিয়োগ দরকার। অন্য রাজ্যগুলো যখন তরুণদের আকর্ষণ করছে, তখন পশ্চিমবঙ্গকেও সেই প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।
স্বপন দাশগুপ্তের এই বক্তব্য অনেকেরই মনোগ্রাহী হয়েছে। (Kolkata)রাজ্যের মন্ত্রী হয়েও তিনি যে সৎ স্বীকারোক্তি করেছেন তাও অনেকেই প্রশংসা করেছেন। রাজ্যের সমস্যা লুকিয়ে না রেখে খোলাখুলি বলা হয়েছে। অন্যরা মনে করেন, শুধু স্বীকারোক্তি যথেষ্ট নয়। কর্মসংস্থান ও শিল্পের পরিবেশ তৈরি না হলে তরুণরা ফিরবেন না।