কাশ্মীরি আখরোট থেকে গালৌটি কাবাব, ব্রিকসের খাবারের মেনুতে থাকছে কী কী আয়োজন?

১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বসছে ১৮তম BRICS সামিট। ভারত মণ্ডপমে কূটনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি বিশ্বের তাবড় নেতাদের আতিথেয়তায় দিল্লির অভিজাত হোটেলগুলিতেও চলছে বিশেষ প্রস্তুতি।

তবে এই খাবারের মেনুতে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক খাবার। কাশ্মীরের আখরোট, রাজস্থানের মিনি কচুরি, ইলিশ ভাঁপা, পায়েস—বিভিন্ন আঞ্চলিক স্বাদের খাবার এখানে রয়েছে।

লীলা প্যালেস, তাজমহল এবং ললিত— মূলত এই তিনটি সাত তারা হোটেলে থাকবেন রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশিষ্ট অতিথিরা। বিদেশি অতিথিদের রসনা তৃপ্তির জন্য লুটিয়েন্স দিল্লির এই হোটেলগুলিতে থাকছে বিশেষ সব পদ। সূত্রের খবর, গোবিন্দ ভোগ চালের পায়েস, বর্ধমান স্টাইলের মিহিদানা, রসগোল্লা, মাখা সন্দেশ, মোচার ঘন্ট, তাজা নিমকি-সহ আরও অনেক পদ থাকছে মেনুতে।

নয়াদিল্লির বিখ্যাত হোটেল দ্য লীলা প্যালেসে এরকমই আঞ্চলিক স্বাদের বিভিন্ন পদ রাখা হয়েছে ব্রিকসে আগত বিদেশি অতিথিদের জন্য। তবে সবচেয়ে আকর্ষণের হলো রঙিন এডিবল লোটাস। ভারতের জাতীয় ফুল পদ্মের আকৃতিতে তৈরি হয়েছে এটি। যা গোলাপ, জাফরান, এলাচ এবং বিভিন্ন ফলের মিশেলে তৈরি।

এ ছাড়াও অতিথিদের জন্য থাকছে মিলেট কুকিজ়, হাতে তৈরি গ্র্যানোলা বার এবং ওয়েলনেস ইনফিউশন। অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।

আবার তাজ মহল হোটেলের মেনুর বিশেষ আকর্ষণ হলো ‘ট্র্যাডিশন টু টেবল’। শেফদের মায়েদের রান্নার বিভিন্ন রেসিপি থেকেই তৈরি হয়েছে এই আয়োজন।

এ ছাড়াও ছয় রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী খাবারও থাকছে মেনুতে। তালিকায় রয়েছে—কাশ্মীরের মশলাদার আখরোট, পুরোনো দিল্লির ময়দা কাজু, মহারাষ্ট্রের ভাকারওয়াড়ি, রাজস্থানের মিনি কচুরি, বাংলার কুচো নিমকি, তামিলনাড়ুর মুরুক্কু।

বাদ যায়নি রকমারি কাবাবও ও বিরিয়ানিও । দ্য ললিতের মেনুতে থাকছে গালৌটি কাবাব, তন্দুরে বেক করা রুটি এবং নানা ধরনের ভারতীয় পদ।

তবে এ বারের ব্রিকস সামিটে মিলেট, বাজরা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর খাবারও রাখা হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের স্বাদও থাকছে এই মেনুতে। ডেকান তড়কা থেকে দক্ষিণী স্টাইল ফ্রায়েড ইডলি থাকবে লুটিয়েন্স দিল্লির সাততারা হোটেলদুলির মেনু লিস্টে।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বাদের পদ হিসেবে থাকছে মিসো পেস্ট দিয়ে তৈরি বেগুনের সুস্বাদু খাবার, চাইনিজ় ক্যাবেজ দিয়ে তৈরি পদ-সহ আরও অনেক ধরবনের খাবার।

শেফদের মতে, বিদেশি অতিথিদের কথা মাথায় রেখে খাবারে ঝাল কম ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতীয় মশলা, দেশীয় সবজি ও স্থানীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি এই মেনুর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বাদকে।