ভারত-আফগান ম্যাচে ঐতিহাসিক মুহূর্ত, জন গণ মন-এর পর বন্দে মাতরম
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে প্রথমবারের মতো জাতীয় সঙ্গীত জন গণ মন-এর পর বাজানো হল ভারতের জাতীয় সঙ্গীত বন্দে মাতরম। রবিবার নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারত-আফগানিস্তানের (India Vs…
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে প্রথমবারের মতো জাতীয় সঙ্গীত জন গণ মন-এর পর বাজানো হল ভারতের জাতীয় সঙ্গীত বন্দে মাতরম। রবিবার নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারত-আফগানিস্তানের (India Vs Afghanistan) প্রথম টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ শুরুর আগে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ মেনেই ম্যাচ শুরুর আগে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়। চলতি সময়ে বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে যে বিশেষ কর্মসূচি চলছে, তারই অংশ হিসেবে এই প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে।
Read Englsih: Vande Mataram Played After National Anthem Before India-Afghanistan T20I in Historic First
প্রথমে জন গণ মন, তারপর বন্দে মাতরম
ম্যাচ শুরুর আগে প্রথমে বাজানো হয় ভারতের জাতীয় সঙ্গীত জন গণ মন। এরপর বাজানো হয় বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ ছয় স্তবকের সরকারি সংস্করণ। জাতীয় সঙ্গীতের পরিবেশনের সময় ছিল প্রায় ৫২ সেকেন্ড। এরপর সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম পরিবেশন করতে সময় লাগে প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। অর্থাৎ ম্যাচ শুরুর আগে দুই গান মিলিয়ে প্রায় ৪ মিনিট ২ সেকেন্ড সময় লাগে। এই প্রথম কোনও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে জাতীয় সঙ্গীতের পর বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ সংস্করণ পরিবেশিত হল।
Advertisements
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে বিশেষ প্রোটোকল
বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কীভাবে জাতীয় সঙ্গীতটি পরিবেশন করা হবে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গত ৬ ফেব্রুয়ারি নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেই নির্দেশিকায় বন্দে মাতরমের সরকারি সংস্করণের সময়সীমা ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড নির্ধারণ করা হয়। গান চলাকালীন উপস্থিত প্রত্যেককে সতর্ক অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকার কথাও বলা হয়েছিল। কিছু নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ ছয় স্তবক পরিবেশনের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের উপস্থিতিতে সরকারি অনুষ্ঠান, রেডিও বা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে বা পরে আয়োজিত অনুষ্ঠান এবং জাতীয় পতাকা প্যারেডে আনার মতো বিশেষ আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান।
অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে কেন বিশেষ এই মুহূর্ত?
অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম বাজানোর বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে এইভাবে জাতীয় সঙ্গীতের ব্যবহার আগে দেখা যায়নি। ভারতীয় ক্রিকেট ম্যাচে সাধারণত ম্যাচ শুরুর আগে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। কিন্তু এবার ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের পর জাতীয় সঙ্গীতের সম্পূর্ণ সংস্করণ পরিবেশন হওয়ায় ম্যাচ শুরুর আগের অনুষ্ঠানটি আলাদা মাত্রা পেয়েছে।
বন্দে মাতরমের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বন্দে মাতরম রচনা করেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসেও এই গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৩৭ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবককে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করেছিল। ১৯৫০ সাল থেকে ভারতের গণপরিষদ বন্দে মাতরমকে দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এই গান জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচেও কি দেখা যাবে একই প্রোটোকল?
অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের এই আয়োজনের পর এখন প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচেও কি একই ধরনের প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে? আগামী দিনে একাধিক আইসিসি ইভেন্ট রয়েছে। ফলে ভারতীয় দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে নামার আগে জন গণ মন এবং বন্দে মাতরম, দুটিই পরিবেশন করা হবে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
অবশ্য অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে যা হয়েছে, সেটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা ও ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চলা বিশেষ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে হয়েছে। ভবিষ্যতের প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে একই নিয়ম কার্যকর হবে কি না, তা পরবর্তী নির্দেশনা ও আয়োজকদের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
ভারত-আফগানিস্তান টি-২০ ম্যাচ শুরুর আগের এই মুহূর্ত ক্রিকেটের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে প্রথমবারের মতো জন গণ মন-এর পর বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ সংস্করণ পরিবেশন হওয়া নিঃসন্দেহে ম্যাচ শুরুর আগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হয়ে থাকল।